ঢাকা ০৯:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি জমি ও রাস্তা দখল করে সাবেক বিএনপি নেতার অবৈধ ভবন নির্মাণ যশোর অফিস :

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:১৭:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৭ Time View
Print

যশোর অফিস : যশোর সদর উপজেলার ৮নং দেয়াড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী ফরিদপুর নতুন বাজারে সরকারি রাস্তা ও খাসজমি জবরদখল করে পাকা দোতলা ভবন ও সিঁড়ি নির্মাণের মহোৎসব চলছে। প্রভাবশালী মহলের এমন বেপরোয়া দখলে বাজারের স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের চরম জনদুর্ভোগ এবং বারবার বাধা সত্ত্বেও কোনো তোয়াক্কা না করে অবৈধ নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর নতুন বাজারের মধ্য দিয়ে ২৬ ফুটের একটি প্রশস্ত সরকারি পাকা রাস্তা রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি নিয়মনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাস্তার পূর্ব পাশ থেকে প্রায় ১০ ফুট সরকারি জায়গা গ্রাস করে পাকা দোতলা দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বাজারের ক্রেতা-সাধারণের চলাচলের একমাত্র রাস্তার ঠিক ওপর দিয়েই ঝুলন্ত সিঁড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করে এলাকাবাসী জানান, এলাকার চিহ্নিত রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী মো. আমির হোসেন (পিতা: আবুল হোসেন, সাং- ফরিদপুর) এই অবৈধ নির্মাণের মূল হোতা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর নিজের মালিকানাধীন পাশের ১৩৪৯ দাগে মাত্র ৬০ পয়েন্ট বা ০.৬০ শতাংশ জমি থাকা সত্ত্বেও, তিনি সেই জমির সীমানা লঙ্ঘন করে জোরপূর্বক সরকারি ১৩৫০ দাগের জমিতে এই বিশাল স্থাপনা তুলে চলেছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ফরিদপুর নতুন বাজারের নামে সরকারি ১৩৫০ দাগে মোট ২৬ শতাংশ জমি রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বর্তমানে মাত্র ১৬ শতাংশ জমি বাজারের জিম্মায় বা উন্মুক্ত রয়েছে। বাকি প্রায় ১০ শতাংশ জমি আমির হোসেনসহ এলাকার বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির পেটে চলে গেছে। অপরিকল্পিত ও অবৈধ দখলের কারণে বাজারটি দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে।
বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ীরা আক্ষেপ করে জানান, একসময়ের জমজমাট এই বাজারটি এখন আয়তনে ছোট হয়ে যাওয়ায় ক্রেতা সমাগম দিন দিন কমছে। অবিলম্বে অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে বাজারের বাকি জমি উদ্ধার না করলে ভবিষ্যতে বাজারে আর কোনো জায়গা থাকবে না। তাই এলাকার সর্বস্তরের জনগণ সম্মিলিতভাবে দখলকৃত জমি মুক্ত করে বাজারের পরিধি সম্প্রসারণ এবং চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমির হোসেন জানান, ভূমি অফিসের নির্দেশে কাজ বন্ধ আছে। তারা এসে পরিদর্শন করে কাজ সঠিক মনে করলে যতটুপু কাজ করা হয়েছে ভেঙে ফেলা হবে। আর যদি আমার সব সঠিক থাকে আবারও কাজ শুরু করা হবে দ্রæত সময়ের মধ্যে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

সরকারি জমি ও রাস্তা দখল করে সাবেক বিএনপি নেতার অবৈধ ভবন নির্মাণ যশোর অফিস :

Update Time : ০৭:১৭:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
Print

যশোর অফিস : যশোর সদর উপজেলার ৮নং দেয়াড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী ফরিদপুর নতুন বাজারে সরকারি রাস্তা ও খাসজমি জবরদখল করে পাকা দোতলা ভবন ও সিঁড়ি নির্মাণের মহোৎসব চলছে। প্রভাবশালী মহলের এমন বেপরোয়া দখলে বাজারের স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের চরম জনদুর্ভোগ এবং বারবার বাধা সত্ত্বেও কোনো তোয়াক্কা না করে অবৈধ নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর নতুন বাজারের মধ্য দিয়ে ২৬ ফুটের একটি প্রশস্ত সরকারি পাকা রাস্তা রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি নিয়মনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাস্তার পূর্ব পাশ থেকে প্রায় ১০ ফুট সরকারি জায়গা গ্রাস করে পাকা দোতলা দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বাজারের ক্রেতা-সাধারণের চলাচলের একমাত্র রাস্তার ঠিক ওপর দিয়েই ঝুলন্ত সিঁড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করে এলাকাবাসী জানান, এলাকার চিহ্নিত রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী মো. আমির হোসেন (পিতা: আবুল হোসেন, সাং- ফরিদপুর) এই অবৈধ নির্মাণের মূল হোতা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর নিজের মালিকানাধীন পাশের ১৩৪৯ দাগে মাত্র ৬০ পয়েন্ট বা ০.৬০ শতাংশ জমি থাকা সত্ত্বেও, তিনি সেই জমির সীমানা লঙ্ঘন করে জোরপূর্বক সরকারি ১৩৫০ দাগের জমিতে এই বিশাল স্থাপনা তুলে চলেছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ফরিদপুর নতুন বাজারের নামে সরকারি ১৩৫০ দাগে মোট ২৬ শতাংশ জমি রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বর্তমানে মাত্র ১৬ শতাংশ জমি বাজারের জিম্মায় বা উন্মুক্ত রয়েছে। বাকি প্রায় ১০ শতাংশ জমি আমির হোসেনসহ এলাকার বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির পেটে চলে গেছে। অপরিকল্পিত ও অবৈধ দখলের কারণে বাজারটি দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে।
বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ীরা আক্ষেপ করে জানান, একসময়ের জমজমাট এই বাজারটি এখন আয়তনে ছোট হয়ে যাওয়ায় ক্রেতা সমাগম দিন দিন কমছে। অবিলম্বে অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে বাজারের বাকি জমি উদ্ধার না করলে ভবিষ্যতে বাজারে আর কোনো জায়গা থাকবে না। তাই এলাকার সর্বস্তরের জনগণ সম্মিলিতভাবে দখলকৃত জমি মুক্ত করে বাজারের পরিধি সম্প্রসারণ এবং চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমির হোসেন জানান, ভূমি অফিসের নির্দেশে কাজ বন্ধ আছে। তারা এসে পরিদর্শন করে কাজ সঠিক মনে করলে যতটুপু কাজ করা হয়েছে ভেঙে ফেলা হবে। আর যদি আমার সব সঠিক থাকে আবারও কাজ শুরু করা হবে দ্রæত সময়ের মধ্যে।