ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগৈলঝাড়ায় মামা-ভাগ্নের ঘণ্টায় ৩শ কিমি গতির মিসাইল ও রকেট তৈরি

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৭:০৯:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৪৯ Time View
Print

মো:আশরাফ,বরিশাল ক্রাইম রিপোর্টার:

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের গৌতম পালের ছেলে ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র প্রিতম পাল ও তার মামা একই গ্রামের জয়দেব চন্দ্র পালের ছেলে ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সুজন চন্দ্র পাল মিলে থান্ডারবোল্ড মিসাইল এবং রকেট তৈরির কাজ শুরু করেন। মামা-ভাগ্নের আবিষ্কার ‘থান্ডারবোল্ড মিসাইল এবং রকেট’। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা চিন্তা করে দেশের স্বার্থে নিজেদের উদ্যোগ ও অর্থায়নে তাদের এ আবিষ্কার।
নিজেদের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে ও পরিবারের সহযোগিতা নিয়ে ২০২৫ সালে শুরু করে ৬-৭ মাসের চেষ্টায় ৭ লাখ টাকা ব্যয় করে সম্প্রতি মিসাইল এবং রকেটের কাজ সম্পন্ন করেছেন। এই মিসাইল ও রকেট ৫ কিলোমিটার রেঞ্জে ঘণ্টায় ৩শ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম। মিসাইল এবং রকেটের কাজ শেষ হলেও সরকারের অনুমতি ছাড়া এটি নিক্ষেপ ও উড্ডয়ন করতে পারছেন না তারা।
দুজনে আগৈলঝাড়া উপজেলার উত্তর শিহিপাশা গ্রামের বাসিন্দা, একই বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী। তারা সম্পর্কে মামা ভাগ্নে এবং দুজনেই রোবটিক্স সেক্টর নিয়ে কাজ করছেন। এ কারণে দুজনের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক রয়েছে। তারা দুজনেই রোবটিক্স নিয়ে কাজ করায় আইডিইএ প্রকল্প থেকে ১০ লাখ টাকার ফান্ড পেয়েছিলেন। এছাড়া নাসা প্রকল্পের প্রতিযোগিতায় সেরা দশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছেন তারা দুজনে।
প্রিতম পাল রোবটিক্স হাত ও স্মার্ট সিটি তৈরি করায় ২০২৪ সালের ৪৫তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে স্বর্ণপদক ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে পুরস্কার হিসেবে রৌপ্যপদক পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণে ২০২৪ সালে উপজেলা পর্যায় বিজ্ঞানে বর্ষসেরা মেধাবী পুরস্কার পেয়েছিল। এছাড়াও আধুনিক জীবনযাপনের লক্ষ্যে স্মার্ট সিটির রূপরেখা তৈরি করেছেন।
সুজন চন্দ্র পাল ২০২২ সালে রোবট আবিষ্কার করেন, যা দিয়ে আগুন লাগলে ও গ্যাস লিকেজ হলে সংকেত দিত। যার কারণে ২০২৩ সালে ৪৪তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিল।
এ ব্যাপারে প্রিতম পালের পিতা ইউপি সচিব গৌতম পাল সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলে প্রিতম পাল টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে এবং আমাদের কাছ থেকেও টাকা নিয়ে এ আবিষ্কার করেছে। আমরা তাদের কাজে গর্বিত, তারা যেন দেশের সেবায় কাজ করতে পারে এজন্য সরকার ও দেশবাসীর কাজে সহযোগিতা ও দোয়া চাই।
সরকারী গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.জহিরুল হক বলেন, সুজন ও প্রিতম আমার বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ছিল। তারা আমাদের গর্ব, তাদের আবিষ্কার বিদ্যালয় ও আগৈলঝাড়া উপজেলার সুনাম বয়ে এনেছে। আমরা তাদের দুজনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আগৈলঝাড়ায় মামা-ভাগ্নের ঘণ্টায় ৩শ কিমি গতির মিসাইল ও রকেট তৈরি

Update Time : ০৭:০৯:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
Print

মো:আশরাফ,বরিশাল ক্রাইম রিপোর্টার:

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের গৌতম পালের ছেলে ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র প্রিতম পাল ও তার মামা একই গ্রামের জয়দেব চন্দ্র পালের ছেলে ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সুজন চন্দ্র পাল মিলে থান্ডারবোল্ড মিসাইল এবং রকেট তৈরির কাজ শুরু করেন। মামা-ভাগ্নের আবিষ্কার ‘থান্ডারবোল্ড মিসাইল এবং রকেট’। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা চিন্তা করে দেশের স্বার্থে নিজেদের উদ্যোগ ও অর্থায়নে তাদের এ আবিষ্কার।
নিজেদের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে ও পরিবারের সহযোগিতা নিয়ে ২০২৫ সালে শুরু করে ৬-৭ মাসের চেষ্টায় ৭ লাখ টাকা ব্যয় করে সম্প্রতি মিসাইল এবং রকেটের কাজ সম্পন্ন করেছেন। এই মিসাইল ও রকেট ৫ কিলোমিটার রেঞ্জে ঘণ্টায় ৩শ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম। মিসাইল এবং রকেটের কাজ শেষ হলেও সরকারের অনুমতি ছাড়া এটি নিক্ষেপ ও উড্ডয়ন করতে পারছেন না তারা।
দুজনে আগৈলঝাড়া উপজেলার উত্তর শিহিপাশা গ্রামের বাসিন্দা, একই বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী। তারা সম্পর্কে মামা ভাগ্নে এবং দুজনেই রোবটিক্স সেক্টর নিয়ে কাজ করছেন। এ কারণে দুজনের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক রয়েছে। তারা দুজনেই রোবটিক্স নিয়ে কাজ করায় আইডিইএ প্রকল্প থেকে ১০ লাখ টাকার ফান্ড পেয়েছিলেন। এছাড়া নাসা প্রকল্পের প্রতিযোগিতায় সেরা দশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছেন তারা দুজনে।
প্রিতম পাল রোবটিক্স হাত ও স্মার্ট সিটি তৈরি করায় ২০২৪ সালের ৪৫তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে স্বর্ণপদক ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে পুরস্কার হিসেবে রৌপ্যপদক পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণে ২০২৪ সালে উপজেলা পর্যায় বিজ্ঞানে বর্ষসেরা মেধাবী পুরস্কার পেয়েছিল। এছাড়াও আধুনিক জীবনযাপনের লক্ষ্যে স্মার্ট সিটির রূপরেখা তৈরি করেছেন।
সুজন চন্দ্র পাল ২০২২ সালে রোবট আবিষ্কার করেন, যা দিয়ে আগুন লাগলে ও গ্যাস লিকেজ হলে সংকেত দিত। যার কারণে ২০২৩ সালে ৪৪তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিল।
এ ব্যাপারে প্রিতম পালের পিতা ইউপি সচিব গৌতম পাল সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলে প্রিতম পাল টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে এবং আমাদের কাছ থেকেও টাকা নিয়ে এ আবিষ্কার করেছে। আমরা তাদের কাজে গর্বিত, তারা যেন দেশের সেবায় কাজ করতে পারে এজন্য সরকার ও দেশবাসীর কাজে সহযোগিতা ও দোয়া চাই।
সরকারী গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.জহিরুল হক বলেন, সুজন ও প্রিতম আমার বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ছিল। তারা আমাদের গর্ব, তাদের আবিষ্কার বিদ্যালয় ও আগৈলঝাড়া উপজেলার সুনাম বয়ে এনেছে। আমরা তাদের দুজনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।