শিক্ষকের নির্দেশে ৭২ জন ছাত্র-ছাত্রী দিয়ে থাপরালেন একই শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীকে।
- Update Time : ০৫:৩৮:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৬ Time View

মানিকছড়ি প্রতিনিধিঃখাগড়াছড়ি জেলার অন্তর্গত মানিকছড়ি উপজেলায় অবস্থিত স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রানী নিহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া দুই শিক্ষার্থীকে একই শ্রেণির ৭২ জন ছাত্র-ছাত্রী দিয়ে থাপড়ানোর অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নাঈমুল হকের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর সকালে শ্রেণিকক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ইউএনও কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেরাজ জিসান বিদ্যালয়ের বাইরে শিক্ষকের সঙ্গে অনৈতিক মূলক আচরণ করেছে—এমন অভিযোগ ওঠে। একই শ্রেণির শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত অন্য শ্রেণির এক ছেলে শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছে—এমন অভিযোগও করা হয়। এর পরদিন বৃহস্পতিবার শ্রেণিকক্ষে ওই দুই শিক্ষার্থীকে শাস্তি হিসেবে শিক্ষক নাঈমুল হকের নির্দেশে একই ক্লাসের ৭২ জন ছাত্র-ছাত্রী দিয়ে থাপড়ায়।
তবে পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলা এবং বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পান প্রতিবেদক।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়,, অভিভাবকবৃন্দ এবং এলাকাবাসীর পর্যায় আলোচনাতে জানা যায় অত্র বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাঈমুল হকের বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বাধ্য করা ঘোষ বাণিজ্য সহ বিভিন্ন অনিয়মের অনেক অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে রোববার ৪ অক্টোবর সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক নাঈমুল হক নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, “এটা আমার ভুল হয়েছে, অন্যায় হয়েছে। এ ঘটনার জন্য আমি অনুতপ্ত।”
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আতাউল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্য তিনি দুঃখিত।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সিকদার বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”





















