ঢাকা ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরায় কোচিং সেন্টারে ঢুকে পরিচালককে কুপিয়ে পিটিয়ে জখম ও টাকা ছিনতাই

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৬:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • / ৪৬ Time View
Print

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারে ঢুকে অনধিকার প্রবেশ করে পরিচালককে লোহার রড ও জিআই পাইপ দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। গত ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে পুরাতন সাতক্ষীরা হাটখোলার উত্তর পাশে অবস্থিত ‘নলেজ একাডেমিক পয়েন্ট কোচিং সেন্টার’-এ এই ঘটনা ঘটে।

এই হামলায় গুরুতর আহত কোচিং সেন্টারের পরিচালক মইনুল ইসলাম (৩০) বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে সাতক্ষীরা থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন— পুরাতন সাতক্ষীরা (নাথপাড়া) এলাকার ইমরান হোসেন (২৪), মো. তোহা (২১), মো. শিপন হোসেন (২৬) এবং মো. রকি (২২)।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, মইনুল ইসলামের পরিচালিত কোচিং সেন্টারে ১নং আসামি ইমরান হোসেনের ১৬ বছর বয়সী এক বোন পড়াশোনা করত। কোচিংয়ে আসা-যাওয়ার সুবাদে সেন্টারের শিক্ষক আলফাজের সঙ্গে ওই ছাত্রীর অতিরিক্ত কথাবার্তা বলা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন তৈরি হয়। বিষয়টি পরিচালকের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি কোচিংয়ের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে শিক্ষক আলফাজকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করেন এবং ওই ছাত্রীকেও কোচিংয়ে আসতে নিষেধ করে দেন।

অভিযোগ রয়েছে, ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে তার ভাইদের কাছে বিষয়টি নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। গত ১৪ মে রাতে আসামিরা লোহার রড, জিআই পাইপ ও বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে বেআইনিভাবে কোচিং সেন্টারের নিচতলার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা পরিচালক মইনুল ইসলামের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ১নং আসামি ইমরান তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে জিআই পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে, যার ফলে তার মাথায় ৪টি সেলাই লেগেছে। ২নং আসামি তোহা লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে মইনুল ইসলামের বাম গাল কেটে রক্তাক্ত জখম হয় এবং সেখানেও ৪টি সেলাই দিতে হয়। এছাড়া ৩ ও ৪নং আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা বাঁশের লাঠি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।

হামলার একপর্যায়ে ১নং আসামি ইমরান হোসেন পরিচালকের কাছে থাকা নগদ ৪২,৫২০ (বিয়াল্লিশ হাজার পাঁচশত বিশ) টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং যাওয়ার সময় তাকে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে যায়।

পরবর্তীতে স্থানীয় ফরহাদ হোসেন ও আব্দুর রহমানসহ উপস্থিত সাক্ষীদের সহায়তায় গুরুতর আহত মইনুল ইসলামকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা নিতে ব্যস্ত থাকার কারণে থানায় এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা থানার পুলিশ প্রশাসন জানায়, অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষ আসামিদের গ্রেফতারের জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

সাতক্ষীরায় কোচিং সেন্টারে ঢুকে পরিচালককে কুপিয়ে পিটিয়ে জখম ও টাকা ছিনতাই

Update Time : ০৬:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
Print

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারে ঢুকে অনধিকার প্রবেশ করে পরিচালককে লোহার রড ও জিআই পাইপ দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। গত ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে পুরাতন সাতক্ষীরা হাটখোলার উত্তর পাশে অবস্থিত ‘নলেজ একাডেমিক পয়েন্ট কোচিং সেন্টার’-এ এই ঘটনা ঘটে।

এই হামলায় গুরুতর আহত কোচিং সেন্টারের পরিচালক মইনুল ইসলাম (৩০) বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে সাতক্ষীরা থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন— পুরাতন সাতক্ষীরা (নাথপাড়া) এলাকার ইমরান হোসেন (২৪), মো. তোহা (২১), মো. শিপন হোসেন (২৬) এবং মো. রকি (২২)।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, মইনুল ইসলামের পরিচালিত কোচিং সেন্টারে ১নং আসামি ইমরান হোসেনের ১৬ বছর বয়সী এক বোন পড়াশোনা করত। কোচিংয়ে আসা-যাওয়ার সুবাদে সেন্টারের শিক্ষক আলফাজের সঙ্গে ওই ছাত্রীর অতিরিক্ত কথাবার্তা বলা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন তৈরি হয়। বিষয়টি পরিচালকের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি কোচিংয়ের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে শিক্ষক আলফাজকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করেন এবং ওই ছাত্রীকেও কোচিংয়ে আসতে নিষেধ করে দেন।

অভিযোগ রয়েছে, ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে তার ভাইদের কাছে বিষয়টি নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। গত ১৪ মে রাতে আসামিরা লোহার রড, জিআই পাইপ ও বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে বেআইনিভাবে কোচিং সেন্টারের নিচতলার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা পরিচালক মইনুল ইসলামের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ১নং আসামি ইমরান তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে জিআই পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে, যার ফলে তার মাথায় ৪টি সেলাই লেগেছে। ২নং আসামি তোহা লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে মইনুল ইসলামের বাম গাল কেটে রক্তাক্ত জখম হয় এবং সেখানেও ৪টি সেলাই দিতে হয়। এছাড়া ৩ ও ৪নং আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা বাঁশের লাঠি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।

হামলার একপর্যায়ে ১নং আসামি ইমরান হোসেন পরিচালকের কাছে থাকা নগদ ৪২,৫২০ (বিয়াল্লিশ হাজার পাঁচশত বিশ) টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং যাওয়ার সময় তাকে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে যায়।

পরবর্তীতে স্থানীয় ফরহাদ হোসেন ও আব্দুর রহমানসহ উপস্থিত সাক্ষীদের সহায়তায় গুরুতর আহত মইনুল ইসলামকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা নিতে ব্যস্ত থাকার কারণে থানায় এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা থানার পুলিশ প্রশাসন জানায়, অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষ আসামিদের গ্রেফতারের জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।