ঢাকা ০৭:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বকশীগঞ্জে গৃহবধূর ঘরে ঢুকে ধর্ষণচেষ্টা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ: ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি, তদন্তে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৭:৩০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৩৯ Time View
Print

মো: শিহাব মাহমুদ,জামালপুর জেলা প্রতিনিধি:

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার মালিরচর নয়াপাড়া গ্রামে ৩৫ বছর বয়সী এক গৃহবধূর ঘরে ঢুকে ধর্ষণচেষ্টা ও আগুন দেওয়ার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। এজাহারে আনুমানিক ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার ৩ দিন পর আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মামলার তদন্ত করছেন বকশীগঞ্জ থানার এসআই আসাদুজ্জামান।

ভুক্তভোগীর পরিবারের লিখিত এজাহারে মনোয়ার হোসেন (৫০), পিতা মৃত আয়নাল হককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে অভিযুক্ত বসতঘরে প্রবেশ করে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। গৃহবধূর চিৎকারে ও বাধার মুখে ব্যর্থ হয়ে ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। আগুনে ঘরের খাট, আলনা, কাপড়চোপড়সহ দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র পুড়ে আনুমানিক প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনোয়ার হোসেন অভিযোগ সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি অটো চালাই, দিন আনি দিন খাই। পূর্ব শত্রুতার জেরে আমার নামে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

অভিযুক্তের বোন জামাই বায়জিদ জানান, “মনোয়ার সারাদিন অটো চালায়। রাতে বাড়ি ফিরে ঘুমায়। তার পক্ষে এমন কাজ করা সম্ভব না। পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। আমরা চাই পুলিশ সঠিক তদন্ত করে আসল ঘটনা বের করুক।”

ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আসাদুজ্জামান জানান, “অভিযোগ পাওয়ার পর আজ ২১ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। পোড়া আলামত ও অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ জব্দ করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের চেষ্টা চলছে। কেন ঘটনার পরপর পুলিশকে জানানো হয়নি, সেটাও তদন্তে দেখা হচ্ছে।”

বকশীগঞ্জ থানার ওসি জানিয়েছেন, “অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় এবং প্রকৃত দোষী যেন ছাড় না পায়, সেটা নিশ্চিত করা হবে।”

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বকশীগঞ্জে গৃহবধূর ঘরে ঢুকে ধর্ষণচেষ্টা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ: ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি, তদন্তে পুলিশ

Update Time : ০৭:৩০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
Print

মো: শিহাব মাহমুদ,জামালপুর জেলা প্রতিনিধি:

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার মালিরচর নয়াপাড়া গ্রামে ৩৫ বছর বয়সী এক গৃহবধূর ঘরে ঢুকে ধর্ষণচেষ্টা ও আগুন দেওয়ার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। এজাহারে আনুমানিক ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার ৩ দিন পর আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মামলার তদন্ত করছেন বকশীগঞ্জ থানার এসআই আসাদুজ্জামান।

ভুক্তভোগীর পরিবারের লিখিত এজাহারে মনোয়ার হোসেন (৫০), পিতা মৃত আয়নাল হককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে অভিযুক্ত বসতঘরে প্রবেশ করে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। গৃহবধূর চিৎকারে ও বাধার মুখে ব্যর্থ হয়ে ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। আগুনে ঘরের খাট, আলনা, কাপড়চোপড়সহ দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র পুড়ে আনুমানিক প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনোয়ার হোসেন অভিযোগ সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি অটো চালাই, দিন আনি দিন খাই। পূর্ব শত্রুতার জেরে আমার নামে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

অভিযুক্তের বোন জামাই বায়জিদ জানান, “মনোয়ার সারাদিন অটো চালায়। রাতে বাড়ি ফিরে ঘুমায়। তার পক্ষে এমন কাজ করা সম্ভব না। পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। আমরা চাই পুলিশ সঠিক তদন্ত করে আসল ঘটনা বের করুক।”

ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আসাদুজ্জামান জানান, “অভিযোগ পাওয়ার পর আজ ২১ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। পোড়া আলামত ও অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ জব্দ করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের চেষ্টা চলছে। কেন ঘটনার পরপর পুলিশকে জানানো হয়নি, সেটাও তদন্তে দেখা হচ্ছে।”

বকশীগঞ্জ থানার ওসি জানিয়েছেন, “অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় এবং প্রকৃত দোষী যেন ছাড় না পায়, সেটা নিশ্চিত করা হবে।”