নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা: বাংলাদেশ প্রেসক্লাব শার্শা উপজেলা শাখার তীব্র প্রতিবাদ
- Update Time : ০২:১৫:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ৩০ Time View

স্টাফ রিপোর্টার :নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘রূপসী বাংলা’র জেলা প্রতিনিধি লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গভীর শোক, তীব্র নিন্দা ও জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব শার্শা উপজেলা শাখা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে দুর্গাপুর পৌরসভার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উতরাইল বাজারে দুর্বৃত্তদের গুলিতে সাংবাদিক আলিফ নিহত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেলে আসা দুই যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় বাংলাদেশ প্রেসক্লাব শার্শা উপজেলা শাখার আহবায়ক/প্রস্তাবিত সভাপতি সাংবাদিক আসাদুজ্জামান (আসাদ) ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা বলেন, একজন পেশাদার সংবাদকর্মীর এভাবে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া অত্যন্ত মর্মান্তিক ও উদ্বেগের। এটি কেবল একটি পরিবারকে অসহায় করে দেয়নি, বরং সমগ্র দেশের সাংবাদিক সমাজের নিরাপত্তা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে।
উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। স্বাধীন গণমাধ্যম, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কলম ধরার কারণে কেউ হামলার শিকার হলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। কোনো সাংবাদিকের কণ্ঠ রুদ্ধ করার চেষ্টা স্বাধীন গণমাধ্যম ও জনগণের তথ্য জানার অধিকারের ওপর নগ্ন আঘাত।
জানা গেছে, এর আগেও সাংবাদিক আলিফ ফকিরকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছিল। পূর্বের সেই হামলার সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, এবং তৎকালীন অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী পদক্ষেপ নিয়েছিল—তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে ।
তারা জোর দিয়ে বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর কেবল আনুষ্ঠানিক শোক প্রকাশ যথেষ্ট নয়। এর নেপথ্যে থাকা মূল পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা ও সহযোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে নিহত সাংবাদিকের পরিবারের পূর্ণ নিরাপত্তা, উপযুক্ত আর্থিক সহায়তা এবং তড়িৎ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ প্রেসক্লাব শার্শা উপজেলা শাখা মনে করে—সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার অর্থই হলো গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও জনগণের অধিকার রক্ষা করা। ভবিষ্যতে অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে যেন আর কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে প্রাণ দিতে না হয়, সে বিষয়ে রাষ্ট্র, প্রশাসন ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সকল সাংবাদিক সংগঠনকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।




















