ঢাকা ০৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সমাজসেবায় প্রশংসিত যশোরের শামীম হোসেন, পাচ্ছেন ‘সাকসেস অ্যাওয়ার্ড’- 2026

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৮:২৬:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • / ৬৮ Time View
Print

নিজস্ব প্রতিনিধি:
যশোর সদর উপজেলার 4 নং নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ঘুরুলিয়া এলাকার তরুণ সমাজসেবক, উদ্যোক্তা ও সংগঠক মোঃ শামীম হোসেইন সমাজসেবামূলক নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা সহায়তা, মানবিক কার্যক্রম ও তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে ভূমিকা রাখায় তিনি এবার ঢাকা কালচারাল একাডেমির “সাকসেস অ্যাওয়ার্ড -26” এর জন্য মনোনীত হয়েছেন। শিগগিরই রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।

মোঃ শামীম হোসেইন যশোরের ঘুরুলিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোঃ কেরামত আলী বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আর্থিক সহযোগিতা করে আসছেন। পারিবারিক সেই মানবিক পরিবেশ থেকেই ছোটবেলা থেকে সমাজের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখেন শামীম।

শিক্ষাজীবনেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ঘুরুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে মাধ্যমিক এবং যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরে বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন বাংলাদেশ কম্পিউটার এন্ড ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটি কলেজে , বেরেক স্টাডি হলে, বিএসএস করে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম এম কলেজে এমএসএস পড়েছেন , ।

২০১৩ সালে তিনি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা হেলথ ফাউন্ডেশন সার্ভিসেসের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দক্ষিণবঙ্গের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংগঠনটির চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন (অব.) এম এ খালেক স্বপনের নেতৃত্বে কাজ করতে গিয়ে তিনি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার দুরবস্থা কাছ থেকে দেখেন। এরপর সিরাজগঞ্জভিত্তিক একটি এনজিওতে ডিরেক্টর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার নয়টি উপজেলায় স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে কাজ করেন।

পরবর্তীতে নিজস্ব উদ্যোগে একটি মানবিক ও স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে ২০২০ সালের ৫ নভেম্বর “শামীম হেলথ ফাউন্ডেশন” এর নামের ছাড়পত্র গ্রহণ করেন। নানা প্রতিকূলতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন নিবন্ধন না পেলেও তিনি থেমে থাকেননি। পরে “শামীম মেডিকেল এন্ড কনসালটেন্সি ফার্ম লিমিটেড” নামে আরজেএসসি নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। যার নিবন্ধন নম্বর KHC-2733।

তার নেতৃত্বে যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, ডেন্টাল ক্যাম্প ও ব্লাড গ্রুপিং কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে। ঘুরুলিয়া দক্ষিণপাড়ার নাঈম মসজিদ, ঝাউদিয়া মাদরাসা, বাহাদুরপুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তালবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তালবাড়িয়া গার্লস স্কুল জিটি মডেলসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এসব ক্যাম্পে 5 শতাধিক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও প্রায় ২৫ জন নারী-পুরুষের চোখের ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করেন তিনি, যাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন ঝিনাইদহ জেলার বাসিন্দা। বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের বই-খাতা প্রদান, পূজা মন্দিরে স্বেচ্ছাসেবী সহযোগিতা, আজান প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং তরুণদের নেতৃত্ব উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন তিনি।

সামাজিক সংগঠন “এপেক্স ক্লাব অব মুন্সী মেহেরুল্লাহ” এর ২০২৫ সালের সেক্রেটারি অ্যান্ড ডিএনই হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি “বেস্ট সেক্রেটারি” নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির জুনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়াও ঘুরুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গোল্ডেন জুবিলী (1974 -2025)অনুষ্ঠানের কনভেনার এবং শামীম মেডিকেল এন্ড কনসালটেন্সি ফার্ম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি হেলথ কার্ড প্রজেক্ট, এস ভিজিট ভিসা কনসালটেন্সি, জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ ও লিডারশিপ ট্রেনিং কার্যক্রমের মাধ্যমে জনসেবামূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখায় স্থানীয়রা তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ভবিষ্যতেও তিনি সমাজকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকবেন-এমন প্রত্যাশা |

