ঢাকা ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণ: নিভে গেল একই পরিবারের শেষ প্রদীপটি, মারা গেল শিশু মিমও

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৪৬:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • / ১৪ Time View
Print


আবু তালেব, স্টাফ রিপোর্টার নারায়ণগঞ্জ:

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় ঘরে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের কেউই আর বেঁচে রইলেন না। বাবা, মা ও ভাইয়ের পর মৃত্যুর কাছে হার মানল ১৩ বছরের শিশু মিম আক্তারও। আজ (১৬ জুন) সকালে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
​এর আগে গত কয়েকদিনে একে একে মারা যান মিমের বাবা (পরিবারের প্রধান), মা এবং তার একমাত্র ছোট ভাই। মিমের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পুরো পরিবারটি চিরতরে হারিয়ে গেল।

গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চানপুর এলাকার একটি একতলা বাড়িতে এ ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।​প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঘরের লাইনে বা সিলিন্ডারে লিকেজ থাকার কারণে রাতে ঘরে প্রচুর গ্যাস জমে ছিল। সকালে রান্নার জন্য বা অন্য কোনো কারণে দিয়াশলাই জ্বালাতেই পুরো ঘরে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায় এবং বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।
​বিস্ফোরণে ঘরের ভেতরে থাকা একই পরিবারের চারজনই গুরুতর দগ্ধ হন। প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন।
​একে একে নিভে গেল চার প্রাণ
​হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের সবারই শ্বাসনালীসহ শরীরের সিংহভাগ পুড়ে গিয়েছিল। ভর্তির পর থেকেই তাদের অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক।
​প্রথমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মিমের বাবা।
​এর ঠিক পরদিনই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মা।
​দুই দিন আগে মেজো ভাইটিও পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে।
​সবশেষে শরীরের [ ৭৮%] দগ্ধ নিয়ে বার্ন আইসিইউতে লড়তে লড়তে আজ বিদায় নিল মিমও।
​এলাকায় শোকের ছায়া
​একটি সুখী ও হাসিখুশি পরিবার এভাবে চোখের পলকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ায় পুরো বন্দর এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। মিম ও তার পরিবারের সদস্যদের অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীদের কান্না যেন থামছেই না। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং গ্যাস লাইনের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশাসনের কড়া নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ আবারো সবাইকে সতর্ক করে জানিয়েছে, ঘরের ভেতর গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে কোনো অবস্থাতেই দিয়াশলাই, লাইটার বা বৈদ্যুতিক সুইচে হাত দেওয়া যাবে না। আগে ঘরের দরজা-জানালা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণ: নিভে গেল একই পরিবারের শেষ প্রদীপটি, মারা গেল শিশু মিমও

Update Time : ০৮:৪৬:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
Print


আবু তালেব, স্টাফ রিপোর্টার নারায়ণগঞ্জ:

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় ঘরে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের কেউই আর বেঁচে রইলেন না। বাবা, মা ও ভাইয়ের পর মৃত্যুর কাছে হার মানল ১৩ বছরের শিশু মিম আক্তারও। আজ (১৬ জুন) সকালে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
​এর আগে গত কয়েকদিনে একে একে মারা যান মিমের বাবা (পরিবারের প্রধান), মা এবং তার একমাত্র ছোট ভাই। মিমের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পুরো পরিবারটি চিরতরে হারিয়ে গেল।

গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চানপুর এলাকার একটি একতলা বাড়িতে এ ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।​প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঘরের লাইনে বা সিলিন্ডারে লিকেজ থাকার কারণে রাতে ঘরে প্রচুর গ্যাস জমে ছিল। সকালে রান্নার জন্য বা অন্য কোনো কারণে দিয়াশলাই জ্বালাতেই পুরো ঘরে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায় এবং বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।
​বিস্ফোরণে ঘরের ভেতরে থাকা একই পরিবারের চারজনই গুরুতর দগ্ধ হন। প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন।
​একে একে নিভে গেল চার প্রাণ
​হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের সবারই শ্বাসনালীসহ শরীরের সিংহভাগ পুড়ে গিয়েছিল। ভর্তির পর থেকেই তাদের অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক।
​প্রথমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মিমের বাবা।
​এর ঠিক পরদিনই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মা।
​দুই দিন আগে মেজো ভাইটিও পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে।
​সবশেষে শরীরের [ ৭৮%] দগ্ধ নিয়ে বার্ন আইসিইউতে লড়তে লড়তে আজ বিদায় নিল মিমও।
​এলাকায় শোকের ছায়া
​একটি সুখী ও হাসিখুশি পরিবার এভাবে চোখের পলকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ায় পুরো বন্দর এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। মিম ও তার পরিবারের সদস্যদের অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীদের কান্না যেন থামছেই না। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং গ্যাস লাইনের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশাসনের কড়া নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ আবারো সবাইকে সতর্ক করে জানিয়েছে, ঘরের ভেতর গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে কোনো অবস্থাতেই দিয়াশলাই, লাইটার বা বৈদ্যুতিক সুইচে হাত দেওয়া যাবে না। আগে ঘরের দরজা-জানালা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে।