👥 প্রতিনিধি তালিকা 📰 ই-পেপার
ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাণীশংকৈলে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্র রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

নিজেস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৮:২৯:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৬ Time View
Print

একে আজাদ.ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্যাতন সহ্য করে দেশের স্বাধীনতার জন্য অবদান রাখতে গিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা খতিব উদ্দিন নিশ্বাস ভবনে বার্ধক্য জনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে প্রশাসন রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় তাঁকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় উপজেলার বাঁচোর ইউনিয়নের সিডি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর মরদেহে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। রাষ্ট্রীয় এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান জাহিদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানা পুলিশের একটি চৌকস দল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
পুলিশে একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন। শেষে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকে নিস্তব্ধ এলাকা। স্বাধীনতাযুদ্ধে নির্যাতন সহ্য করা এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত হন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খতিব উদ্দিন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, নাতি-নাতনি এবং শুভাকাঙ্ক্ষী এবং অনেক গুন গ্রহী রেখে গেছেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তিনি। দেশের স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামে তাঁর আত্মত্যাগ ও নির্যাতন সহ্য করার ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে অমলিন হয়ে থাকবে।

তাঁর মৃত্যুতে রাণীশংকৈল উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, স্থানীয় সামাজিক সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলেন, খতিব উদ্দিনের মতো যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন। তাঁর মৃত্যুতে জাতি একজন বীর সেনানিকে হারালো।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

রাণীশংকৈলে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্র রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

Update Time : ০৮:২৯:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Print

একে আজাদ.ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্যাতন সহ্য করে দেশের স্বাধীনতার জন্য অবদান রাখতে গিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা খতিব উদ্দিন নিশ্বাস ভবনে বার্ধক্য জনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে প্রশাসন রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় তাঁকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় উপজেলার বাঁচোর ইউনিয়নের সিডি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর মরদেহে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। রাষ্ট্রীয় এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান জাহিদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানা পুলিশের একটি চৌকস দল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
পুলিশে একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন। শেষে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকে নিস্তব্ধ এলাকা। স্বাধীনতাযুদ্ধে নির্যাতন সহ্য করা এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত হন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খতিব উদ্দিন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, নাতি-নাতনি এবং শুভাকাঙ্ক্ষী এবং অনেক গুন গ্রহী রেখে গেছেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তিনি। দেশের স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামে তাঁর আত্মত্যাগ ও নির্যাতন সহ্য করার ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে অমলিন হয়ে থাকবে।

তাঁর মৃত্যুতে রাণীশংকৈল উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, স্থানীয় সামাজিক সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলেন, খতিব উদ্দিনের মতো যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন। তাঁর মৃত্যুতে জাতি একজন বীর সেনানিকে হারালো।