পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত
- Update Time : ১১:৪৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৯ Time View

জসীমউদ্দিন, মানিকছড়ি প্রতিনিধিঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক আজ (৫ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিটির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞা, এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা, সুষম উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু, এমপি; কমিটির সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা, এমপি; দীপেন দেওয়ান, এমপি; শাহজাহান চৌধুরী, এমপি; মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, এমপি এবং মাছুম মোস্তফা, এমপি উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে পার্বত্য অঞ্চলে প্রত্যাগত শরণার্থী এবং গুচ্ছগ্রামে বসবাসরত অ-উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে রেশন কার্ড বিতরণে বিদ্যমান অনিয়ম দূর করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রকৃত ও যোগ্য উপকারভোগীরা যাতে যথাযথভাবে রেশন কার্ডের সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করে কমিটি। এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় বিদ্যমান শূন্য পদগুলোর বিস্তারিত তথ্য এবং এসব পদ পূরণের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কী কী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদন আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা ও সুপারিশ প্রদান করা হয়। জনসেবামূলক কার্যক্রমের গতি বাড়াতে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থায় সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে এমন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিস্তারিত বিবরণ, সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর বর্তমান অবস্থা এবং এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের তথ্য আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে কমিটি। সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বৈঠকে গুরুত্বারোপ করা হয়।
সাজেক ইস্যুতেও বৈঠকে আলোচনা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতে তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় কী ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আগামী বৈঠকে কমিটির সামনে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়।
অন্যদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় বাস্তবায়নাধীন ‘টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্পে’ কর্মরত পাড়াকর্মীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের সম্মানী ভাতা পুনর্নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে কমিটি। প্রকল্পে কর্মরত পাড়াকর্মীদের হ্রাসকৃত সম্মানী ভাতা সম্মানজনক হারে বৃদ্ধি করার সুপারিশ করা হয়। মাঠপর্যায়ে জনগণের দোরগোড়ায় সামাজিক সেবা পৌঁছে দিতে পাড়াকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়টিও এ সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়।
বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আগামী ডিসেম্বর ২০২৬ সালে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রম পর্যালোচনার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে বৈঠক ও পরিদর্শন করবে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এর মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি, বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প এবং বিভিন্ন সমস্যা সরেজমিনে পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এছাড়া চলতি অর্থবছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে বরাদ্দকৃত বাজেটের বিভাজন ও সুষম বণ্টন, খাদ্যশস্য বরাদ্দ, ব্যয় পরিকল্পনা এবং মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার, প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ এবং পার্বত্য অঞ্চলের সব এলাকার মধ্যে উন্নয়নের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়ে কমিটি প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ প্রদান করে।
বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সরকারি সুযোগ-সুবিধার সুষ্ঠু বণ্টন, প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


























