👥 প্রতিনিধি তালিকা 📰 ই-পেপার
ঢাকা ০২:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেবহাটা উপজেলার কর্ম,ব্রিটিশ আমলের ব্যবসা-বাণিজ্যের ইতিহাস

নিজেস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ০১:৪০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১০ Time View
Print

জি এম আব্বাস উদ্দিন (সাতক্ষীরা) জেলা প্রতিনিধি:সীমান্ত উপজেলা দেবহাটার ব্যবসা-বাণিজ্যের ইতিহাস প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো। এক সময় কলকাতামুখী বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র ছিল এই জনপদ, আজ তা দেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্য অর্থনীতির হাবে পরিণত হয়েছে।

ব্রিটিশ আমলের ব্যবসা:
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, প্রায় ১৫০ বছর আগে দেবহাটার টাউন শ্রীপুর ছিল অত্যন্ত বর্ধিষ্ণু অঞ্চল। ১৮৬৭ সালে ব্রিটিশ সরকার টাউন শ্রীপুরে দেবহাটা পৌরসভা ঘোষণা করে, যখন বিভাগীয় শহর খুলনাতেও পৌরসভা হয়নি। এখানে ১৮ জন জমিদারের বস বাস ছিল।

ইছামতী নদীর ওপারেই ভারতের হাসনাবাদ রেলস্টেশন থাকায় তখন দেবহাটার মানুষের ব্যবসা ও যাতায়াতের মূল কেন্দ্র ছিল কলকাতা। পাট, ধান, চামড়া ও মসলা ইছামতী দিয়ে নৌকায় কলকাতায় যেত। টাউন শ্রীপুর, সুশীলগাঁতী ও দেবহাটা ছিল তখনকার বাণিজ্যিক হাব।

কর্মসংস্থানের চিত্র:
বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, দেবহাটায় বর্তমানে জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস এখনো কৃষি ৫৩.৭২%, ব্যবসা ২৪.৪০% এবং চাকরি ৪.৮৩%। একসময় তামাক, তিল, ছোলা প্রধান ফসল হলেও এখন তা বিলুপ্ত।

বর্তমান ব্যবসা – সাদা সোনার অর্থনীতি:
বর্তমানে দেবহাটার প্রধান রপ্তানি দ্রব্য চিংড়ি, চামড়া ও শাকসবজি।

উপজেলায় চিংড়ি ঘের রয়েছে প্রায় ৭-৮ হাজার হেক্টর জমিতে
১০ টি বড় হাটবাজার পারুলিয়া,কুলিয়া,সখিপুর, দেবহাটা বাজার এই অর্থনীতির প্রাণ। ধানকল,বরফকল,ওয়েল্ডিং কারখানা ও স্বর্ণশিল্প, মৃৎশিল্প, বাঁশশিল্প এখনো টিকে আছে

স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যবসায়ী আব্দুল গফার বলেন,আগে মানুষ কলকাতায় ব্যবসা করতে যেত, এখন দেবহাটার চিংড়ি কলকাতা হয়ে ইউরোপ-আমেরিকা যায়। আলিপুর, পারুলিয়া, কুলিয়ায় এখন শুধু ঘের আর ঘের। একজন চাষি এক মৌসুমে কোটি টাকার চিংড়ি বিক্রি করছেন।

উপজেলা প্রশাসনের মতে, পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে দেবহাটা কৃষি, মৎস্য ও সীমান্ত বাণিজ্যে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

দেবহাটা উপজেলার কর্ম,ব্রিটিশ আমলের ব্যবসা-বাণিজ্যের ইতিহাস

Update Time : ০১:৪০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
Print

জি এম আব্বাস উদ্দিন (সাতক্ষীরা) জেলা প্রতিনিধি:সীমান্ত উপজেলা দেবহাটার ব্যবসা-বাণিজ্যের ইতিহাস প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো। এক সময় কলকাতামুখী বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র ছিল এই জনপদ, আজ তা দেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্য অর্থনীতির হাবে পরিণত হয়েছে।

ব্রিটিশ আমলের ব্যবসা:
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, প্রায় ১৫০ বছর আগে দেবহাটার টাউন শ্রীপুর ছিল অত্যন্ত বর্ধিষ্ণু অঞ্চল। ১৮৬৭ সালে ব্রিটিশ সরকার টাউন শ্রীপুরে দেবহাটা পৌরসভা ঘোষণা করে, যখন বিভাগীয় শহর খুলনাতেও পৌরসভা হয়নি। এখানে ১৮ জন জমিদারের বস বাস ছিল।

ইছামতী নদীর ওপারেই ভারতের হাসনাবাদ রেলস্টেশন থাকায় তখন দেবহাটার মানুষের ব্যবসা ও যাতায়াতের মূল কেন্দ্র ছিল কলকাতা। পাট, ধান, চামড়া ও মসলা ইছামতী দিয়ে নৌকায় কলকাতায় যেত। টাউন শ্রীপুর, সুশীলগাঁতী ও দেবহাটা ছিল তখনকার বাণিজ্যিক হাব।

কর্মসংস্থানের চিত্র:
বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, দেবহাটায় বর্তমানে জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস এখনো কৃষি ৫৩.৭২%, ব্যবসা ২৪.৪০% এবং চাকরি ৪.৮৩%। একসময় তামাক, তিল, ছোলা প্রধান ফসল হলেও এখন তা বিলুপ্ত।

বর্তমান ব্যবসা – সাদা সোনার অর্থনীতি:
বর্তমানে দেবহাটার প্রধান রপ্তানি দ্রব্য চিংড়ি, চামড়া ও শাকসবজি।

উপজেলায় চিংড়ি ঘের রয়েছে প্রায় ৭-৮ হাজার হেক্টর জমিতে
১০ টি বড় হাটবাজার পারুলিয়া,কুলিয়া,সখিপুর, দেবহাটা বাজার এই অর্থনীতির প্রাণ। ধানকল,বরফকল,ওয়েল্ডিং কারখানা ও স্বর্ণশিল্প, মৃৎশিল্প, বাঁশশিল্প এখনো টিকে আছে

স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যবসায়ী আব্দুল গফার বলেন,আগে মানুষ কলকাতায় ব্যবসা করতে যেত, এখন দেবহাটার চিংড়ি কলকাতা হয়ে ইউরোপ-আমেরিকা যায়। আলিপুর, পারুলিয়া, কুলিয়ায় এখন শুধু ঘের আর ঘের। একজন চাষি এক মৌসুমে কোটি টাকার চিংড়ি বিক্রি করছেন।

উপজেলা প্রশাসনের মতে, পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে দেবহাটা কৃষি, মৎস্য ও সীমান্ত বাণিজ্যে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।