ঢাকা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভিড় নিয়ন্ত্রণ থেকে দালাল প্রতিরোধ—শেবাচিমে আনসার সদস্যদের বহুমুখী দায়িত্ব

Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৩০:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২৪ Time View
Print

‎মোঃ সজিব সরদার
‎স্টাফ রিপোর্টারঃ দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ চিকিৎসাকেন্দ্র বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম)। এক হাজার শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিনই চিকিৎসা নিতে আসেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রোগীর সংখ্যা অনেক সময় প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছে যায়। রোগী ও স্বজন মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মানুষের চলাচলে ব্যস্ত থাকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ।

‎এত বিপুল মানুষের ভিড়ে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ১০০ জন আনসার সদস্য ও সদস্যা।

‎বহির্বিভাগে দীর্ঘ রোগীর সারি থেকে জরুরি বিভাগের ভিড়—সবখানেই শৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় আনসার সদস্যরা। রোগীরা যাতে সিরিয়াল অনুযায়ী চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন, সে জন্য সারি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রধান ফটকে রোগীবাহী যান ও অ্যাম্বুলেন্সের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতেও দায়িত্ব পালন করছেন তারা।

‎হাসপাতালের নিরাপত্তার পাশাপাশি দালাল, চুরি ও বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধেও নজরদারি করছেন আনসার সদস্যরা। অ্যাম্বুলেন্স ও টলি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ঠেকাতেও দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত টহলের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা।

‎অনুসন্ধান গেটের সামনে মাইকিং করে রোগী ও স্বজনদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সচেতনতামূলক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি ওষুধ বিতরণের সময় নারী ও পুরুষ রোগীদের পৃথক সারি ব্যবস্থাপনায়ও দায়িত্ব পালন করছেন নারী ও পুরুষ আনসার সদস্যরা। ভর্তি গাইনি ওয়ার্ডের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় রয়েছেন নারী আনসার সদস্যরা।

‎আনসার সদস্যদের দায়িত্ব শুধু নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষাতেই সীমাবদ্ধ নয়। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দিতেও সহযোগিতা করছেন তারা। ফলে নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ব পালনের দৃষ্টান্তও তৈরি করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা।

‎হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা এপিসি মোঃ হাসান বলেন, “হাসপাতালের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। রোগী ও স্বজনরা যাতে নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছি। দালাল, চুরি, টলি ও অ্যাম্বুলেন্স সংক্রান্ত অনিয়মসহ যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছেন।

‎চিকিৎসক ডা. মোঃ মাজহারুল রেজওয়ান (রেজা) বলেন, “বিপুলসংখ্যক রোগী ও স্বজনের উপস্থিতির কারণে হাসপাতালে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আনসার সদস্যরা নিয়মিত যে দায়িত্ব পালন করছেন, তা চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমকে সুশৃঙ্খল রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে বহির্বিভাগে রোগীর সারি নিয়ন্ত্রণ, জরুরি বিভাগে শৃঙ্খলা এবং হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব প্রশংসনীয়।

‎রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রোগীর অতিরিক্ত চাপের মধ্যেও হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন আনসার সদস্যরা। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি হাসপাতালের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে তাদের এই দায়িত্ব পালন চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

‎বিপুল জনসমাগমের এই চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগী ও স্বজনদের নিরাপদ চলাচল, চিকিৎসাসেবা গ্রহণে শৃঙ্খলা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধে আনসার সদস্যদের নিয়মিত তৎপরতা হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

ভিড় নিয়ন্ত্রণ থেকে দালাল প্রতিরোধ—শেবাচিমে আনসার সদস্যদের বহুমুখী দায়িত্ব

Update Time : ০৯:৩০:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Print

‎মোঃ সজিব সরদার
‎স্টাফ রিপোর্টারঃ দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ চিকিৎসাকেন্দ্র বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম)। এক হাজার শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিনই চিকিৎসা নিতে আসেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রোগীর সংখ্যা অনেক সময় প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছে যায়। রোগী ও স্বজন মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মানুষের চলাচলে ব্যস্ত থাকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ।

‎এত বিপুল মানুষের ভিড়ে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ১০০ জন আনসার সদস্য ও সদস্যা।

‎বহির্বিভাগে দীর্ঘ রোগীর সারি থেকে জরুরি বিভাগের ভিড়—সবখানেই শৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় আনসার সদস্যরা। রোগীরা যাতে সিরিয়াল অনুযায়ী চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন, সে জন্য সারি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রধান ফটকে রোগীবাহী যান ও অ্যাম্বুলেন্সের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতেও দায়িত্ব পালন করছেন তারা।

‎হাসপাতালের নিরাপত্তার পাশাপাশি দালাল, চুরি ও বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধেও নজরদারি করছেন আনসার সদস্যরা। অ্যাম্বুলেন্স ও টলি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ঠেকাতেও দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত টহলের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা।

‎অনুসন্ধান গেটের সামনে মাইকিং করে রোগী ও স্বজনদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সচেতনতামূলক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি ওষুধ বিতরণের সময় নারী ও পুরুষ রোগীদের পৃথক সারি ব্যবস্থাপনায়ও দায়িত্ব পালন করছেন নারী ও পুরুষ আনসার সদস্যরা। ভর্তি গাইনি ওয়ার্ডের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় রয়েছেন নারী আনসার সদস্যরা।

‎আনসার সদস্যদের দায়িত্ব শুধু নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষাতেই সীমাবদ্ধ নয়। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দিতেও সহযোগিতা করছেন তারা। ফলে নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ব পালনের দৃষ্টান্তও তৈরি করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা।

‎হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা এপিসি মোঃ হাসান বলেন, “হাসপাতালের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। রোগী ও স্বজনরা যাতে নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছি। দালাল, চুরি, টলি ও অ্যাম্বুলেন্স সংক্রান্ত অনিয়মসহ যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছেন।

‎চিকিৎসক ডা. মোঃ মাজহারুল রেজওয়ান (রেজা) বলেন, “বিপুলসংখ্যক রোগী ও স্বজনের উপস্থিতির কারণে হাসপাতালে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আনসার সদস্যরা নিয়মিত যে দায়িত্ব পালন করছেন, তা চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমকে সুশৃঙ্খল রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে বহির্বিভাগে রোগীর সারি নিয়ন্ত্রণ, জরুরি বিভাগে শৃঙ্খলা এবং হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব প্রশংসনীয়।

‎রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রোগীর অতিরিক্ত চাপের মধ্যেও হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন আনসার সদস্যরা। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি হাসপাতালের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে তাদের এই দায়িত্ব পালন চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

‎বিপুল জনসমাগমের এই চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগী ও স্বজনদের নিরাপদ চলাচল, চিকিৎসাসেবা গ্রহণে শৃঙ্খলা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধে আনসার সদস্যদের নিয়মিত তৎপরতা হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।