ঢাকা ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোমরায় স্বামী কর্তৃক ৪মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী কে গলা কেটে হত্যা করে পলাতক

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৮:৩৫:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • / ২৬ Time View
Print

জি এম আব্বাস উদ্দিন,সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি;-সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা ইউনিয়নের লক্ষ্মী দাড়ি গ্রামে তাসলিমা খাতুন (৩৬) নামে এক চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। নিহত তাসলিমা খাতুন দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের বহেরা গ্রামের নুরুজ্জামান ঢালীর কন্যা। ঘাতক স্বামী ভোমরা ইউনিয়নের লক্ষীদাড়ি গ্রামের লোকমান হোসেন এর ছেলে সাদ্দাম হোসেন( ৪০)। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী ঘাতক সাদ্দাম হোসেন পলাতক রয়েছেন। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের লক্ষীদাড়ি গ্রামে। নিহতের পরিবার থেকে জানা যায়, ঘাতক সাদ্দাম হোসেন পিতা: লোকমান দীর্ঘদিন ধরে ভোমরা ইউনিয়নের লক্ষীদাড়ি গ্রামে তার নানার বাড়িতে সপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রী। তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি তাসলিমা খাতুন দেবহাটার বহেরা গ্রামে তার বাবার বাড়ি থেকে একটি ছাগল নিয়ে আসেন। কিন্তু স্ত্রী তাসলিমাকে না জানিয়ে সাদ্দাম সেই ছাগলটি বিক্রি করে দেন। নিজের বাপের বাড়ি থেকে আনা ছাগল এভাবে বিক্রি করে দেওয়ায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র ঝগড়া শুরু হয়। তারই জেরধরে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাদ্দাম তাদের ছেলে ও মেয়েকে পাশের একটি ঘরে তার মায়ের সাথে রেখে অনলাইন জুয়া ও মাদকে আসক্ত স্বামী তার স্ত্রীর ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তিনি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাসলিমাকে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যান। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘরের মেঝেতে তাসলিমার রক্তাত্ব মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে এবং পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে রাতেই সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, “মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী সাদ্দাম হোসেন পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্যে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।” এদিকে, দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের বহেরা গ্রামের মেয়ে তাছলিমা খাতুনকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় নিহতের বাপের বাড়িসহ এলাকায় তীব্র শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী ঘাতক সাদ্দামকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

ভোমরায় স্বামী কর্তৃক ৪মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী কে গলা কেটে হত্যা করে পলাতক

Update Time : ০৮:৩৫:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
Print

জি এম আব্বাস উদ্দিন,সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি;-সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা ইউনিয়নের লক্ষ্মী দাড়ি গ্রামে তাসলিমা খাতুন (৩৬) নামে এক চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। নিহত তাসলিমা খাতুন দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের বহেরা গ্রামের নুরুজ্জামান ঢালীর কন্যা। ঘাতক স্বামী ভোমরা ইউনিয়নের লক্ষীদাড়ি গ্রামের লোকমান হোসেন এর ছেলে সাদ্দাম হোসেন( ৪০)। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী ঘাতক সাদ্দাম হোসেন পলাতক রয়েছেন। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের লক্ষীদাড়ি গ্রামে। নিহতের পরিবার থেকে জানা যায়, ঘাতক সাদ্দাম হোসেন পিতা: লোকমান দীর্ঘদিন ধরে ভোমরা ইউনিয়নের লক্ষীদাড়ি গ্রামে তার নানার বাড়িতে সপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রী। তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি তাসলিমা খাতুন দেবহাটার বহেরা গ্রামে তার বাবার বাড়ি থেকে একটি ছাগল নিয়ে আসেন। কিন্তু স্ত্রী তাসলিমাকে না জানিয়ে সাদ্দাম সেই ছাগলটি বিক্রি করে দেন। নিজের বাপের বাড়ি থেকে আনা ছাগল এভাবে বিক্রি করে দেওয়ায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র ঝগড়া শুরু হয়। তারই জেরধরে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাদ্দাম তাদের ছেলে ও মেয়েকে পাশের একটি ঘরে তার মায়ের সাথে রেখে অনলাইন জুয়া ও মাদকে আসক্ত স্বামী তার স্ত্রীর ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তিনি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাসলিমাকে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যান। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘরের মেঝেতে তাসলিমার রক্তাত্ব মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে এবং পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে রাতেই সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, “মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী সাদ্দাম হোসেন পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্যে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।” এদিকে, দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের বহেরা গ্রামের মেয়ে তাছলিমা খাতুনকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় নিহতের বাপের বাড়িসহ এলাকায় তীব্র শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী ঘাতক সাদ্দামকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।