যাদুকাটা নদীতে বিএনপি নেতাকে বালু তোলার অনুমতি স্থগিত করলো হাইকোর্ট
- Update Time : ১১:১৩:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
- / ৩৩ Time View

তৌফিকুর রহমান তাহের:সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদী থেকে বালু তোলার অনুমতি তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সাথে এই অনুমতির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরকারের প্রতি রুল জারি করা হয়েছে।
চলতি বাংলা বছরে নদীটির দুটি বালুমহাল থেকে বিএনপি নেতা মো: নাছির মিয়াকে বালু তোলার অনুমতি দিয়েছিল ভূমি মন্ত্রণালয়। নিজেকে ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ দাবি করে তিনি এই সুযোগ বাগিয়ে নেন। নাছির মিয়া তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং যাদুকাটা-২ বালুমহালের সাবেক ইজারাদার।
এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন অন্য এক সাবেক ইজারাদার ও সুনামগঞ্জ শহরের বাসিন্দা শাহ রুবেল আহমদ। তিনি নিজেও নিজেকে ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ দাবি করে আবেদন করলেও তাকে অনুমতি না দিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয় সেই মহালের ইজারা নাছির মিয়াকে দিয়েছিল। রিটের শুনানি শেষে গত মঙ্গলবার হাইকোর্ট নাছির মিয়ার বালু তোলার কার্যকারিতা স্থগিতের এ আদেশ দেন।
ঘটনার পেছনের ইতিহাস:
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ১৪৩২ বাংলা সনের জন্য যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহাল দুটি ১০৮ কোটি টাকায় ইজারা নিয়েছিলেন শাহ রুবেল আহমদ এবং মো. নাছির মিয়া। কিন্তু মামলাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে তারা সময়মতো পজিশন বা দখল পাননি। পাঁচ মাস পর দখল পেলেও বছর শেষের আগেই তারা নিজেদের ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ দাবি করে আরো বাড়তি সময় বালু তোলার জন্য হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
তখন আদালত তাদের পক্ষে রায় দিলেও জেলা প্রশাসন তার বিরুদ্ধে আপিল করে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আগের আদেশটি বাতিল করে দেন।
এরপর জেলা প্রশাসন বাকি সময়ের জন্য নতুন করে ইজারাদার নিয়োগের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এরই সুযোগে দুই ইজারাদার সরাসরি ভূমি মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানান। গত ২২ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয় এক আদেশে বিএনপির নেতা নাছির মিয়াকে দুটি মহাল থেকেই বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয়, যার ফলে বঞ্চিত হয়ে রিট করেন শাহ রুবেল আহমদ।
পরিবেশ ও প্রশাসনের বক্তব্য:
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তাপস শীল জানিয়েছেন, তারা হাইকোর্টের আদেশের বিষয়টি জেনেছেন। এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা চেয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবিদরা জানান, সুনামগঞ্জের সবচেয়ে বড় এই দুটি বালুমহালে বছরের পর বছর ধরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু তোলায় পরিবেশ ও প্রকৃতি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। প্রায় আড়াই বছর আগে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) নদী ও পরিবেশ রক্ষায় বালুমহাল দুটি বিলুপ্ত ঘোষণা করার জন্য তিনটি মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিল। কিন্তু আইন অমান্য করে এখনো বালু তোলা অব্যাহত থাকায় যাদুকাটা নদী এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।


















