শার্শা-বেনাপোল সীমান্ত এখন মাদকের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট: ৫০ গডফাদারের দ্রুত বিচার দাবি -জাতীয় সংসদে এমপি আজীজুর রহমান
- Update Time : ০৯:৫৭:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
- / ৭ Time View

মোঃ আসাদুজ্জামান (আসাদ) ষ্টাফ রিপোর্টার:—
যশোরের শার্শা ও বেনাপোল সীমান্ত এলাকা বর্তমানে দেশব্যাপী মাদক চোরাচালানের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা আজীজুর রহমান। গতকাল ১০ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে কার্যপ্রণালী-বিধির ৭১ বিধি অনুযায়ী জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সংসদ অধিবেশনে স্পিকারের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এমপি মাওলানা আজীজুর রহমান বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকা যশোর জেলার শার্শা ও বেনাপোল একটি সীমান্ত অঞ্চল। এই উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টি ইউনিয়নই সরাসরি ভারতীয় বর্ডারের সাথে সংযুক্ত। ভৌগোলিক কারণে এটি দেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক রুট হলেও, বর্তমানে এটি মাদক চোরাচালানের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে প্রতিনিয়ত ইয়াবা, ফেনসিডিল ও হেরোইনসহ আধুনিক বিভিন্ন মারাত্মক মাদকদ্রব্য দেশে প্রবেশ করছে।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাদক চোরাচালানের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এলাকায় কিশোর গ্যাং-এর উপদ্রব, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ এবং পারিবারিক সহিংসতাও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ঘরে ঘরে পিতা-মাতারা তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সীমান্তে বিজিবি এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার করলেও, গ্রামে গ্রামে মাদক বিক্রি বা রাতভর মাদকের মেলার চিত্র বদলাচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের যোগসাজশে এই বিশাল মাদক নেটওয়ার্ক দিন দিন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে দেশের যুবসমাজ এবং সীমান্ত অঞ্চলের মানুষকে রক্ষা করতে সংসদ সদস্য মাওলানা আজীজুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ৪টি জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান:
১. যৌথ চিরুনি অভিযান: শার্শা-বেনাপোল সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে বিজিবি, পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে নিয়মিত ও বিশেষ যৌথ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
২. আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার:চোরাচালান ও সীমান্ত অপরাধ রোধে ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ক্লোজড সার্কিট (CCTV) ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস এবং থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
৩. গডফাদারদের দ্রুত বিচার: কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে এলাকার চিহ্নিত ৫০ থেকে ৫৫ জন মাদক গডফাদারকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র: স্থানীয় পর্যায়ে যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে দূরে রাখতে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং আসক্তদের জন্য সরকারি উদ্যোগে নিরাময় কেন্দ্র ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মাওলানা আজীজুর রহমান সতর্ক করে বলেন, “এই মাদক শুধু শার্শা-বেনাপোলের সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং তা ছড়িয়ে পড়ছে সমগ্র দেশে। আর এর সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে আমাদের তরুণ সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। তরুণ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে গেলে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির সব স্বপ্নই অধরা থেকে যাবে।” তিনি শার্শা-বেনাপোল সীমান্তকে সম্পূর্ণ মাদক মুক্ত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি ও সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
























