ঢাকা ০৭:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিম বিক্রেতার জালিয়াতিতে নিঃস্ব পরিবার পিবিআইয়ের নোটিশে নীলফামারীর বৃদ্ধা মেরেজা বেগম চরম সংকটে

Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৩৯ Time View

Screenshot

Print

প্রতিবেদন: নবাব রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার অসাধু সিম বিক্রেতা চক্রের বায়োমেট্রিক জালিয়াতি ও প্রতারণার শিকার হয়ে মারাত্মক আইনি জটিলতায় পড়েছেন নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার এক অসহায় পরিবার। প্রতারকদের চক্রান্তে পড়ে এখন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর তলব নোটিশ মাথায় নিয়ে দিশেহারা ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মোছা. মেরেজা বেগম।নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানাধীন বাহাগিলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বসুনিয়া পাড়ার বাসিন্দা মোছা. মেরেজা বেগম (৬৫)। তাঁর পিতা মৃত আব্দুল মতিন এবং মাতা ছালেহা বেগম।পরিবারে মোট সদস্য পাঁচজন। মেরেজা বেগমের স্বামী মো. হজাই মামুদ দীর্ঘদিন ধরে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় কোনো কাজ করতে পারেন না। একমাত্র ছেলেও মানসিক ভারসাম্যহীন। এমনকি নাতি-নাতনিরাও মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।এ অবস্থায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হলেন বৃদ্ধা মেরেজা বেগম। জীবনসংগ্রামের তাগিদে এই বয়সেও তিনি সৈয়দপুরের ‘কলা বারি সুতলি কোম্পানিতে’ শ্রমিকের কাজ করেন।ঘটনার সূত্রপাত প্রায় পাঁচ মাস আগে। প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা পাওয়ার আশায় কেল্লাবাড়ি বাজারে এক মোবাইল সিম বিক্রেতার কাছে গ্রামীণফোনের একটি সিম কিনতে যান মেরেজা বেগম।অভিযোগ রয়েছে, সেই সুযোগে অসাধু সিম বিক্রেতা চক্রটি তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করে। একটি সিম দেওয়ার কথা বলে বৃদ্ধার কাছ থেকে তিন থেকে চারবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট (টিপছাপ) নেওয়া হয়। পরে তাঁর অজান্তে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে ০১৩৪৬৩৪৭৬৭৬ নম্বরের আরও একটি সিম গোপনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিবন্ধন করা হয় বলে অভিযোগ।
পরবর্তীতে নাম-পরিচয়হীন ওই প্রতারক চক্রটি বৃদ্ধার নামে নিবন্ধিত কথিত গোপন মোবাইল নম্বর ০১৩৪৬৩৪৭৬৭৬ ব্যবহার করে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলে বিভিন্ন অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও প্রতারণা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানার বড় লক্ষ্মীপুর গ্রামের মো. মনির (৪১), পিতা: সিরাজ মিয়া, বাদী হয়ে বিজ্ঞ আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন।
মামলার নম্বর—সিআর ৩১৭/২৬ (বরুড়া)। তারিখ—২১/০৫/২০২৬। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৫০৬(২)/১০৯ ধারার উল্লেখ রয়েছে।মামলাটির তদন্তভার পড়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), কুমিল্লা জেলার ওপর। পিবিআই কুমিল্লা জেলার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আশিক (বিপি-৯৫২৩২৪৬৪২৪)-এর স্বাক্ষরিত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬০ ধারার একটি নোটিশে বৃদ্ধা মেরেজা বেগমকে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ তিন কার্যদিবসের মধ্যে পিবিআই কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।যেখানে একদিনের খাবারের ব্যবস্থা করতেই বৃদ্ধা মেরেজা বেগমকে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে নীলফামারী থেকে সুদূর কুমিল্লায় গিয়ে পিবিআই কার্যালয়ে হাজির হওয়া তাঁর পক্ষে অত্যন্ত কঠিন।আইনি জটিলতা ও আর্থিক অনটনের কারণে পুরো পরিবারটি বর্তমানে চরম আতঙ্ক ও মানসিক দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।ভুক্তভোগী পরিবারের আকুল দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অসাধু সিম বিক্রেতা ও প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনে এবং নির্দোষ বৃদ্ধা মেরেজা বেগমকে হয়রানি থেকে মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

