রাণীশংকৈলে ফ্যামিলি কার্ডে তথ্য সংগ্রহকারীকে তথ্য প্রদানে জনগণের ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ
- Update Time : ০৭:৪৩:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ১১ Time View

একে আজাদ.ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:বাড়ীতে কেউ আছেন? বাইরে থেকে এমন হাক শুনে ভেতর থেকে এক নারী প্রশ্ন করলেন, কে আপনি? জবাব এলো, ফ্যামিলি কার্ড শুমারি গণনাকারী (তথ্য সংগ্রহকারী)।
রাণীশংকৈলে ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহে মানুষের ব্যাপক সাড়া
খবর পেয়েই দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন বাড়ির গৃহিণীসহ তার স্বামী। পরম আগ্রহে তথ্য সংগ্রহকারীকে ঘরের ভেতরে বসতে দিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানালেন তিনি। ঠিক এভাবেই আন্তরিকতার সঙ্গে তথ্য সংগ্রহকারীদের সম্মান জানিয়ে গ্রামগঞ্জের নারীরা দিচ্ছেন নিজেদের সঠিক বিবরণী।
তথ্য সংগ্রহকারীকে তথ্য দিয়ে গৃহিনী ইয়াসমিন জানালেন, তিনি অনেকদিন ধরেই শুনছেন বাসায় এসে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য নিবে,অনেক আগ্রহে ছিলেন তিনি। আজ তথ্য দিয়ে তার সে আশা পূর্ণ হলো। ওই গৃহিনী বললেন, তিনি অভাবী মানুষ, অব্যশই তিনি ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন বলে প্রত্যাশা করছেন।
তথ্যসংগ্রহকারী নাজমুল হোসেন জানালেন, তথ্য সংগ্রহ করতে এসে মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তারা তথ্যদিতে প্রচুর আগ্রহ দেখাচ্ছে।
তথ্যসংগ্রহকারী নাজমুল হোসেন আরও জানালেন, মানুষজন তাদের উপস্থিতির কথা জানলে তাদের ঘিরে ধরছে। নিজেরাই তাদের সব তথ্য দ্রুত দিয়ে বেশ সহযোগিতা করছে।
সারাদেশের ন্যায় ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে গতকাল বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এই ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহ শুমারি। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ও নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই গণনার কাজ শুরু করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহকারীগণ প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্য সংখ্যা, পেশা, আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংগ্রহ করছেন। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে তৈরি করা ফ্যামিলি কার্ডের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সরকারের নানা সুবিধা ও ভাতা সহজে বিতরণ করা সম্ভব হবে।
উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বৃহস্পতিবার জানালেন, রাণীশংকৈল উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বুধবার শুরু হয়েছে তথ্য সংগ্রহ কর্মসুচি। শুরুতেই উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকতা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে মোট ১৪ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও একজন সুপার ভাইজার কাজ করছেন। সমাজ সেবা কর্মকর্তা জানালেন,পর্যায়ক্রমে নেকমরদ ও রাতোর ইউনিয়নেও দ্রুত কাজ শুরু হবে। চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ ট্যাব না পাওয়া যাওয়ায় একটু ধীরগতিতে কাজ হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান জানালেন, এই শুমারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কার্যক্রম। এর মাধ্যমে প্রকৃত অভাবী ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোকে সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। তথ্য সংগ্রহের সময় যাতে কোনো ভুল বা স্বজনপ্রীতি না হয়,সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হবে।
তিনি আরও জানান, কোনো যোগ্য পরিবার যেন এই তথ্য সংগ্রহ শুমারি থেকে বাদ না পড়ে, সে ব্যাপারে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শুমারি চলাকালীন তথ্য সংগ্রাহকদের সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এই শুমারি কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং যুবসমাজকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।


























