ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঠাকুরবাড়ি দুর্গা মা গীতা বিদ্যাপীঠের রণচণ্ডী গ্রুপ’র আয়োজনেঃ চড়ুইভাতি অনুষ্ঠিত

Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৩২:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • / ৯ Time View
Print

★ শ্রী সুপণ বিশ্বাস (স্টাফ রিপোর্টার,চট্টগ্রাম)

সমাজ,পরিবার,বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের নিবিড় বন্ধনে,সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি সৃষ্টির প্রয়াসে সবাই মিলে মিশে একসাথে হবরেক রকম ব্যাঞ্জনে সুন্দর একটি সময়ের সমন্বিত আয়োজনই চড়ুইভাতি। চড়ুইভাতি শব্দটি শোনার পরে মানুষের মনে ধ্যানে,শয়নে, স্বপনে এক মহানন্দের ফল্গুধারা বহে যায়।চড়ুইভাতি আয়োজনে যে শান্তি, স্বস্তি ও নির্মল বিনোদন পাওয়া যায় তা আর কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে পাওয়া যায়না। এই আয়োজনটি শুধুমাত্র গ্রামে সীমাবদ্ধ নয়। প্রাগৈতিহাসিক কাল হতে নগর, শহর, বিভাগ, জেলা, উপজেলা, পার্বত্যাঞ্চল সহ সব জায়গায় চড়ুইভাতির প্রচলন দেখা যায়। আর চড়ুইভাতি অনুষ্ঠান শুধু খাওয়া দাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
গল্প, আড্ডা, কৌতুক, গান, নৃত্য, কবিতাবৃত্তি বিভিন্ন লোকজ সংস্কৃতিও চড়ুইভাতির অন্যতম অংশ। প্রত্যেকটি মানুষের জীবনাভিধানে চড়ুইভাতির স্মৃতি যে নেই এইরকম মানুষ পাওয়া খুব দুষ্কর। বর্তমান সময়টা খুব কঠিন, চতুর্দিকে উচ্ছৃঙ্খলতায় পরিপূর্ণ। অথচ বুদ্ধির বয়স হতে আমরা দেখেছি আমাদের সময় ও আমাদের পূর্ববর্তী সময়ের মানুষরা নানামুখী খেলাধুলা যেমনঃ হাডুডু, ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, চোর-পুলিশ খেলা, ঘুড়ি উড়ানো,নেড়া কুড়ানো, ধান সংগ্রহ, চাঁড়া খেলা, মার্বেল খেলা, বিচি খেলা, গর্ত লেখা, মাছ ধরা, নৌকা বাইচ, কুস্তি খেলা, জলকেলি, পাতাকুড়ানো, ডাংগুলি, তাজ খেলা, লাড্ডুম গুড়া, নারকেলের মালায় মোমবাতি দিয়ে ঘুরাঘুরি, সুপারি গাছের পাতা দিয়ে গাড়ি চালানো, বেরিং এর চাকা দিয়ে তৈরি গাগি চালানো, লুকোচুরি খেলা, দৌঁড় খেলা, যেমন খুশি তেমন সাঁজ সহ হরেকরকম লোকজ সংস্কৃতির চর্চায় মেতে থাকতো। আর কালের বিবর্তনে মোবাইলের অপব্যবহারের সুতীব্র নেশা প্রজন্মকে অপসংস্কৃতির দিকে ধাবিত করছে।
তাই নেশাগ্রস্ত প্রজন্মকে সুন্দর জীবনে ফিরিয়ে আনতে চড়ুইভাতি অন্যন্য ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি সেক্টরে পরস্পর পরস্পরের মধ্যে অপ প্রতিযোগিতা ও পারস্পরিক দ্বন্দতা থাকলেও বাংলার অনিন্দ্য সুন্দর লোকজ সংস্কৃতি চড়ুইভাতি সকল বয়সী মানুষের অন্যন্য মিলন ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত।
বীর প্রসবিনী চট্টলার ঐতিহ্যবাহী রাউজান উপজেলাধীন উত্তর গুজরা ঠাকুরবাড়ি শ্রীশ্রীদুর্গা মা গীতা বিদ্যাপীঠের রণচণ্ডী গ্রুপ’র আয়োজনে চড়ুইভাতি অনুষ্ঠিত হয়। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা ও ঐকান্তিক আগ্রহে চড়ুইভাতি খুব জমে উঠেছিল। আমি সারাদিন পরিশ্রান্ত ছিলাম, ক্লান্তাবস্থায় বর্ষার (যে আমাদের ভরসা) হাতে করা লেবুর সরাবত আমাকে বিশেষভাবে প্রশান্তি দিয়েছিল। সবাই সবার সাথে নানারকম কথার ফুল জুড়িতে বসেছিল, সমবেত ফটোসেশান হয়েছে, সবার কথা শেষে ‘রাগ করলা’ বাক্যটি সবাইকে বাড়তি আনন্দের খুরাক জুগিয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

