রাজাপুর সরকারি কলেজে সম্প্রীতির অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত
- Update Time : ০৫:২০:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৩ Time View

মোঃ কামরুল হাসান রানা,ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি:ঝালকাঠির রাজাপুর সরকারি কলেজে “সংঘাত নয়,শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি”এই স্লোগানকে সামনে রেখে রাজাপুর পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপের (পিএফজি) উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় কলেজের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ৪০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় শান্তি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা, সামাজিক সম্প্রীতি ও নাগরিক দায়িত্ববোধবিষয়ক বিভিন্ন বহুনির্বাচনী প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের জ্ঞান ও মেধা যাচাইয়ের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সামাজিক সম্প্রীতির গুরুত্ব সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়।
দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ-এর ‘মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (এমআইপিএস)’ প্রকল্পের আওতায় এবং এফসিডিও-এর অর্থায়নে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য হলো তরুণদের নেতৃত্বের বিকাশ, সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গঠনে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
প্রতিযোগিতায় একাদশ শ্রেণির অর্পিতা প্রথম, দ্বাদশ শ্রেণির তরিকুল ইসলাম দ্বিতীয় এবং একাদশ শ্রেণির ইয়াসিন আরাফাত তৃতীয় স্থান অর্জন করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানচর্চা, ইতিবাচক প্রতিযোগিতা এবং শান্তি ও সম্প্রীতির মূল্যবোধ বিকাশে উৎসাহ জোগায়।
রাজাপুর পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপের (পিএফজি) সমন্বয়কারী সৈয়দ হোসাইন আহমেদ বলেন, “শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিময় সমাজ গড়ে তুলতে তরুণদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বাড়াতে হবে। তরুণরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের মধ্যে যুক্তিবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। সম্প্রীতির অলিম্পিয়াডের মতো উদ্যোগ তরুণদের ইতিবাচক চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে উৎসাহিত করে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজাপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মতিয়ার রহমান। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের প্রকৃত বিকাশ শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানবিকতা, নৈতিকতা, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠাও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা বাড়াতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই বৈষম্যহীন, মানবিক ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গঠনের মানসিকতা তৈরি করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “তরুণদের ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে সমাজে পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ এবং সংশ্লিষ্ট যুব সংগঠনগুলোর উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ ধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে অনুপ্রাণিত করবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজাপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও পিএফজি সদস্য আবু সায়েম আকন, রাজাপুর সাংবাদিক ক্লাবের সভাপতি ও পিএফজি সদস্য রহিম রেজা, পিএফজি সদস্য মোঃ কামরুল হাসান রানা,ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপের (ওয়াইপিএজি) সহ-সমন্বয়কারী ও ছাত্র অধিকার পরিষদের জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল আমিন সাজু, ছাত্রসমাজের সদস্য সাইফুল ইসলাম সাব্বির, ওয়াইপিএজি সহ-সমন্বয়কারী সানজিদা আক্তার এবং সদস্য শ্রাবণী, স্বর্ণা রায়, তামিরা তারেক ইভা ও সুমাইয়া আক্তার লিজাসহ পিএফজি ও ওয়াইপিএজির অন্যান্য সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, “সম্প্রীতির অলিম্পিয়াড আয়োজন করার জন্য আমি দি হাঙ্গার প্রজেক্টের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। এ ধরনের আয়োজনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা শেখার, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার এবং নিজেদের বিকশিত করার সুযোগ পাই। একই সঙ্গে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক দায়িত্ববোধের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারি। এ অভিজ্ঞতা আমাদের আরও সক্রিয়, চিন্তাশীল ও দায়িত্বশীল সমাজসদস্য হতে অনুপ্রাণিত করে।”
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপের (ওয়াইপিএজি) সদস্য সাব্বির হোসেন। প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শান্তি, সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতির চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, তরুণদের মধ্যে সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার করার লক্ষ্যে ‘সম্প্রীতির অলিম্পিয়াড’ একটি অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে শান্তির সংস্কৃতি বিকাশ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাতমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।




