সিম বিক্রেতার জালিয়াতিতে নিঃস্ব পরিবার পিবিআইয়ের নোটিশে নীলফামারীর বৃদ্ধা মেরেজা বেগম চরম সংকটে

Update Time : ০৪:৩৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Print

প্রতিবেদন: নবাব রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার অসাধু সিম বিক্রেতা চক্রের বায়োমেট্রিক জালিয়াতি ও প্রতারণার শিকার হয়ে মারাত্মক আইনি জটিলতায় পড়েছেন নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার এক অসহায় পরিবার। প্রতারকদের চক্রান্তে পড়ে এখন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর তলব নোটিশ মাথায় নিয়ে দিশেহারা ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মোছা. মেরেজা বেগম।নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানাধীন বাহাগিলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বসুনিয়া পাড়ার বাসিন্দা মোছা. মেরেজা বেগম (৬৫)। তাঁর পিতা মৃত আব্দুল মতিন এবং মাতা ছালেহা বেগম।পরিবারে মোট সদস্য পাঁচজন। মেরেজা বেগমের স্বামী মো. হজাই মামুদ দীর্ঘদিন ধরে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় কোনো কাজ করতে পারেন না। একমাত্র ছেলেও মানসিক ভারসাম্যহীন। এমনকি নাতি-নাতনিরাও মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।এ অবস্থায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হলেন বৃদ্ধা মেরেজা বেগম। জীবনসংগ্রামের তাগিদে এই বয়সেও তিনি সৈয়দপুরের ‘কলা বারি সুতলি কোম্পানিতে’ শ্রমিকের কাজ করেন।ঘটনার সূত্রপাত প্রায় পাঁচ মাস আগে। প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা পাওয়ার আশায় কেল্লাবাড়ি বাজারে এক মোবাইল সিম বিক্রেতার কাছে গ্রামীণফোনের একটি সিম কিনতে যান মেরেজা বেগম।অভিযোগ রয়েছে, সেই সুযোগে অসাধু সিম বিক্রেতা চক্রটি তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করে। একটি সিম দেওয়ার কথা বলে বৃদ্ধার কাছ থেকে তিন থেকে চারবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট (টিপছাপ) নেওয়া হয়। পরে তাঁর অজান্তে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে ০১৩৪৬৩৪৭৬৭৬ নম্বরের আরও একটি সিম গোপনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিবন্ধন করা হয় বলে অভিযোগ।
পরবর্তীতে নাম-পরিচয়হীন ওই প্রতারক চক্রটি বৃদ্ধার নামে নিবন্ধিত কথিত গোপন মোবাইল নম্বর ০১৩৪৬৩৪৭৬৭৬ ব্যবহার করে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলে বিভিন্ন অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও প্রতারণা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানার বড় লক্ষ্মীপুর গ্রামের মো. মনির (৪১), পিতা: সিরাজ মিয়া, বাদী হয়ে বিজ্ঞ আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন।
মামলার নম্বর—সিআর ৩১৭/২৬ (বরুড়া)। তারিখ—২১/০৫/২০২৬। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৫০৬(২)/১০৯ ধারার উল্লেখ রয়েছে।মামলাটির তদন্তভার পড়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), কুমিল্লা জেলার ওপর। পিবিআই কুমিল্লা জেলার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আশিক (বিপি-৯৫২৩২৪৬৪২৪)-এর স্বাক্ষরিত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬০ ধারার একটি নোটিশে বৃদ্ধা মেরেজা বেগমকে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ তিন কার্যদিবসের মধ্যে পিবিআই কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।যেখানে একদিনের খাবারের ব্যবস্থা করতেই বৃদ্ধা মেরেজা বেগমকে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে নীলফামারী থেকে সুদূর কুমিল্লায় গিয়ে পিবিআই কার্যালয়ে হাজির হওয়া তাঁর পক্ষে অত্যন্ত কঠিন।আইনি জটিলতা ও আর্থিক অনটনের কারণে পুরো পরিবারটি বর্তমানে চরম আতঙ্ক ও মানসিক দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।ভুক্তভোগী পরিবারের আকুল দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অসাধু সিম বিক্রেতা ও প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনে এবং নির্দোষ বৃদ্ধা মেরেজা বেগমকে হয়রানি থেকে মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করে।