ঠাকুরবাড়ি দুর্গা মা গীতা বিদ্যাপীঠের রণচণ্ডী গ্রুপ’র আয়োজনেঃ চড়ুইভাতি অনুষ্ঠিত

Update Time : ০৫:৩২:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Print

★ শ্রী সুপণ বিশ্বাস (স্টাফ রিপোর্টার,চট্টগ্রাম)

সমাজ,পরিবার,বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের নিবিড় বন্ধনে,সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি সৃষ্টির প্রয়াসে সবাই মিলে মিশে একসাথে হবরেক রকম ব্যাঞ্জনে সুন্দর একটি সময়ের সমন্বিত আয়োজনই চড়ুইভাতি। চড়ুইভাতি শব্দটি শোনার পরে মানুষের মনে ধ্যানে,শয়নে, স্বপনে এক মহানন্দের ফল্গুধারা বহে যায়।চড়ুইভাতি আয়োজনে যে শান্তি, স্বস্তি ও নির্মল বিনোদন পাওয়া যায় তা আর কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে পাওয়া যায়না। এই আয়োজনটি শুধুমাত্র গ্রামে সীমাবদ্ধ নয়। প্রাগৈতিহাসিক কাল হতে নগর, শহর, বিভাগ, জেলা, উপজেলা, পার্বত্যাঞ্চল সহ সব জায়গায় চড়ুইভাতির প্রচলন দেখা যায়। আর চড়ুইভাতি অনুষ্ঠান শুধু খাওয়া দাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
গল্প, আড্ডা, কৌতুক, গান, নৃত্য, কবিতাবৃত্তি বিভিন্ন লোকজ সংস্কৃতিও চড়ুইভাতির অন্যতম অংশ। প্রত্যেকটি মানুষের জীবনাভিধানে চড়ুইভাতির স্মৃতি যে নেই এইরকম মানুষ পাওয়া খুব দুষ্কর। বর্তমান সময়টা খুব কঠিন, চতুর্দিকে উচ্ছৃঙ্খলতায় পরিপূর্ণ। অথচ বুদ্ধির বয়স হতে আমরা দেখেছি আমাদের সময় ও আমাদের পূর্ববর্তী সময়ের মানুষরা নানামুখী খেলাধুলা যেমনঃ হাডুডু, ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, চোর-পুলিশ খেলা, ঘুড়ি উড়ানো,নেড়া কুড়ানো, ধান সংগ্রহ, চাঁড়া খেলা, মার্বেল খেলা, বিচি খেলা, গর্ত লেখা, মাছ ধরা, নৌকা বাইচ, কুস্তি খেলা, জলকেলি, পাতাকুড়ানো, ডাংগুলি, তাজ খেলা, লাড্ডুম গুড়া, নারকেলের মালায় মোমবাতি দিয়ে ঘুরাঘুরি, সুপারি গাছের পাতা দিয়ে গাড়ি চালানো, বেরিং এর চাকা দিয়ে তৈরি গাগি চালানো, লুকোচুরি খেলা, দৌঁড় খেলা, যেমন খুশি তেমন সাঁজ সহ হরেকরকম লোকজ সংস্কৃতির চর্চায় মেতে থাকতো। আর কালের বিবর্তনে মোবাইলের অপব্যবহারের সুতীব্র নেশা প্রজন্মকে অপসংস্কৃতির দিকে ধাবিত করছে।
তাই নেশাগ্রস্ত প্রজন্মকে সুন্দর জীবনে ফিরিয়ে আনতে চড়ুইভাতি অন্যন্য ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি সেক্টরে পরস্পর পরস্পরের মধ্যে অপ প্রতিযোগিতা ও পারস্পরিক দ্বন্দতা থাকলেও বাংলার অনিন্দ্য সুন্দর লোকজ সংস্কৃতি চড়ুইভাতি সকল বয়সী মানুষের অন্যন্য মিলন ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত।
বীর প্রসবিনী চট্টলার ঐতিহ্যবাহী রাউজান উপজেলাধীন উত্তর গুজরা ঠাকুরবাড়ি শ্রীশ্রীদুর্গা মা গীতা বিদ্যাপীঠের রণচণ্ডী গ্রুপ’র আয়োজনে চড়ুইভাতি অনুষ্ঠিত হয়। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা ও ঐকান্তিক আগ্রহে চড়ুইভাতি খুব জমে উঠেছিল। আমি সারাদিন পরিশ্রান্ত ছিলাম, ক্লান্তাবস্থায় বর্ষার (যে আমাদের ভরসা) হাতে করা লেবুর সরাবত আমাকে বিশেষভাবে প্রশান্তি দিয়েছিল। সবাই সবার সাথে নানারকম কথার ফুল জুড়িতে বসেছিল, সমবেত ফটোসেশান হয়েছে, সবার কথা শেষে ‘রাগ করলা’ বাক্যটি সবাইকে বাড়তি আনন্দের খুরাক জুগিয়েছে।