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

সমাজসেবায় প্রশংসিত যশোরের শামীম হোসেন, পাচ্ছেন ‘সাকসেস অ্যাওয়ার্ড’- 2026

Update Time : ০৮:২৬:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
Print

নিজস্ব প্রতিনিধি:
যশোর সদর উপজেলার 4 নং নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ঘুরুলিয়া এলাকার তরুণ সমাজসেবক, উদ্যোক্তা ও সংগঠক মোঃ শামীম হোসেইন সমাজসেবামূলক নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা সহায়তা, মানবিক কার্যক্রম ও তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে ভূমিকা রাখায় তিনি এবার ঢাকা কালচারাল একাডেমির “সাকসেস অ্যাওয়ার্ড -26” এর জন্য মনোনীত হয়েছেন। শিগগিরই রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।

মোঃ শামীম হোসেইন যশোরের ঘুরুলিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোঃ কেরামত আলী বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আর্থিক সহযোগিতা করে আসছেন। পারিবারিক সেই মানবিক পরিবেশ থেকেই ছোটবেলা থেকে সমাজের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখেন শামীম।

শিক্ষাজীবনেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ঘুরুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে মাধ্যমিক এবং যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরে বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন বাংলাদেশ কম্পিউটার এন্ড ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটি কলেজে , বেরেক স্টাডি হলে, বিএসএস করে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম এম কলেজে এমএসএস পড়েছেন , ।

২০১৩ সালে তিনি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা হেলথ ফাউন্ডেশন সার্ভিসেসের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দক্ষিণবঙ্গের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংগঠনটির চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন (অব.) এম এ খালেক স্বপনের নেতৃত্বে কাজ করতে গিয়ে তিনি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার দুরবস্থা কাছ থেকে দেখেন। এরপর সিরাজগঞ্জভিত্তিক একটি এনজিওতে ডিরেক্টর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার নয়টি উপজেলায় স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে কাজ করেন।

পরবর্তীতে নিজস্ব উদ্যোগে একটি মানবিক ও স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে ২০২০ সালের ৫ নভেম্বর “শামীম হেলথ ফাউন্ডেশন” এর নামের ছাড়পত্র গ্রহণ করেন। নানা প্রতিকূলতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন নিবন্ধন না পেলেও তিনি থেমে থাকেননি। পরে “শামীম মেডিকেল এন্ড কনসালটেন্সি ফার্ম লিমিটেড” নামে আরজেএসসি নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। যার নিবন্ধন নম্বর KHC-2733।

তার নেতৃত্বে যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, ডেন্টাল ক্যাম্প ও ব্লাড গ্রুপিং কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে। ঘুরুলিয়া দক্ষিণপাড়ার নাঈম মসজিদ, ঝাউদিয়া মাদরাসা, বাহাদুরপুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তালবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তালবাড়িয়া গার্লস স্কুল জিটি মডেলসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এসব ক্যাম্পে 5 শতাধিক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও প্রায় ২৫ জন নারী-পুরুষের চোখের ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করেন তিনি, যাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন ঝিনাইদহ জেলার বাসিন্দা। বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের বই-খাতা প্রদান, পূজা মন্দিরে স্বেচ্ছাসেবী সহযোগিতা, আজান প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং তরুণদের নেতৃত্ব উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন তিনি।

সামাজিক সংগঠন “এপেক্স ক্লাব অব মুন্সী মেহেরুল্লাহ” এর ২০২৫ সালের সেক্রেটারি অ্যান্ড ডিএনই হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি “বেস্ট সেক্রেটারি” নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির জুনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়াও ঘুরুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গোল্ডেন জুবিলী (1974 -2025)অনুষ্ঠানের কনভেনার এবং শামীম মেডিকেল এন্ড কনসালটেন্সি ফার্ম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি হেলথ কার্ড প্রজেক্ট, এস ভিজিট ভিসা কনসালটেন্সি, জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ ও লিডারশিপ ট্রেনিং কার্যক্রমের মাধ্যমে জনসেবামূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখায় স্থানীয়রা তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ভবিষ্যতেও তিনি সমাজকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকবেন-এমন প্রত্যাশা |