ঢাকা ০৪:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই বোন তৃষা ও তিস্তা সঙ্গীত নিয়ে যেতে চান বহুদূর

Reporter Name
  • Update Time : ০১:০৫:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৮ Time View
Print

মিলন বৈদ্য শুভ, চট্টগ্রাম (প্রতিনিধি):

সুরের মূর্ছনায় বাংলা গান ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন প্রতিভা। সেই সম্ভাবনাময় পথচলায় নিজেদের প্রতিভা ও সাধনা দিয়ে এগিয়ে চলেছেন দুই বোন তৃষা ধর ও তিস্তা ধর। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগকে সঙ্গী করে তাঁরা স্বপ্ন দেখছেন সুরের ভুবনে নিজেদের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করার।
তৃষা ধর বর্তমানে ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। আর ছোট বোন তিস্তা ধর কাপাসগোলা সিটি কর্পোরেশন বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। বয়সে পার্থক্য থাকলেও সংগীতের প্রতি ভালোবাসা ও ভবিষ্যতে বড় শিল্পী হওয়ার স্বপ্নে দুজনের পথচলা একই সুতোয় গাঁথা।
শৈশব থেকেই পারিবারিক সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা তৃষা ও তিস্তার সংগীতে হাতেখড়ি। সংগীতানুরাগী বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা ও উৎসাহে তাঁদের সুরের জগতে প্রবেশ। ঘরের পরিবেশেই তাঁরা পেয়েছেন সংগীতচর্চার প্রাথমিক অনুপ্রেরণা। পরবর্তীতে প্রাতিষ্ঠানিক তালিম ও নিয়মিত অনুশীলনের মধ্য দিয়ে নিজেদের কণ্ঠকে আরও শাণিত করে চলেছেন দুই বোন।
তৃষা ও তিস্তার সংগীতচর্চার পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁদের বাবা-মা। সন্তানের প্রতিভাকে বিকশিত করতে প্রয়োজনীয় সময়, শ্রম ও মানসিক সমর্থন দিয়ে তাঁরা সবসময় দুই মেয়ের পাশে থেকেছেন। সংগীতের তালিম ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য তাঁদের নিয়ে যাওয়া, নিয়মিত অনুশীলনে উৎসাহ দেওয়া এবং প্রতিকূল সময়ে সাহস জোগানো—সবকিছুতেই বাবা-মায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণ পরিবারের সন্তানদের জন্য সংগীতচর্চাকে নিয়মিত জীবনের অংশ করে তোলা সহজ নয়। নানা ব্যস্ততা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তৃষা ও তিস্তার বাবা-মা তাঁদের স্বপ্নকে গুরুত্ব দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের বিশ্বাস, সন্তানদের প্রতিভা ও সাধনাকে সঠিকভাবে বিকশিত করার সুযোগ দিতে পারলে একদিন তারা নিজেদের পাশাপাশি পরিবার ও দেশের জন্যও গৌরব বয়ে আনবে।
দুই বোনের সম্পর্কও তাঁদের সংগীতচর্চার অন্যতম শক্তি। তাঁরা শুধু পরস্পরের সহযাত্রী নন, একে অপরের সমালোচক ও অনুপ্রেরণার উৎসও। শাস্ত্রীয় সংগীতের পাশাপাশি আধুনিক ও লোকসংগীতেও তাঁদের আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত অনুশীলন, অধ্যবসায় ও নিজেদের ভুল-ত্রুটি সংশোধনের মাধ্যমে তাঁরা ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছেন সাফল্যের পথে।
তৃষা ও তিস্তার স্বপ্ন শুধু নিজেদের পরিচিতি তৈরি করা নয়; তাঁরা চান বাংলা গান ও দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নিজেদের অবদান রাখতে। বাবা-মায়ের চোখে দেখা স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে তাঁরা প্রতিনিয়ত কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন। সংগীতকে তাঁরা শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং সাধনা ও জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
সংগীতপ্রেমীদের প্রত্যাশা, নিয়মিত চর্চা, সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিবারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে একদিন তৃষা ও তিস্তা ধর নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখবেন বাংলা সংগীতের অঙ্গনে। দুই বোনের কণ্ঠের সুর আরও বহুদূর ছড়িয়ে পড়বে—এমন প্রত্যাশাই তাঁদের পরিবার, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সংগীতপ্রেমীদের।
সুরের সাধনায় দুই বোনের এই পথচলা হোক আরও দীর্ঘ, আরও সমৃদ্ধ—জয় হোক তাঁদের স্বপ্নের।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

