রাণীশংকৈলে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ব্ল্যাকমেইল মামলার প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার
- Update Time : ০৪:৫৭:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৬ Time View

স্টাফ রিপোর্টারঃ মোঃ আবু তাহের ইসলাম ।
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার অন্যতম আসামি মোঃ আল আমিনকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৩
গত ১১ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টা ৫ মিনিটে গাজীপুর মহানগরের সদর থানার ভাওরাইদ মোড় এলাকায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-১৩-এর একটি দল মোঃ আল আমিন নামের এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার হাটগাঁও গ্রামের মোঃ হানিফের ছেলে আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।
মূলত প্রবাসীর স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে ধর্ষণ,
ঘটনার গোপনে ভিডিও ধারণ এবং পরবর্তীতে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে গত ২০ আগস্ট রাণীশংকৈল থানায় দায়েরকৃত একটি চাঞ্চল্যকর মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তিনি।
এই ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিবিড় নজরদারির মাধ্যমে আসামিকে আইনের আওতায় আনতে বাধ্য করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পৈশাচিক ও ন্যক্কারজনক এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন ভুক্তভোগী নারী তার পিত্রালয়ে অবস্থানকালে বাথরুমে গোসল করতে যান। ওই সময় জনি নামের এক ব্যক্তি ভেন্টিলেটর ভেঙে বাথরুমের ভেতরে প্রবেশ করেন এবং পরবর্তীতে আল আমিনের সহায়তায় ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক ফের বাথরুমে আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। অপরাধের মাত্রা এখানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং জনি ও আল আমিনের সহযোগীরা সুকৌশলে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে।
পরবর্তী সময়ে এই স্পর্শকাতর ভিডিও দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে নানাভাবে মানসিক নির্যাতন, অনৈতিক সম্পর্কের জন্য চাপ এবং সর্বশেষে গত ২ আগস্ট মামলার আরেক আসামি তাথা কথিত সংবাদিক মাহবুব আলম ভুক্তভোগীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা পরিশোধ না করলে ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার চরম হুমকি দেওয়া হয়, যা অপরাধীদের সামাজিক অবক্ষয় এবং চরম নৈতিক পতনকেই স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।
র্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, মামলা দায়েরের পরপরই আসামিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়ায় এবং নিজেদের পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করে। গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে আল আমিনের অবস্থান নিশ্চিত করে র্যাব সদস্যরা তাকে গাজীপুর থেকে ধরতে সক্ষম হন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে জড়িত বাকি পলাতক আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করানোর জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে।
সমাজ ও রাষ্ট্রে নারী ও প্রবাসীদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে এই ধরনের ঘটনাগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক বার্তা দিচ্ছে। প্রবাসে অবস্থানরত একজন শ্রমিকের স্ত্রীর নিজ ঘরে চরম নিরাপত্তাহীনতার শিকার হওয়া এবং অপরাধীদের পর্নোগ্রাফির অপব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করার প্রবণতা আমাদের বিচার ব্যবস্থার দ্রুত ও কঠোর প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তাকে আরও বেশি জোরালো করে তুলেছে। এ মামলার দ্রুত বিচার এবং জড়িত সকল অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে অপরাধীরা এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটিত করার সাহস পেতেই থাকবে। সাধারণ মানুষের মাঝে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আস্থার জায়গাটি সুদৃঢ় করতে এই মামলার প্রতিটি অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
























