ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজাপুরে গভীর রাতে দুই বাসায় চোরের হানা, নারীকে কুপিয়ে স্বর্ণালংকার লুট ।

Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৮ Time View
Print

নিজেস্ব প্রতিবেদন:দৈনিক বাংলাদেশর চিত্র
ঝালকাঠির রাজাপুরে গভীর রাতে একটি ভবনের দুই বাসায় হানা দিয়েছে অজ্ঞাতনামা এক চোর। এ সময় নওরীন (২৪) নামে এক নারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে নয় আনা ওজনের স্বর্ণালংকার ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে চোর। একই ভবনের তৃতীয় তলায় এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বাসার দরজাও খোলা পাওয়া গেছে। তবে ওই বাসা থেকে কোনো মালামাল খোয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলা সদরের আদর্শপাড়া এলাকায় ফকির কাউয়ুম হোসেনের ভবনে এ ঘটনা ঘটে। আহত নওরীন ওই ভবনের চতুর্থ তলার ভাড়াটিয়া। তিনি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া গ্রামের মো. মোসলেম মোল্লার মেয়ে। নওরীন ও তাঁর স্বামী মো. শাহিন হোসেন (২৯) স্থানীয় সোহাগ জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত।
পুলিশ ও ভবনের মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার সময় নওরীনের স্বামী নাইট শিফটে কর্মস্থলে ছিলেন। তাঁর শাশুড়িও বাড়িতে না থাকায় নওরীন একাই বাসায় ছিলেন। রাতের কোনো একসময় চোর রান্নাঘরের অ্যাডজাস্ট ফ্যান লাগানোর ফাঁকা জায়গা দিয়ে বাসায় প্রবেশ করে।
চোরের উপস্থিতি টের পেয়ে নওরীন চিৎকার করে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় চোর ভেতর থেকে ঘরের দরজা আটকে দেয়। পরে রান্নাঘরে থাকা সবজি কাটার চাকু দিয়ে নওরীনের মুখমণ্ডল, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাকে আহত করে। একপর্যায়ে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে বাসা থেকে নয় আনা ওজনের স্বর্ণালংকার ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে একই পথ দিয়ে পালিয়ে যায়।
এদিকে একই ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাসকারী মাদ্রাসাশিক্ষক মনোজের বাসার দরজাও খোলা পাওয়া যায়। তবে দরজা কীভাবে খোলা হয়েছে, চোর ওই বাসায় প্রবেশ করেছিল কি না কিংবা সেখান থেকে কোনো মালামাল খোয়া গেছে কি না—এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আহত নওরীন মোবাইল ফোনে তাঁর স্বামীকে বিষয়টি জানান। পরে তাঁর স্বামী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে রাজাপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে বাড়ির মালিক ও অন্য ভাড়াটিয়াদের সহায়তায় দরজা ভেঙে নওরীনকে উদ্ধার করা হয়।
রাত পৌনে ৪টার দিকে তাকে সোহাগ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। চিকিৎসাধীন নওরীনের ডান হাতে পাঁচটি এবং ডান পায়ে তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাজাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুজন বিশ্বাস বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

রাজাপুরে গভীর রাতে দুই বাসায় চোরের হানা, নারীকে কুপিয়ে স্বর্ণালংকার লুট ।

Update Time : ১১:৫৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Print

নিজেস্ব প্রতিবেদন:দৈনিক বাংলাদেশর চিত্র
ঝালকাঠির রাজাপুরে গভীর রাতে একটি ভবনের দুই বাসায় হানা দিয়েছে অজ্ঞাতনামা এক চোর। এ সময় নওরীন (২৪) নামে এক নারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে নয় আনা ওজনের স্বর্ণালংকার ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে চোর। একই ভবনের তৃতীয় তলায় এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বাসার দরজাও খোলা পাওয়া গেছে। তবে ওই বাসা থেকে কোনো মালামাল খোয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলা সদরের আদর্শপাড়া এলাকায় ফকির কাউয়ুম হোসেনের ভবনে এ ঘটনা ঘটে। আহত নওরীন ওই ভবনের চতুর্থ তলার ভাড়াটিয়া। তিনি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া গ্রামের মো. মোসলেম মোল্লার মেয়ে। নওরীন ও তাঁর স্বামী মো. শাহিন হোসেন (২৯) স্থানীয় সোহাগ জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত।
পুলিশ ও ভবনের মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার সময় নওরীনের স্বামী নাইট শিফটে কর্মস্থলে ছিলেন। তাঁর শাশুড়িও বাড়িতে না থাকায় নওরীন একাই বাসায় ছিলেন। রাতের কোনো একসময় চোর রান্নাঘরের অ্যাডজাস্ট ফ্যান লাগানোর ফাঁকা জায়গা দিয়ে বাসায় প্রবেশ করে।
চোরের উপস্থিতি টের পেয়ে নওরীন চিৎকার করে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় চোর ভেতর থেকে ঘরের দরজা আটকে দেয়। পরে রান্নাঘরে থাকা সবজি কাটার চাকু দিয়ে নওরীনের মুখমণ্ডল, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাকে আহত করে। একপর্যায়ে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে বাসা থেকে নয় আনা ওজনের স্বর্ণালংকার ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে একই পথ দিয়ে পালিয়ে যায়।
এদিকে একই ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাসকারী মাদ্রাসাশিক্ষক মনোজের বাসার দরজাও খোলা পাওয়া যায়। তবে দরজা কীভাবে খোলা হয়েছে, চোর ওই বাসায় প্রবেশ করেছিল কি না কিংবা সেখান থেকে কোনো মালামাল খোয়া গেছে কি না—এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আহত নওরীন মোবাইল ফোনে তাঁর স্বামীকে বিষয়টি জানান। পরে তাঁর স্বামী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে রাজাপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে বাড়ির মালিক ও অন্য ভাড়াটিয়াদের সহায়তায় দরজা ভেঙে নওরীনকে উদ্ধার করা হয়।
রাত পৌনে ৪টার দিকে তাকে সোহাগ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। চিকিৎসাধীন নওরীনের ডান হাতে পাঁচটি এবং ডান পায়ে তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাজাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুজন বিশ্বাস বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।