দুই বোন তৃষা ও তিস্তা সঙ্গীত নিয়ে যেতে চান বহুদূর

Update Time : ০১:০৫:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Print

মিলন বৈদ্য শুভ, চট্টগ্রাম (প্রতিনিধি):

সুরের মূর্ছনায় বাংলা গান ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন প্রতিভা। সেই সম্ভাবনাময় পথচলায় নিজেদের প্রতিভা ও সাধনা দিয়ে এগিয়ে চলেছেন দুই বোন তৃষা ধর ও তিস্তা ধর। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগকে সঙ্গী করে তাঁরা স্বপ্ন দেখছেন সুরের ভুবনে নিজেদের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করার।
তৃষা ধর বর্তমানে ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। আর ছোট বোন তিস্তা ধর কাপাসগোলা সিটি কর্পোরেশন বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। বয়সে পার্থক্য থাকলেও সংগীতের প্রতি ভালোবাসা ও ভবিষ্যতে বড় শিল্পী হওয়ার স্বপ্নে দুজনের পথচলা একই সুতোয় গাঁথা।
শৈশব থেকেই পারিবারিক সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা তৃষা ও তিস্তার সংগীতে হাতেখড়ি। সংগীতানুরাগী বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা ও উৎসাহে তাঁদের সুরের জগতে প্রবেশ। ঘরের পরিবেশেই তাঁরা পেয়েছেন সংগীতচর্চার প্রাথমিক অনুপ্রেরণা। পরবর্তীতে প্রাতিষ্ঠানিক তালিম ও নিয়মিত অনুশীলনের মধ্য দিয়ে নিজেদের কণ্ঠকে আরও শাণিত করে চলেছেন দুই বোন।
তৃষা ও তিস্তার সংগীতচর্চার পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁদের বাবা-মা। সন্তানের প্রতিভাকে বিকশিত করতে প্রয়োজনীয় সময়, শ্রম ও মানসিক সমর্থন দিয়ে তাঁরা সবসময় দুই মেয়ের পাশে থেকেছেন। সংগীতের তালিম ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য তাঁদের নিয়ে যাওয়া, নিয়মিত অনুশীলনে উৎসাহ দেওয়া এবং প্রতিকূল সময়ে সাহস জোগানো—সবকিছুতেই বাবা-মায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণ পরিবারের সন্তানদের জন্য সংগীতচর্চাকে নিয়মিত জীবনের অংশ করে তোলা সহজ নয়। নানা ব্যস্ততা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তৃষা ও তিস্তার বাবা-মা তাঁদের স্বপ্নকে গুরুত্ব দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের বিশ্বাস, সন্তানদের প্রতিভা ও সাধনাকে সঠিকভাবে বিকশিত করার সুযোগ দিতে পারলে একদিন তারা নিজেদের পাশাপাশি পরিবার ও দেশের জন্যও গৌরব বয়ে আনবে।
দুই বোনের সম্পর্কও তাঁদের সংগীতচর্চার অন্যতম শক্তি। তাঁরা শুধু পরস্পরের সহযাত্রী নন, একে অপরের সমালোচক ও অনুপ্রেরণার উৎসও। শাস্ত্রীয় সংগীতের পাশাপাশি আধুনিক ও লোকসংগীতেও তাঁদের আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত অনুশীলন, অধ্যবসায় ও নিজেদের ভুল-ত্রুটি সংশোধনের মাধ্যমে তাঁরা ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছেন সাফল্যের পথে।
তৃষা ও তিস্তার স্বপ্ন শুধু নিজেদের পরিচিতি তৈরি করা নয়; তাঁরা চান বাংলা গান ও দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নিজেদের অবদান রাখতে। বাবা-মায়ের চোখে দেখা স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে তাঁরা প্রতিনিয়ত কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন। সংগীতকে তাঁরা শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং সাধনা ও জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
সংগীতপ্রেমীদের প্রত্যাশা, নিয়মিত চর্চা, সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিবারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে একদিন তৃষা ও তিস্তা ধর নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখবেন বাংলা সংগীতের অঙ্গনে। দুই বোনের কণ্ঠের সুর আরও বহুদূর ছড়িয়ে পড়বে—এমন প্রত্যাশাই তাঁদের পরিবার, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সংগীতপ্রেমীদের।
সুরের সাধনায় দুই বোনের এই পথচলা হোক আরও দীর্ঘ, আরও সমৃদ্ধ—জয় হোক তাঁদের স্বপ্নের।