সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় আইআইইউসির শিক্ষার্থী নিহত। নিজস্ব প্রতিবেদক
- Update Time : ০৪:৩৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৩ Time View

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শিক্ষার্থী। সহপাঠীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উভয় লেন ও রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার সোনাইছড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শিক্ষার্থীরা সড়ক ও রেললাইন অবরোধ করেন।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুসফিয়াত। তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী এবং মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বড়তাকিয়া এলাকার সাখাওয়াত হোসেনের মেয়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে মাইশা ও তাঁর কয়েকজন সহপাঠী বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটসংলগ্ন মহাসড়কের পাশে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একটি লোকাল বাস সেখানে এসে থামে। পরে বাসটির পেছনে থাকা একটি লরি মাইক্রোবাসকে পাশ কাটাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটির ওপর পড়ে। এতে সড়কের পাশে থাকা তিন শিক্ষার্থী চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় হাইওয়ে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাইশা মুসফিয়াতের মৃত্যু হয়। আহত অপর দুই শিক্ষার্থী বর্তমানে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় মাইশাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান জানান, মাইশাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে এসে বাস থেকে নামার পরপরই এ দুর্ঘটনার শিকার হন। সহপাঠীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে মহাসড়কে ব্যারিকেড দেন। একপর্যায়ে তাঁরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উভয় লেন ও রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে থানা ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে দুর্ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শফিউল আলম জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে একজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত লরি ও বাসটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।




















