ঢাকা ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাউজানে রহস্যজনক মৃত্যু জানাজায়-দাফনের আগে মাথায় রক্তাক্ত চিহ্ন দেখে এলাকাবাসীর বাঁধা প্রদান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠালো পুলিশ

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৫৭:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • / ৬ Time View
Print

★সুপণ বিশ্বাস (স্টাফ রিপোর্টার,চট্টগ্রাম)

রাউজান উপজেলার ১০ নং পূর্ব গুজরা ইউপির ৪ নং ওয়ার্ডের মধ্যম আধারমানিক গ্রামের ননা হাজী তালুকদার বাড়িতে সিরাজদৌলা প্রকাশ দুলাল (৬৬)
নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। জানাজার আগ মুর্হুতে ওই ব্যক্তির মাথায় রক্তাক্ত চিহ্ন দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা দাফন ও জানাজায় বাধা দিলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে
পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
মৃত দুলাল প্রয়াত আব্দুস সাত্তারের ছেলে। গত ৭
জুন রবিবার সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর মোহাম্মদপুর এলাকায় বাসায় মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পরে বিকেল ৫ টায় জানাজা ও
দাফনের উদ্যেশ্যে বিকেল সোয়া ৪ টার দিকে মরদেহ এ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়ি ননা হাজী তালুকদার বাড়িতে নিয়ে আসেন স্বজনরা। তবে মরদেহ বাড়িতে আনার পর জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ মুহুর্তে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা দুলালের মাথায় রক্তাক্ত চিহ্ন দেখতে পান। এ ঘটনায়
তাদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হলে দাফন ও জানাজার প্রস্তুতি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি প্রতিবেশী ও উপস্থিত লোকজন থানা পুলিশকে জানান।
এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুলাল প্রায় ২০ বছর আগে দ্বিতীয় সংসার শুরু
করেন। প্রথম সংসারে তার এক প্রতিবন্ধী ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে, যাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন যোগাযোগ ছিল না। দ্বিতীয় সংসারে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর জন্য নিয়েছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় পূর্ব গুজরা ফাঁড়ি (তদন্ত কেন্দ্রের) উপ পরিদর্শক মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন ‘এলাকার মানুষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা ঘটনাস্থলে এসে লাশের মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই। পরে রাত ৮ টার সময় মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।’ স্থানীয় নুরুল আবছার বলেন ‘দুলালের মরদেহ জানাজা
নামাজের আধাঘন্টা আগে বাড়িতে নিয়ে আসে শহর থেকে।এরপর প্রতিবেশীরা তার মৃতদেহ দেখতে চাইলে পরিবারের লোকজন বাঁধা দেয়। পরে দেখা যায় দুলালের মাথায় দাগ ও রক্তাক্ত চিহ্ন রয়েছে। এরপর আমরা জানাজা নামাজ না পড়ে থানা পুলিশকে খবর দিই। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।’নিহতের বর্তমান স্ত্রী জাহেদা বেগম বলেন ‘আমার স্বামীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এলাকার মানুষ বিষয়টিকে শত্রুতাবসত ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্ঠা করছেন।’
এদিকে স্থানীয় কয়েকটি সূত্র জানা যায়, মারা যাওয়া দুলালের মাথায় কোপের দাগ রয়েছে।
তিনি চট্টগ্রাম শহরের মোহাম্মদপুর এলাকায় স্বজনদের বাসায় থাকতেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

রাউজানে রহস্যজনক মৃত্যু জানাজায়-দাফনের আগে মাথায় রক্তাক্ত চিহ্ন দেখে এলাকাবাসীর বাঁধা প্রদান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠালো পুলিশ

Update Time : ০৮:৫৭:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
Print

★সুপণ বিশ্বাস (স্টাফ রিপোর্টার,চট্টগ্রাম)

রাউজান উপজেলার ১০ নং পূর্ব গুজরা ইউপির ৪ নং ওয়ার্ডের মধ্যম আধারমানিক গ্রামের ননা হাজী তালুকদার বাড়িতে সিরাজদৌলা প্রকাশ দুলাল (৬৬)
নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। জানাজার আগ মুর্হুতে ওই ব্যক্তির মাথায় রক্তাক্ত চিহ্ন দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা দাফন ও জানাজায় বাধা দিলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে
পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
মৃত দুলাল প্রয়াত আব্দুস সাত্তারের ছেলে। গত ৭
জুন রবিবার সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর মোহাম্মদপুর এলাকায় বাসায় মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পরে বিকেল ৫ টায় জানাজা ও
দাফনের উদ্যেশ্যে বিকেল সোয়া ৪ টার দিকে মরদেহ এ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়ি ননা হাজী তালুকদার বাড়িতে নিয়ে আসেন স্বজনরা। তবে মরদেহ বাড়িতে আনার পর জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ মুহুর্তে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা দুলালের মাথায় রক্তাক্ত চিহ্ন দেখতে পান। এ ঘটনায়
তাদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হলে দাফন ও জানাজার প্রস্তুতি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি প্রতিবেশী ও উপস্থিত লোকজন থানা পুলিশকে জানান।
এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুলাল প্রায় ২০ বছর আগে দ্বিতীয় সংসার শুরু
করেন। প্রথম সংসারে তার এক প্রতিবন্ধী ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে, যাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন যোগাযোগ ছিল না। দ্বিতীয় সংসারে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর জন্য নিয়েছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় পূর্ব গুজরা ফাঁড়ি (তদন্ত কেন্দ্রের) উপ পরিদর্শক মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন ‘এলাকার মানুষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা ঘটনাস্থলে এসে লাশের মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই। পরে রাত ৮ টার সময় মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।’ স্থানীয় নুরুল আবছার বলেন ‘দুলালের মরদেহ জানাজা
নামাজের আধাঘন্টা আগে বাড়িতে নিয়ে আসে শহর থেকে।এরপর প্রতিবেশীরা তার মৃতদেহ দেখতে চাইলে পরিবারের লোকজন বাঁধা দেয়। পরে দেখা যায় দুলালের মাথায় দাগ ও রক্তাক্ত চিহ্ন রয়েছে। এরপর আমরা জানাজা নামাজ না পড়ে থানা পুলিশকে খবর দিই। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।’নিহতের বর্তমান স্ত্রী জাহেদা বেগম বলেন ‘আমার স্বামীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এলাকার মানুষ বিষয়টিকে শত্রুতাবসত ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্ঠা করছেন।’
এদিকে স্থানীয় কয়েকটি সূত্র জানা যায়, মারা যাওয়া দুলালের মাথায় কোপের দাগ রয়েছে।
তিনি চট্টগ্রাম শহরের মোহাম্মদপুর এলাকায় স্বজনদের বাসায় থাকতেন।