ইবির সকল আবাসিক হলে ৯টি ডিপ ফ্রিজ দিল ছাত্রদল
- Update Time : ০৪:১২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ৬ Time View

আজিজুল হাকিম, ইবি প্রতিনিধি:ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের ব্যবহার উপযোগী ৯টি ডিপ ফ্রিজ বিতরণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উপদেষ্টা মাহবুব আলম শাহের সহায়তায় এসব ডিপ ফ্রিজ বিতরণ করা হয়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিটি আবাসিক হলের জন্য একটি করে ডিপ ফ্রিজ হস্তান্তর করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসি বরাবর আরেকটি ডিপ ফ্রিজ হস্তান্তর করবেন বলে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুনের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব রাফিজ আহমেদের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উপদেষ্টা মাহবুব আলম শাহ।
এছাড়াও বিএনপিপন্থি শিক্ষাক ও কর্মকর্তা পরিষদের নেতৃবৃন্দ আবাসিক হল প্রভোস্ট সহ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার মাহবুব আলম শাহ বলেন, “আমরা যেন সবাই মানবিক হই। তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমান বাংলাদেশের নতুন বিনির্মাণে যে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছেন, সেই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবেন বলে আশা করি।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণের পর অনেকেই কর্মজীবনে প্রবেশ করলেও নানা প্রতিকূলতা ও আর্থিক সংকটের কারণে অনেকে প্রত্যাশিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেন না। তাঁদের পাশে দাঁড়ানোও জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে এ ধরনের তহবিল গঠন করা হলে বর্তমান শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রয়োজনের সময় সাবেক শিক্ষার্থীরাও সহযোগিতা পেতে পারেন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমিও সাধ্যমতো সহযোগিতা করব।”
উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, “ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের জন্য আজ যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা প্রশংসনীয় এবং অন্যদের জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ। বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তার ক্ষেত্র, যেখানে বিভিন্ন মত-পথের মানুষ ও ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন রয়েছে। প্রত্যেক সংগঠনই নিজ নিজ অবস্থান থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে নিজেদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরবে। তবে এ প্রতিযোগিতা হতে হবে ইতিবাচক ও শিক্ষার্থীবান্ধব।”
তিনি আরও বলেন, “আজকের এই উদ্যোগকে দৃষ্টান্ত হিসেবে নিয়ে অন্যান্য ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে আশা করি। এতে বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশাও এমন ইতিবাচক পরিবর্তন। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ আয়োজন করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলকে এবং বিশেষ করে এ উদ্যোগে অর্থায়নকারী ব্যক্তিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।”
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, “ছাত্রদল সবসময় সারা দেশে নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আজকের এই আয়োজন মূলত শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ছাত্রদল সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নিয়ে কাজ করতে চায়। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছি। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ছাত্রদল সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। শিক্ষার্থীরা যখনই বিপদে পড়েছে কিংবা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে, ছাত্রদল তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক আন্দোলনে ছাত্রদল পাশে থাকবে।




















