👥 প্রতিনিধি তালিকা 📰 ই-পেপার
ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্যামনগরে লবণাক্ততা নিরসন এবং উপকূলীয় কৃষি অভিযোজন বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

নিজেস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৭:০২:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১৪ Time View
Print

মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে বাড়ছে মাটির লবণাক্ততা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক করার লক্ষ্যে লবণাক্ততা নিরসন ও উপকূলীয় কৃষি অভিযোজন বিষয়ক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের আয়োজনে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পানখালী এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২০ জন কৃষক ও কৃষাণী অংশ নেন। প্রশিক্ষক ছিলেন দক্ষিণ শ্রীফলকাটি এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক গোবিন্দ মণ্ডল। এতে সভাপতিত্ব করেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট-তেরকাটি গ্রামের প্রবীণ কৃষক সাধন কুমার বিশ্বাস।প্রশিক্ষণে জোয়ারের লবণাক্ত পানি প্রবেশ এবং অপরিকল্পিত চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষের কারণে কৃষিজমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এ সংকট মোকাবিলায় লবণসহিষ্ণু ফসলের জাত সম্প্রসারণ, উন্নত সেচ ব্যবস্থাপনা এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।এ সময় কৃষকদের লবণসহিষ্ণু ধানের জাত, আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষ, বেড পদ্ধতি, প্রাকৃতিক মালচিং, জলপট্টি, স্যালাইন ও টাওয়ার পদ্ধতিতে চাষাবাদ সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্থানীয় জাতের বীজ সংরক্ষণে কমিউনিটিভিত্তিক বীজ ব্যাংক গড়ে তোলা এবং কৃষকদের মধ্যে বীজ বিনিময় জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।পরিকল্পনা সভার মুক্ত আলোচনায় কৃষকেরা তাঁদের মাঠপর্যায়ের সমস্যা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বক্তারা উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি কৃষকদের সচেতনতা, স্থানীয় জ্ঞান ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের গ্রিন কোয়ালিশনের সদস্য হীরা পারভীন, পানখালী এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক কনিকা রানী ও বারসিকের মনিকা পাইকসহ স্থানীয় কৃষক ও কৃষাণীরা।কর্মশালার শেষ পর্যায়ে উপকূলীয় অঞ্চলের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

শ্যামনগরে লবণাক্ততা নিরসন এবং উপকূলীয় কৃষি অভিযোজন বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

Update Time : ০৭:০২:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Print

মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে বাড়ছে মাটির লবণাক্ততা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক করার লক্ষ্যে লবণাক্ততা নিরসন ও উপকূলীয় কৃষি অভিযোজন বিষয়ক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের আয়োজনে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পানখালী এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২০ জন কৃষক ও কৃষাণী অংশ নেন। প্রশিক্ষক ছিলেন দক্ষিণ শ্রীফলকাটি এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক গোবিন্দ মণ্ডল। এতে সভাপতিত্ব করেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট-তেরকাটি গ্রামের প্রবীণ কৃষক সাধন কুমার বিশ্বাস।প্রশিক্ষণে জোয়ারের লবণাক্ত পানি প্রবেশ এবং অপরিকল্পিত চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষের কারণে কৃষিজমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এ সংকট মোকাবিলায় লবণসহিষ্ণু ফসলের জাত সম্প্রসারণ, উন্নত সেচ ব্যবস্থাপনা এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।এ সময় কৃষকদের লবণসহিষ্ণু ধানের জাত, আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষ, বেড পদ্ধতি, প্রাকৃতিক মালচিং, জলপট্টি, স্যালাইন ও টাওয়ার পদ্ধতিতে চাষাবাদ সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্থানীয় জাতের বীজ সংরক্ষণে কমিউনিটিভিত্তিক বীজ ব্যাংক গড়ে তোলা এবং কৃষকদের মধ্যে বীজ বিনিময় জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।পরিকল্পনা সভার মুক্ত আলোচনায় কৃষকেরা তাঁদের মাঠপর্যায়ের সমস্যা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বক্তারা উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি কৃষকদের সচেতনতা, স্থানীয় জ্ঞান ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের গ্রিন কোয়ালিশনের সদস্য হীরা পারভীন, পানখালী এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক কনিকা রানী ও বারসিকের মনিকা পাইকসহ স্থানীয় কৃষক ও কৃষাণীরা।কর্মশালার শেষ পর্যায়ে উপকূলীয় অঞ্চলের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।