👥 প্রতিনিধি তালিকা 📰 ই-পেপার
ঢাকা ০২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে রঘুনাথপুর সড়কের সংস্কারকাজ বন্ধ, ধুলায় দুর্ভোগে পথচারীরা

নিজেস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ১২:৩১:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১১ Time View
Print

লুৎফর সিকদার গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের সিলনা-বেদগ্রাম সড়কের সংস্কারকাজ বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। সড়কজুড়ে ইটের খোয়া ও ধুলাবালির কারণে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কোনো যানবাহন সড়ক দিয়ে চলাচল করলেই ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে পুরো এলাকা। এতে দিনের বেলাতেও সড়কে চলাচল করা কঠিন হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলনা-বেদগ্রাম সড়কের গুয়াধানা থেকে বেদগ্রাম রেলগেট পর্যন্ত অংশের সংস্কারকাজ কয়েক মাস আগে শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে গুয়াধানা থেকে গ্যান ডাক্তারের ব্রিজ পর্যন্ত কাজ করার পর তা বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে পুনরায় সংস্কারকাজ শুরু হয়। এ সময় পুরো সড়কের পিচ তুলে ইটের খোয়া বিছানো হলেও পরবর্তী সময়ে আবারও কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অসমাপ্ত সড়কটি এখন স্থানীয়দের দুর্ভোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে ইটের খোয়ার ওপর প্রচুর ধুলাবালি জমে আছে। কোনো যানবাহন চলাচল করলেই ধুলার ঘন কুণ্ডলী তৈরি হয়। এতে পেছনের যানবাহন ও পথচারীদের সামনে দেখতে সমস্যা হয়। ধুলা কিছুটা কমে আসার আগেই অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করায় আবারও ধুলায় ঢেকে যায় সড়কটি। ফলে অনেক সময় দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে।

ধুলার দূষণে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

সড়কটির পাশেই অবস্থিত রঘুনাথপুর দিননাথ উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে কয়েকশ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। সড়কটি বিদ্যালয়ের একেবারে পাশে হওয়ায় যানবাহন চলাচলের সঙ্গে উড়ে আসা অতিরিক্ত ধুলাবালিতে ভোগান্তিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। ধুলার কারণে তাদের অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি স্বাভাবিকভাবে বিদ্যালয়ে যাতায়াত ও নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখাও কঠিন হয়ে উঠছে।

এ সড়কের কিছুটা সামনে রয়েছে কিশলয় বিদ্যানিকেতন। প্রতিষ্ঠানটিতে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোমলমতি শিশুরা পড়াশোনা করে। সড়কজুড়ে ধুলাবালির কারণে এসব শিশু ও তাদের অভিভাবকদের যাতায়াতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে অভিভাবকদের। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য দ্রুত সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও পড়াশোনায় বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নির্বিঘ্নে বিদ্যালয়ে যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীরা। ধুলাবালির কারণে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সময়মতো গাড়ি না পাওয়ায় স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত ও হাসপাতালে যাতায়াতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

এক পথচারী বলেন, “সড়ক দিয়ে কোনো গাড়ি গেলেই চারদিকে ধুলায় অন্ধকার হয়ে যায়। সামনে কী আছে, তা ঠিকমতো দেখা যায় না। শিশু ও সাধারণ মানুষ ধুলাবালির কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। আমরা চাই, দ্রুত সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ করা হোক।”

আরেক পথচারী বলেন, “এ সড়ক দিয়ে চলাচল করা এখন খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। রাস্তা একদিকে ভাঙাচোরা, অন্যদিকে প্রচুর ধুলাবালি। ধুলার কারণে যানবাহন নিয়ে চলাচল করতেও সমস্যা হচ্ছে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে জনদুর্ভোগ লাঘব করা হোক।”

স্থানীয়দের দাবি, সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হলেও বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগের অবসান হচ্ছে না। প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দুই হাজার মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকায় জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এ অবস্থায় সড়কটির অসমাপ্ত সংস্কারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করে চলাচলের উপযোগী করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নির্বিঘ্নে বিদ্যালয়ে যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

