মাদ্রাসার নামে সরকারি বরাদ্দ, ব্যক্তিগত বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ
- Update Time : ০৪:১৯:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ৬ Time View

জীবননগর চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামে মাদ্রাসার নামে সরকারি বরাদ্দ ও অনুদান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসার নামে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে সহায়তা সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠাতার ব্যক্তিগত জমিতে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে ভবন নির্মাণে সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যয় হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যাদবপুর দারুল উলুম ইসলামিয়া নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহি বোর্ডিং নামে প্রতিষ্ঠানটি ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন মাসুদুর রহমান। জেলা পরিষদ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাদ্রাসাটির নামে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জীবননগর উপজেলা পরিষদ থেকে এক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মাদ্রাসাটিতে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম চোখে পড়ে না এবং শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও তেমন দেখা যায় না। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটি ও কার্যক্রম সম্পর্কেও গ্রামের অনেকের স্পষ্ট ধারণা নেই বলে অভিযোগ তাঁদের। মাদ্রাসার নামে বরাদ্দ ও অনুদানের অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মাসুদুর রহমান বলেন, তাঁর মাদ্রাসায় ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ভবন নির্মাণের কাজ চলায় গত তিন মাস ধরে শিক্ষার্থীরা ছুটিতে রয়েছে। মাদ্রাসাটিতে তিনি নিজেসহ দুজন শিক্ষক রয়েছেন। ভবনের কাজ শেষ হলে ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা আবার পড়াশোনা শুরু করবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র বলেন, “ব্যক্তি মালিকানাধীন মাদ্রাসায় সরকারি বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখব।” তিনি জানান, সাধারণত জনপ্রতিনিধি বা স্থানীয় ব্যক্তিদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অনুদান দেওয়া হয়।
এদিকে, জীবননগর উপজেলা পরিষদ সূত্রে মাদ্রাসাটির নামে এক টন চাল বরাদ্দের তথ্য জানা গেছে। তবে সরকারি বরাদ্দের অর্থ ও চাল কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, মাদ্রাসাটিতে বাস্তবে কতজন শিক্ষার্থী রয়েছে এবং নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয় কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করুক এবং কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিক।




















