ঢাকা ০৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাস্থ্য বিভাগে অভিযোগ ‘হোমিও ডাক্তার’ মুনতাজের বিরুদ্ধে

যশোর প্রতিনিধি:
  • Update Time : ০১:১৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২২ Time View
Print

যশোর প্রতিনিধি:

এক সময় ছিলেন হুজুর। হঠাৎ একদিন নিজেকে ‘হোমিও ডাক্তার’ পরিচয় দিয়ে শুরু করেন চিকিৎসা কার্যক্রম। এরপর যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের মোমিননগর গ্রামে চেম্বার খুলে প্রচার চালাতে থাকেন ‘সর্বরোগের ডাক্তার’ হিসেবে। তার চিকিৎসা যোগ্যতা ও সনদ নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি কীভাবে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন, তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

এবার কথিত চিকিৎসক মুনতাজ আলীর বিরুদ্ধে যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক ভুক্তভোগী। অভিযোগে বলা হয়েছে, মুনতাজ আলী কোনো স্বীকৃত চিকিৎসক নন। পিটিএফ নামে একটি কথিত ‘মিনিমেডিকেল’ প্রতিষ্ঠান থেকে সনদ নিয়ে তিনি চিকিৎসকের পরিচয়ে রোগী দেখছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, যে প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি সনদ নিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে, সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে এর আগে একাধিকবার জরিমানা করার অভিযোগ রয়েছে।

সন্তান হওয়ার আশ্বাসে ৫০ হাজার থেকে লাখ টাকা
লিখিত অভিযোগে ওই ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, সন্তান হওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও তিনি কোনো সুফল পাননি।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, সন্তান হওয়ার কথা বলে রোগীপ্রতি ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। শুধু একজন নয়, এমন আরও অনেক রোগীর কাছ থেকেও একইভাবে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মুনতাজ আলী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

‘ডাক্তার’ পরিচয় নিয়েও আইনি প্রশ্ন
চিকিৎসকের পরিচয় ও ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশের আইনে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর ২৯ ধারায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত চিকিৎসা-যোগ্যতা ছাড়া নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করা যাবে না। এই বিধান লঙ্ঘন করলে আইনে শাস্তির বিধানও রয়েছে।
এ ছাড়া একই আইনের ২৮ ধারায় নিবন্ধিত না হয়েও নিজেকে নিবন্ধিত মেডিকেল চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আর ২২ ধারায় কাউন্সিলে নিবন্ধন ছাড়া এলোপ্যাথিক চিকিৎসা করা বা নিজেকে মেডিকেল চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।

আওয়ামী লীগ আমলে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ
অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অজ্ঞাত ক্ষমতার কারণে মুনতাজ আলীর বিরুদ্ধে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো সরকারি নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, একসময় আর্থিকভাবে স্বচ্ছল না থাকা মুনতাজ আলীর জীবনযাত্রায় পরবর্তীতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। চিকিৎসার ব্যবসা করে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।

অভিযোগের পর তদন্তে স্বাস্থ্য বিভাগ
যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কথিত চিকিৎসক মুনতাজ আলী ও তার এক সহকারীর বিরুদ্ধে একজন ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে অভিযোগকারীর পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।

সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

স্বাস্থ্য বিভাগে অভিযোগ ‘হোমিও ডাক্তার’ মুনতাজের বিরুদ্ধে

Update Time : ০১:১৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Print

যশোর প্রতিনিধি:

এক সময় ছিলেন হুজুর। হঠাৎ একদিন নিজেকে ‘হোমিও ডাক্তার’ পরিচয় দিয়ে শুরু করেন চিকিৎসা কার্যক্রম। এরপর যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের মোমিননগর গ্রামে চেম্বার খুলে প্রচার চালাতে থাকেন ‘সর্বরোগের ডাক্তার’ হিসেবে। তার চিকিৎসা যোগ্যতা ও সনদ নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি কীভাবে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন, তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

এবার কথিত চিকিৎসক মুনতাজ আলীর বিরুদ্ধে যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক ভুক্তভোগী। অভিযোগে বলা হয়েছে, মুনতাজ আলী কোনো স্বীকৃত চিকিৎসক নন। পিটিএফ নামে একটি কথিত ‘মিনিমেডিকেল’ প্রতিষ্ঠান থেকে সনদ নিয়ে তিনি চিকিৎসকের পরিচয়ে রোগী দেখছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, যে প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি সনদ নিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে, সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে এর আগে একাধিকবার জরিমানা করার অভিযোগ রয়েছে।

সন্তান হওয়ার আশ্বাসে ৫০ হাজার থেকে লাখ টাকা
লিখিত অভিযোগে ওই ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, সন্তান হওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও তিনি কোনো সুফল পাননি।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, সন্তান হওয়ার কথা বলে রোগীপ্রতি ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। শুধু একজন নয়, এমন আরও অনেক রোগীর কাছ থেকেও একইভাবে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মুনতাজ আলী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

‘ডাক্তার’ পরিচয় নিয়েও আইনি প্রশ্ন
চিকিৎসকের পরিচয় ও ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশের আইনে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর ২৯ ধারায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত চিকিৎসা-যোগ্যতা ছাড়া নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করা যাবে না। এই বিধান লঙ্ঘন করলে আইনে শাস্তির বিধানও রয়েছে।
এ ছাড়া একই আইনের ২৮ ধারায় নিবন্ধিত না হয়েও নিজেকে নিবন্ধিত মেডিকেল চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আর ২২ ধারায় কাউন্সিলে নিবন্ধন ছাড়া এলোপ্যাথিক চিকিৎসা করা বা নিজেকে মেডিকেল চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।

আওয়ামী লীগ আমলে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ
অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অজ্ঞাত ক্ষমতার কারণে মুনতাজ আলীর বিরুদ্ধে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো সরকারি নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, একসময় আর্থিকভাবে স্বচ্ছল না থাকা মুনতাজ আলীর জীবনযাত্রায় পরবর্তীতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। চিকিৎসার ব্যবসা করে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।

অভিযোগের পর তদন্তে স্বাস্থ্য বিভাগ
যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কথিত চিকিৎসক মুনতাজ আলী ও তার এক সহকারীর বিরুদ্ধে একজন ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে অভিযোগকারীর পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।

সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।