গোপালগঞ্জে রঘুনাথপুর সড়কের সংস্কারকাজ বন্ধ, ধুলায় দুর্ভোগে পথচারীরা

Update Time : ১২:৩১:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
Print

লুৎফর সিকদার গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের সিলনা-বেদগ্রাম সড়কের সংস্কারকাজ বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। সড়কজুড়ে ইটের খোয়া ও ধুলাবালির কারণে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কোনো যানবাহন সড়ক দিয়ে চলাচল করলেই ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে পুরো এলাকা। এতে দিনের বেলাতেও সড়কে চলাচল করা কঠিন হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলনা-বেদগ্রাম সড়কের গুয়াধানা থেকে বেদগ্রাম রেলগেট পর্যন্ত অংশের সংস্কারকাজ কয়েক মাস আগে শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে গুয়াধানা থেকে গ্যান ডাক্তারের ব্রিজ পর্যন্ত কাজ করার পর তা বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে পুনরায় সংস্কারকাজ শুরু হয়। এ সময় পুরো সড়কের পিচ তুলে ইটের খোয়া বিছানো হলেও পরবর্তী সময়ে আবারও কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অসমাপ্ত সড়কটি এখন স্থানীয়দের দুর্ভোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে ইটের খোয়ার ওপর প্রচুর ধুলাবালি জমে আছে। কোনো যানবাহন চলাচল করলেই ধুলার ঘন কুণ্ডলী তৈরি হয়। এতে পেছনের যানবাহন ও পথচারীদের সামনে দেখতে সমস্যা হয়। ধুলা কিছুটা কমে আসার আগেই অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করায় আবারও ধুলায় ঢেকে যায় সড়কটি। ফলে অনেক সময় দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে।

ধুলার দূষণে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

সড়কটির পাশেই অবস্থিত রঘুনাথপুর দিননাথ উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে কয়েকশ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। সড়কটি বিদ্যালয়ের একেবারে পাশে হওয়ায় যানবাহন চলাচলের সঙ্গে উড়ে আসা অতিরিক্ত ধুলাবালিতে ভোগান্তিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। ধুলার কারণে তাদের অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি স্বাভাবিকভাবে বিদ্যালয়ে যাতায়াত ও নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখাও কঠিন হয়ে উঠছে।

এ সড়কের কিছুটা সামনে রয়েছে কিশলয় বিদ্যানিকেতন। প্রতিষ্ঠানটিতে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোমলমতি শিশুরা পড়াশোনা করে। সড়কজুড়ে ধুলাবালির কারণে এসব শিশু ও তাদের অভিভাবকদের যাতায়াতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে অভিভাবকদের। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য দ্রুত সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও পড়াশোনায় বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নির্বিঘ্নে বিদ্যালয়ে যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীরা। ধুলাবালির কারণে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সময়মতো গাড়ি না পাওয়ায় স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত ও হাসপাতালে যাতায়াতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

এক পথচারী বলেন, “সড়ক দিয়ে কোনো গাড়ি গেলেই চারদিকে ধুলায় অন্ধকার হয়ে যায়। সামনে কী আছে, তা ঠিকমতো দেখা যায় না। শিশু ও সাধারণ মানুষ ধুলাবালির কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। আমরা চাই, দ্রুত সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ করা হোক।”

আরেক পথচারী বলেন, “এ সড়ক দিয়ে চলাচল করা এখন খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। রাস্তা একদিকে ভাঙাচোরা, অন্যদিকে প্রচুর ধুলাবালি। ধুলার কারণে যানবাহন নিয়ে চলাচল করতেও সমস্যা হচ্ছে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে জনদুর্ভোগ লাঘব করা হোক।”

স্থানীয়দের দাবি, সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হলেও বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগের অবসান হচ্ছে না। প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দুই হাজার মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকায় জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এ অবস্থায় সড়কটির অসমাপ্ত সংস্কারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করে চলাচলের উপযোগী করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নির্বিঘ্নে বিদ্যালয়ে যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।