ঢাকা ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার অভিযোগে পবিপ্রবির শিক্ষকদের তদন্তে প্রশাসন

Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৪ Time View
Print




‎মোঃ সজিব সরদার
‎স্টাফ রিপোর্টারঃ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) প্রশাসন পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে গোপন তৎপরতা চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

‎বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

‎অফিস আদেশে বলা হয়, গত ৪ ও ৫ আগস্ট বিভিন্ন জাতীয় সংবাদপত্রে ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ শীর্ষক একটি সংবাদ ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।

‎সংবাদে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ নামের ব্যানারে অনলাইন গ্রুপে ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক গোপন তৎপরতা ও নাশকতার পরিকল্পনায় জড়িত, যাদের মধ্যে পবিপ্রবির কতিপয় শিক্ষকও রয়েছেন।

‎এই প্রেক্ষাপটে জড়িত শিক্ষকদের পরিচয়, কার্যক্রম ও দায় নিরূপণের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

‎কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম। সদস্য হিসেবে আছেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান এবং কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. নেছার উদ্দিন আহমেদ। সদস্য-সচিবের দায়িত্বে আছেন রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেন।

‎আদেশে কমিটিকে সত্যানুসন্ধানপূর্বক রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত শিক্ষকদের চিহ্নিতকরণ ও করণীয় নির্ধারণের পাশাপাশি, অভিযুক্তরা বিগত সরকারের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন কিংবা হুমকি প্রদানে লিপ্ত ছিলেন কি না, তা অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

‎কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পবিপ্রবি আইন, ২০০১-এর ৪৭(৪) ধারা, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(ঙ) ধারা এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১২৪ক ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। যার মধ্যে বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরিচ্যুতি বা বরখাস্তও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

‎প্রসঙ্গত, পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে অনলাইনে মিটিংয়ে উপস্থিত শিক্ষকদের মধ্যে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) কয়েকজন শিক্ষকের নাম উঠে আসলেও পবিপ্রবির সাবেক রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার বসুকে নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার অভিযোগে পবিপ্রবির শিক্ষকদের তদন্তে প্রশাসন

Update Time : ১২:৫২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
Print




‎মোঃ সজিব সরদার
‎স্টাফ রিপোর্টারঃ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) প্রশাসন পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে গোপন তৎপরতা চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

‎বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

‎অফিস আদেশে বলা হয়, গত ৪ ও ৫ আগস্ট বিভিন্ন জাতীয় সংবাদপত্রে ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ শীর্ষক একটি সংবাদ ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।

‎সংবাদে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ নামের ব্যানারে অনলাইন গ্রুপে ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক গোপন তৎপরতা ও নাশকতার পরিকল্পনায় জড়িত, যাদের মধ্যে পবিপ্রবির কতিপয় শিক্ষকও রয়েছেন।

‎এই প্রেক্ষাপটে জড়িত শিক্ষকদের পরিচয়, কার্যক্রম ও দায় নিরূপণের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

‎কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম। সদস্য হিসেবে আছেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান এবং কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. নেছার উদ্দিন আহমেদ। সদস্য-সচিবের দায়িত্বে আছেন রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেন।

‎আদেশে কমিটিকে সত্যানুসন্ধানপূর্বক রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত শিক্ষকদের চিহ্নিতকরণ ও করণীয় নির্ধারণের পাশাপাশি, অভিযুক্তরা বিগত সরকারের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন কিংবা হুমকি প্রদানে লিপ্ত ছিলেন কি না, তা অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

‎কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পবিপ্রবি আইন, ২০০১-এর ৪৭(৪) ধারা, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(ঙ) ধারা এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১২৪ক ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। যার মধ্যে বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরিচ্যুতি বা বরখাস্তও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

‎প্রসঙ্গত, পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে অনলাইনে মিটিংয়ে উপস্থিত শিক্ষকদের মধ্যে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) কয়েকজন শিক্ষকের নাম উঠে আসলেও পবিপ্রবির সাবেক রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার বসুকে নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।