ঢাকা ০২:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদেশী নাগরিকদের ফাঁদে ফেলে অস্ত্র ছিনতাই: নারায়ণগঞ্জ পুলিশের জালে ভয়ঙ্কর চক্রের ৪ সদস্য

Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৯:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • / ৯ Time View
Print

আবু তালেব, স্টাফ রিপোর্টার নারায়ণগঞ্জ:

বিদেশী নাগরিকদের বাংলাদেশে নিরাপত্তাকর্মীর (সিকিউরিটি গার্ড) উচ্চ বেতনের চাকরির লোভ দেখিয়ে ডেকে আনা হতো ঢাকায়। এরপর তাদের চোখে-মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হতো সাথে থাকা লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র। এমন এক অত্যন্ত সুসংগঠিত ও ভয়ঙ্কর অপরাধী চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। চক্রের চার মূল সদস্যকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, এই চক্রের সদস্যরা মূলত ইন্টারনেটের বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে বিদেশী নাগরিকদের টার্গেট করত। বাংলাদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে মোটা অঙ্কের বেতনে চাকরির ভুয়া অফার দেওয়া হতো তাদের।
চক্রের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে কোনো বিদেশী নাগরিক যখন বৈধ লাইসেন্স করা অস্ত্রসহ ঢাকায় পৌঁছাতেন, তখন থেকেই শুরু হতো আসল খেলা। বিমানবন্দর বা পূর্বনির্ধারিত কোনো স্থানে তাদের রিসিভ করার পর সুবিধাজনক নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হতো। এরপর অতর্কিতে তাদের চোখে-মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে অন্ধপ্রায় করে মারধর করা হতো এবং তাদের সাথে থাকা মূল্যবান লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দিত চক্রটি।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে এই চক্রের ৪ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
**উদ্ধারকৃত মালামাল:**
* গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে ছিনতাই হওয়া বেশ কয়েকটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র।
* বিপুল পরিমাণ তাজা গুলি।
* অপরাধে ব্যবহৃত মরিচের গুঁড়া, মোবাইল ফোন এবং ভুয়া নিয়োগপত্র।
**পুলিশের বক্তব্য**
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান:
“এই চক্রটি অত্যন্ত চতুরতার সাথে বিদেশী নাগরিকদের টার্গেট করে আসছিল। তারা মূলত অস্ত্রের লোভেই এই ভয়ঙ্কর ফাঁদ পাতে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো তারা অন্য কোনো বড় ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার বা বিক্রির পরিকল্পনা করছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতেও আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় অস্ত্র আইন ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে আন্তর্জাতিক কোনো চক্রের হাত রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হতে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

বিদেশী নাগরিকদের ফাঁদে ফেলে অস্ত্র ছিনতাই: নারায়ণগঞ্জ পুলিশের জালে ভয়ঙ্কর চক্রের ৪ সদস্য

Update Time : ১১:১৯:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
Print

আবু তালেব, স্টাফ রিপোর্টার নারায়ণগঞ্জ:

বিদেশী নাগরিকদের বাংলাদেশে নিরাপত্তাকর্মীর (সিকিউরিটি গার্ড) উচ্চ বেতনের চাকরির লোভ দেখিয়ে ডেকে আনা হতো ঢাকায়। এরপর তাদের চোখে-মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হতো সাথে থাকা লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র। এমন এক অত্যন্ত সুসংগঠিত ও ভয়ঙ্কর অপরাধী চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। চক্রের চার মূল সদস্যকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, এই চক্রের সদস্যরা মূলত ইন্টারনেটের বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে বিদেশী নাগরিকদের টার্গেট করত। বাংলাদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে মোটা অঙ্কের বেতনে চাকরির ভুয়া অফার দেওয়া হতো তাদের।
চক্রের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে কোনো বিদেশী নাগরিক যখন বৈধ লাইসেন্স করা অস্ত্রসহ ঢাকায় পৌঁছাতেন, তখন থেকেই শুরু হতো আসল খেলা। বিমানবন্দর বা পূর্বনির্ধারিত কোনো স্থানে তাদের রিসিভ করার পর সুবিধাজনক নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হতো। এরপর অতর্কিতে তাদের চোখে-মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে অন্ধপ্রায় করে মারধর করা হতো এবং তাদের সাথে থাকা মূল্যবান লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দিত চক্রটি।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে এই চক্রের ৪ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
**উদ্ধারকৃত মালামাল:**
* গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে ছিনতাই হওয়া বেশ কয়েকটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র।
* বিপুল পরিমাণ তাজা গুলি।
* অপরাধে ব্যবহৃত মরিচের গুঁড়া, মোবাইল ফোন এবং ভুয়া নিয়োগপত্র।
**পুলিশের বক্তব্য**
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান:
“এই চক্রটি অত্যন্ত চতুরতার সাথে বিদেশী নাগরিকদের টার্গেট করে আসছিল। তারা মূলত অস্ত্রের লোভেই এই ভয়ঙ্কর ফাঁদ পাতে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো তারা অন্য কোনো বড় ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার বা বিক্রির পরিকল্পনা করছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতেও আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় অস্ত্র আইন ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে আন্তর্জাতিক কোনো চক্রের হাত রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হতে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।