ঢাকা ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুটিয়া গ্রামে ৩২ দলের অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা উৎসবমুখর পরিবেশে হাজারো দর্শকের উপস্থিতি

Reporter Name
  • Update Time : ০৩:২০:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১০ Time View
Print

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি:চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সুটিয়া বাজার এলাকায় জমজমাট আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ খেলায় বিভিন্ন এলাকার ৩২টি লাঠিয়াল দল অংশ নেয়। ঐতিহ্যবাহী এ খেলাকে ঘিরে সকাল থেকেই সুটিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খেলা দেখতে সুটিয়া বাজার মাঠ ও আশপাশের এলাকায় ভিড় জমাতে শুরু করেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে খেলাটি উপভোগ করতে সেখানে উপস্থিত হন। লাঠিয়ালদের কসরত, লাঠির ছন্দময় চাল ও প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর নানা কৌশল দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

খেলায় অংশ নেওয়া লাঠিয়ালরা দলবদ্ধভাবে মাঠে নেমে নিজেদের দক্ষতা ও শারীরিক কসরত প্রদর্শন করেন। লাঠির তালে তালে বিভিন্ন কৌশল প্রদর্শনের সময় দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাংলার লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত এই লাঠি খেলা নতুন প্রজন্মের কাছেও ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ময়েন উদ্দিন ময়েন, জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ, ওসি (তদন্ত) আতিয়ার রহমান এবং বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মুন্সি। এছাড়া সুটিয়া গ্রামের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও আয়োজক কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অতিথিরা বলেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিকতার প্রভাবে হারিয়ে যেতে বসা এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন নিয়মিতভাবে করা হলে নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্য তুলে ধরা সম্ভব হবে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে লাঠি খেলার পরিচিতি তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও আরও বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

খেলাকে কেন্দ্র করে সুটিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় দিনব্যাপী উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও ব্যাপক উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। ৩২টি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ লাঠি খেলা স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

সুটিয়া গ্রামে ৩২ দলের অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা উৎসবমুখর পরিবেশে হাজারো দর্শকের উপস্থিতি

Update Time : ০৩:২০:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
Print

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি:চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সুটিয়া বাজার এলাকায় জমজমাট আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ খেলায় বিভিন্ন এলাকার ৩২টি লাঠিয়াল দল অংশ নেয়। ঐতিহ্যবাহী এ খেলাকে ঘিরে সকাল থেকেই সুটিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খেলা দেখতে সুটিয়া বাজার মাঠ ও আশপাশের এলাকায় ভিড় জমাতে শুরু করেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে খেলাটি উপভোগ করতে সেখানে উপস্থিত হন। লাঠিয়ালদের কসরত, লাঠির ছন্দময় চাল ও প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর নানা কৌশল দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

খেলায় অংশ নেওয়া লাঠিয়ালরা দলবদ্ধভাবে মাঠে নেমে নিজেদের দক্ষতা ও শারীরিক কসরত প্রদর্শন করেন। লাঠির তালে তালে বিভিন্ন কৌশল প্রদর্শনের সময় দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাংলার লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত এই লাঠি খেলা নতুন প্রজন্মের কাছেও ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ময়েন উদ্দিন ময়েন, জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ, ওসি (তদন্ত) আতিয়ার রহমান এবং বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মুন্সি। এছাড়া সুটিয়া গ্রামের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও আয়োজক কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অতিথিরা বলেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিকতার প্রভাবে হারিয়ে যেতে বসা এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন নিয়মিতভাবে করা হলে নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্য তুলে ধরা সম্ভব হবে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে লাঠি খেলার পরিচিতি তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও আরও বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

খেলাকে কেন্দ্র করে সুটিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় দিনব্যাপী উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও ব্যাপক উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। ৩২টি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ লাঠি খেলা স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।