ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্যামনগরে আদিবাসী মুন্ডাদের ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব অনুষ্ঠিত

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২০ Time View
Print

মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ
“আদিবাসী জীবন ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সুরক্ষায় এগিয়ে আসুন” শ্লোগানকে সামনে রেখে
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আদিবাসী মুন্ডাদের ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার দাতিনাখালী মুড়াপাড়ায় পাঁচ দিনব্যাপী উক্ত উৎসবের সমাপনী কার্যক্রম শুরু হয়। সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থা (সামস্) এর সভাপতি গোপাল চন্দ্র মুন্ডার সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক।সামস্ পরিচালক কৃষ্ণপদ মুন্ডার সঞ্চালনায় ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ফাদার লুইজি পাদজি, মুন্ডা সম্প্রদায়ের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি বিষয়ক গবেষক আরিফুর রহমান, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল মনির প্রমুখ । এর আগে আয়োজক কমিটির পক্ষে আনন্দিনি মুন্ডা কারাম উৎসবকে ঘিরে পূজা স্থানসহ স্থায়ী মন্দির ছাড়াও নিজেদের নানান সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয় প্রথাগত সংস্কৃতির অংশ হিসেবে মুন্ডা সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে কারাম উৎসব পালন করে থাকেন।
ন্যুনতম তিন থেকে সাতদিন ধরে এই উৎসব পালিত হয়। উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানের শুরুতে দেখা যায় সব প্রস্তুতির পর ঈশ্বরের নামে মুরগির সামনে চাল দেয়া হয়, যা ঐ মুরগি গ্রহণ করার উপর মুন্ডারা নিজেদের ভাগ্য সম্পর্কে পূর্ব ধারণা লাভ করে। মুরগি চাল খাইলে সে বছর ফসলের ভালো ফলন হয় বলে তাদের বিশ্বাস।মুন্ডা সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে কারাম গাছকে কেন্দ্র করে সুদীর্ঘ কাল ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মত শ্যামনগরের মুন্ডারা কারাম উৎসব পালন করে থাকেন। তবে প্রলয়ঙ্কারী জলোচ্ছ্বাস আইলার আঘাতের পর থেকে প্রায় দেড় যুগ ধরে শ্যামনগরে কারাম উৎসব পালিত হয় নি। অবশেষে পুনরায় নিজেদের ঐতিহ্যের ধারক কারাম উৎসবের সুযোগ হওয়ায় তারা নিজেদের সৌভাগ্যবান বলে দাবি করেন।সমাপনী দিনের কারাম উৎসবের অগ্রভাগে পাহান বা পুজারী বাবু নারায়ণ চন্দ্র মুন্ডা দেবতা কারামের উদ্দেশ্যে একটি মুরগি উৎসর্গ করেন। পরবর্তীতে কারাম গাছ কাটার পর ঐতিহ্যগত জ্ঞান বিনিময়ের অংশ হিসেবে গল্প, গানসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মঞ্চস্থ করা হয়। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয় রীতি অনুযায়ী চারজন কুমারী মেয়ে ও দু’জন নারী পূজার সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।
উল্লেখ্য প্রায় আড়াইশ বছর আগে রাচি থেকে মুন্ডা সম্প্রদায়ের আগমন ঘটে এই জনপদে। চর্চা না থাকায় মুন্ডা সম্প্রদায়ের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার পথে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

শ্যামনগরে আদিবাসী মুন্ডাদের ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব অনুষ্ঠিত

Update Time : ০৭:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Print

মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ
“আদিবাসী জীবন ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সুরক্ষায় এগিয়ে আসুন” শ্লোগানকে সামনে রেখে
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আদিবাসী মুন্ডাদের ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার দাতিনাখালী মুড়াপাড়ায় পাঁচ দিনব্যাপী উক্ত উৎসবের সমাপনী কার্যক্রম শুরু হয়। সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থা (সামস্) এর সভাপতি গোপাল চন্দ্র মুন্ডার সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক।সামস্ পরিচালক কৃষ্ণপদ মুন্ডার সঞ্চালনায় ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ফাদার লুইজি পাদজি, মুন্ডা সম্প্রদায়ের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি বিষয়ক গবেষক আরিফুর রহমান, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল মনির প্রমুখ । এর আগে আয়োজক কমিটির পক্ষে আনন্দিনি মুন্ডা কারাম উৎসবকে ঘিরে পূজা স্থানসহ স্থায়ী মন্দির ছাড়াও নিজেদের নানান সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয় প্রথাগত সংস্কৃতির অংশ হিসেবে মুন্ডা সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে কারাম উৎসব পালন করে থাকেন।
ন্যুনতম তিন থেকে সাতদিন ধরে এই উৎসব পালিত হয়। উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানের শুরুতে দেখা যায় সব প্রস্তুতির পর ঈশ্বরের নামে মুরগির সামনে চাল দেয়া হয়, যা ঐ মুরগি গ্রহণ করার উপর মুন্ডারা নিজেদের ভাগ্য সম্পর্কে পূর্ব ধারণা লাভ করে। মুরগি চাল খাইলে সে বছর ফসলের ভালো ফলন হয় বলে তাদের বিশ্বাস।মুন্ডা সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে কারাম গাছকে কেন্দ্র করে সুদীর্ঘ কাল ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মত শ্যামনগরের মুন্ডারা কারাম উৎসব পালন করে থাকেন। তবে প্রলয়ঙ্কারী জলোচ্ছ্বাস আইলার আঘাতের পর থেকে প্রায় দেড় যুগ ধরে শ্যামনগরে কারাম উৎসব পালিত হয় নি। অবশেষে পুনরায় নিজেদের ঐতিহ্যের ধারক কারাম উৎসবের সুযোগ হওয়ায় তারা নিজেদের সৌভাগ্যবান বলে দাবি করেন।সমাপনী দিনের কারাম উৎসবের অগ্রভাগে পাহান বা পুজারী বাবু নারায়ণ চন্দ্র মুন্ডা দেবতা কারামের উদ্দেশ্যে একটি মুরগি উৎসর্গ করেন। পরবর্তীতে কারাম গাছ কাটার পর ঐতিহ্যগত জ্ঞান বিনিময়ের অংশ হিসেবে গল্প, গানসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মঞ্চস্থ করা হয়। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয় রীতি অনুযায়ী চারজন কুমারী মেয়ে ও দু’জন নারী পূজার সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।
উল্লেখ্য প্রায় আড়াইশ বছর আগে রাচি থেকে মুন্ডা সম্প্রদায়ের আগমন ঘটে এই জনপদে। চর্চা না থাকায় মুন্ডা সম্প্রদায়ের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার পথে।