ঢাকা ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি নরসিংদী থেকে র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩২:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • / ৪৯ Time View
Print

প্রতিবেদক: জাহাঙ্গীর আলম সুমন
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামিকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।
১. র‍্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরনের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণ ও রাহাজানির মতো মারাত্মক সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সংস্থাটি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে। এছাড়া নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে র‍্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
২. ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে দায়েরকৃত ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মো. রনিকে (২২) নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গতকাল ১৫ জুলাই বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৩. মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী ও অভিযুক্ত একই গ্রামের বাসিন্দা। ২০২৫ সালের ২ মে সকালে ভুক্তভোগী তার একটি হারিয়ে যাওয়া ছাগল খুঁজতে অভিযুক্তের বাড়িতে গেলে, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত তাকে জোরপূর্বক একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন এবং ভুক্তভোগীকে তার নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
৪. ঘটনার কিছুদিন পর ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী বিয়ের দাবি জানালে অভিযুক্ত ও তার পরিবার বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বিয়ের দাবিতে ভুক্তভোগী অভিযুক্তের বাড়িতে গেলে তাকে মারধর করা হয়। মারধরের একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্তের পিতা আব্দুর রহিম ভুক্তভোগীর বুকের ওপর চেপে বসে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে প্রসববেদনা শুরু হলে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। সন্তান জন্মের পরেও অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে আপস-মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে।
৫. এই ঘটনায় গত ৬ মে ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল থানায় একটি ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০৬)। মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান।
৬. মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে র‍্যাব-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায়, ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখ বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে সিপিসি-১, র‍্যাব-১৩, দিনাজপুর ক্যাম্প এবং সিপিএসসি, র‍্যাব-১১, নরসিংদী ক্যাম্পের একটি যৌথ আভিযানিক দল ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল থানার ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি মো. রনিকে (২২), পিতা: মো. আব্দুর রহিম, সাং- করনাইট কুমরগঞ্জ, থানা- রাণীশংকৈল, জেলা- ঠাকুরগাঁওকে নরসিংদী জেলার শিবপুর থানাধীন শহীদ মিনার, শাষপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
৭. গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া এই মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং সমাজ থেকে হত্যা, অপহরণ ও ধর্ষণের মতো মারাত্মক অপরাধ দমনে র‍্যাবের এই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

ঠাকুরগাঁওয়ে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি নরসিংদী থেকে র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

Update Time : ০১:৩২:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
Print

প্রতিবেদক: জাহাঙ্গীর আলম সুমন
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামিকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।
১. র‍্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরনের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণ ও রাহাজানির মতো মারাত্মক সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সংস্থাটি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে। এছাড়া নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে র‍্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
২. ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে দায়েরকৃত ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মো. রনিকে (২২) নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গতকাল ১৫ জুলাই বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৩. মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী ও অভিযুক্ত একই গ্রামের বাসিন্দা। ২০২৫ সালের ২ মে সকালে ভুক্তভোগী তার একটি হারিয়ে যাওয়া ছাগল খুঁজতে অভিযুক্তের বাড়িতে গেলে, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত তাকে জোরপূর্বক একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন এবং ভুক্তভোগীকে তার নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
৪. ঘটনার কিছুদিন পর ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী বিয়ের দাবি জানালে অভিযুক্ত ও তার পরিবার বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বিয়ের দাবিতে ভুক্তভোগী অভিযুক্তের বাড়িতে গেলে তাকে মারধর করা হয়। মারধরের একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্তের পিতা আব্দুর রহিম ভুক্তভোগীর বুকের ওপর চেপে বসে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে প্রসববেদনা শুরু হলে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। সন্তান জন্মের পরেও অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে আপস-মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে।
৫. এই ঘটনায় গত ৬ মে ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল থানায় একটি ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০৬)। মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান।
৬. মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে র‍্যাব-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায়, ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখ বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে সিপিসি-১, র‍্যাব-১৩, দিনাজপুর ক্যাম্প এবং সিপিএসসি, র‍্যাব-১১, নরসিংদী ক্যাম্পের একটি যৌথ আভিযানিক দল ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল থানার ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি মো. রনিকে (২২), পিতা: মো. আব্দুর রহিম, সাং- করনাইট কুমরগঞ্জ, থানা- রাণীশংকৈল, জেলা- ঠাকুরগাঁওকে নরসিংদী জেলার শিবপুর থানাধীন শহীদ মিনার, শাষপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
৭. গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া এই মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং সমাজ থেকে হত্যা, অপহরণ ও ধর্ষণের মতো মারাত্মক অপরাধ দমনে র‍্যাবের এই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।