ঢাকা ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হীরা খাতুনের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি যশোর জেলা পুলিশের

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৭:৫৫:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • / ৩০ Time View
Print

নিজস্ব প্রতিনিধি:

যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ একটি ব্যক্তিগত গাড়ি অবৈধভাবে আটকে রেখেছে এমন অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দাবি করেছে যশোর জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার যশোরের নতুন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাগুরার আড়পাড়া গ্রামের আলী হাসানের স্ত্রী হীরা খাতুন সম্প্রতি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন যে, যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ তার গাড়ি আটক করে অবৈধভাবে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে। তবে জেলা পুলিশের দাবি, এ অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

তিনি জানান, গত ২৭ মার্চ এক ব্যক্তি কোতোয়ালি থানায় ফোন করে জানান, থানার বিপরীত পাশে রিচম্যান পোশাকের শোরুমের সামনে একটি রেড ওয়াইন রঙের টয়োটা সিএইচআর (CHR) হাইব্রিড গাড়ি (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ঢাকা মেট্রো-২১-৪১১৩) দীর্ঘ সময় ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বেওয়ারিশ হিসেবে গাড়িটি জব্দ করে। পরে বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হয়। পরে হীরা খাতুন থানায় এসে গাড়িটির মালিকানা দাবি করেন। এ সময় পুলিশ তাকে আদালতে বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করে আইনগতভাবে গাড়িটি জিম্মায় নেওয়ার আহ্বান জানায়।

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত হীরা খাতুন আদালতের কোনো আদেশনামা বা গাড়ির বৈধ কাগজপত্র থানায় জমা দেননি। ফলে পুলিশের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে গাড়ি আটকে রাখার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, হীরা খাতুন বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের মাগুরা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং তার স্বামী মো. আলী হাসান আলীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রাজিবুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাখাওয়াত হোসেন এবং কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুম খান।

উল্লেখ্য, সোমবার ঢাকার ক্র্যাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে হীরা খাতুন অভিযোগ করেন, যশোরের একটি গোল্ড পাচার চক্রের হুমকি ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তার স্বামী আলী আহমেদের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুবদল নেতা আনসারুল হক রানা ও গোল্ড শহীদ তার স্বামীর বিরুদ্ধে ১৪ কোটি টাকার সোনা আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন চাপ সৃষ্টি করেন। এরই প্রভাবে ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি তার স্বামী স্ট্রোকে মারা যান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে তার কলেজপড়ুয়া ছেলেকে প্রাইভেটকারসহ তুলে নিয়ে পাঁচ দিন আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে মাগুরা জেলা যুবদলের সভাপতি ওয়াকিসকুর রহমান কল্লোলের সহযোগিতায় পাঁচ দিন পর ছেলে ও গাড়ি উদ্ধার করতে সক্ষম হন। পরে যশোর কোতোয়ালি থানায় গাড়িটি জমা দেওয়া হয়। কিন্তু কোতোয়ালি থানা গাড়িটি ফেরত দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন হীরা খাতুন। যশোর জেলা পুলিশ গাড়িটি ফেরত না দেওয়ার কারণ জানিয়ে মঙ্গলবার এ ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

হীরা খাতুনের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি যশোর জেলা পুলিশের

Update Time : ০৭:৫৫:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
Print

নিজস্ব প্রতিনিধি:

যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ একটি ব্যক্তিগত গাড়ি অবৈধভাবে আটকে রেখেছে এমন অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দাবি করেছে যশোর জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার যশোরের নতুন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাগুরার আড়পাড়া গ্রামের আলী হাসানের স্ত্রী হীরা খাতুন সম্প্রতি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন যে, যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ তার গাড়ি আটক করে অবৈধভাবে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে। তবে জেলা পুলিশের দাবি, এ অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

তিনি জানান, গত ২৭ মার্চ এক ব্যক্তি কোতোয়ালি থানায় ফোন করে জানান, থানার বিপরীত পাশে রিচম্যান পোশাকের শোরুমের সামনে একটি রেড ওয়াইন রঙের টয়োটা সিএইচআর (CHR) হাইব্রিড গাড়ি (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ঢাকা মেট্রো-২১-৪১১৩) দীর্ঘ সময় ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বেওয়ারিশ হিসেবে গাড়িটি জব্দ করে। পরে বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হয়। পরে হীরা খাতুন থানায় এসে গাড়িটির মালিকানা দাবি করেন। এ সময় পুলিশ তাকে আদালতে বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করে আইনগতভাবে গাড়িটি জিম্মায় নেওয়ার আহ্বান জানায়।

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত হীরা খাতুন আদালতের কোনো আদেশনামা বা গাড়ির বৈধ কাগজপত্র থানায় জমা দেননি। ফলে পুলিশের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে গাড়ি আটকে রাখার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, হীরা খাতুন বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের মাগুরা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং তার স্বামী মো. আলী হাসান আলীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রাজিবুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাখাওয়াত হোসেন এবং কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুম খান।

উল্লেখ্য, সোমবার ঢাকার ক্র্যাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে হীরা খাতুন অভিযোগ করেন, যশোরের একটি গোল্ড পাচার চক্রের হুমকি ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তার স্বামী আলী আহমেদের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুবদল নেতা আনসারুল হক রানা ও গোল্ড শহীদ তার স্বামীর বিরুদ্ধে ১৪ কোটি টাকার সোনা আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন চাপ সৃষ্টি করেন। এরই প্রভাবে ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি তার স্বামী স্ট্রোকে মারা যান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে তার কলেজপড়ুয়া ছেলেকে প্রাইভেটকারসহ তুলে নিয়ে পাঁচ দিন আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে মাগুরা জেলা যুবদলের সভাপতি ওয়াকিসকুর রহমান কল্লোলের সহযোগিতায় পাঁচ দিন পর ছেলে ও গাড়ি উদ্ধার করতে সক্ষম হন। পরে যশোর কোতোয়ালি থানায় গাড়িটি জমা দেওয়া হয়। কিন্তু কোতোয়ালি থানা গাড়িটি ফেরত দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন হীরা খাতুন। যশোর জেলা পুলিশ গাড়িটি ফেরত না দেওয়ার কারণ জানিয়ে মঙ্গলবার এ ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে।