লেমুয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক
- Update Time : ০৪:৩৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
- / ৩৬ Time View

মোহাম্মদ হানিফ স্টাফ রিপোর্ট ফেনী জেলা।
নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি ব্যবসায়ীদের; রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দায়িত্ব প্রদান ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
ফেনী সদর উপজেলার ৯ নম্বর লেমুয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী লেমুয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন আগামী ১ আগস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি (নির্বাচন কমিশন) গঠনকে কেন্দ্র করে বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এ নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ব্যবসায়ী সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও সকল পক্ষের আস্থাভাজন ব্যক্তিদের ওপর অর্পণ করার কথা থাকলেও এবার সে নীতি অনুসরণ করা হয়নি। তাদের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা অন্য কোনো নিরপেক্ষ ব্যক্তির পরিবর্তে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের কেউই লেমুয়া বাজারের ব্যবসায়ী নন। ফলে বাজারের ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ও আস্থার জায়গাটি উপেক্ষিত হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ উঠেছে যে, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি প্রার্থীর কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে গ্রহণ করা হলেও সেই অর্থের বিপরীতে কোনো রসিদ, ভাউচার কিংবা লিখিত প্রমাণপত্র দেওয়া হয়নি। এতে অর্থ আদায়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, কোনো নির্বাচনী ফি বা মনোনয়ন ফি আদায় করা হলে তার লিখিত হিসাব ও সরকারি বা সমিতির অনুমোদিত রসিদ প্রদান করা প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অন্যতম শর্ত। কিন্তু বর্তমান প্রক্রিয়ায় তা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে লেমুয়া বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা ফেনীর জেলা প্রশাসক ও ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানিয়ে বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুনর্বিবেচনা এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে লেমুয়া বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম শিপন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন স্থগিতের দাবিতে লেমুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।
আইন ও গঠনতন্ত্র কী বলছে?
ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন সাধারণত সংশ্লিষ্ট সমিতির গঠনতন্ত্র (Constitution/Bye-laws) অনুযায়ী পরিচালিত হয়। পাশাপাশি নিবন্ধিত ট্রেড অর্গানাইজেশনের ক্ষেত্রে ট্রেড অর্গানাইজেশনস আইন ও বিধিমালা এবং নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত বিধান অনুসরণ করতে হয়।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে যেসব নীতি অনুসরণ করা হয়—
নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের অবশ্যই নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও বিতর্কমুক্ত হতে হবে।
কোনো প্রার্থী, প্রার্থীর প্রত্যক্ষ সমর্থক বা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ও পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকলে নির্বাচন নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের এমন ব্যক্তি হওয়া উচিত, যাদের সঙ্গে কোনো প্রার্থীর স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest) নেই।
নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো অর্থ গ্রহণ করলে তার যথাযথ হিসাব সংরক্ষণ এবং রসিদ প্রদান করা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অংশ।
নির্বাচন পরিচালনার প্রতিটি ধাপ সমিতির গঠনতন্ত্র ও অনুমোদিত নির্বাচন বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া আবশ্যক।
এমন পরিস্থিতিতে লেমুয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, একটি ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়ী সংগঠনের নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের ভাষ্য, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে এবং নির্বাচন নিয়ে চলমান বিতর্কেরও অবসান ঘটবে।
তবে উল্লেখ্য, এ প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো অভিযোগকারী ব্যবসায়ীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযুক্ত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া গেলে সংবাদে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। এতে সংবাদটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সাংবাদিকতার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে।



















