👥 প্রতিনিধি তালিকা 📰 ই-পেপার
ঢাকা ১০:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় সপ্তাহব্যাপী বর্ণাঢ্য নজরুল সাংস্কৃতিক উৎসবের জমকালো উদ্ববোধন

নিজেস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৯:২৬:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১১ Time View
Print

মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ:চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি:দেশজুড়ে বছরব্যাপী ঘোষিত নজরুল বর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী বর্ণাঢ্য নজরুল সাংস্কৃতিক উৎসব। রবিবার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে এক জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের পর্দা ওঠে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, দর্শন ও তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এই মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের উদ্যোগে এবং স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এই উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনের শুভ উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার। এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট আয়োজক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি।
​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক এবং চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফ। তিনি তাঁর সুদীর্ঘ ও সাবলীল আলোচনায় কবি নজরুল ইসলামের জীবন, তাঁর বিদ্রোহী সত্তা, অনন্য সাহিত্যকর্ম এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে এক মনোজ্ঞ ও তথ্যবহুল বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
​প্রধান আলোচক বলেন, “কাজী নজরুল ইসলাম কেবল দ্রোহ ও সংগ্রামের কবি নন, তিনি সাম্য, প্রেম, মানবতা ও ঐক্যের মূর্ত প্রতীক। বর্তমান বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে কবির দর্শন এবং তাঁর সৃষ্টির বহুমাত্রিক চর্চা সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।”
​অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গান যুগে যুগে সব নিপীড়িত মানুষের অনুপ্রেরণা জুগিয়ে আসছে। বর্তমান অস্থির ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ সময়ে যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে নজরুল সাহিত্যের পাঠ অত্যন্ত জরুরি।উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রায় সবকটি শীর্ষস্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন এই উৎসবে অত্যন্ত উৎসাহের সাথে অংশ নিচ্ছে। প্রথম দিনেই শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে পুরো চত্বরটি এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে এই উৎসব সাধারণ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সাত দিনব্যাপী এই আয়োজনে প্রতিদিনের আকর্ষণ হিসেবে থাকছে:
​আলোচনা সভা: কবির জীবন ও দর্শনকেন্দ্রিক বিশেষ সেমিনার ও আলোচনা।
​সংগীত ও আবৃত্তি: বিশিষ্ট শিল্পীদের পরিবেশনায় নজরুল সংগীত ও কবিতা আবৃত্তি।​নৃত্য ও নাটক: নজরুলের গান ও রচনার ওপর ভিত্তি করে আকর্ষণীয় নৃত্যনাট্য এবং তাঁর লেখা বিশেষ নাটক পরিবেশনা।
​বৈচিত্র্যময় পরিবেশনা: হামদ-নাত, কীর্তনসহ নজরুলের বহুমুখী প্রতিভার প্রকাশ ঘটে এমন নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
জাতীয় সংবাদমাধ্যম এবং স্থানীয় প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদ সংস্থাগুলো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কভার করেছে এবং সরাসরি সম্প্রচার করেছে। এর ফলে চুয়াডাঙ্গার এই সাংস্কৃতিক উৎসবের বার্তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে।
​আয়োজক কমিটি আশা প্রকাশ করেছে যে, এই সপ্তাহব্যাপী উৎসব চুয়াডাঙ্গার সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে নজরুলপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা আরও সুদৃঢ় করবে। উৎসবের বাকি দিনগুলোতেও সর্বস্তরের জনগণকে সপরিবারে উপস্থিত থাকার জন্য আন্তরিকভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

চুয়াডাঙ্গায় সপ্তাহব্যাপী বর্ণাঢ্য নজরুল সাংস্কৃতিক উৎসবের জমকালো উদ্ববোধন

Update Time : ০৯:২৬:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
Print

মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ:চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি:দেশজুড়ে বছরব্যাপী ঘোষিত নজরুল বর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী বর্ণাঢ্য নজরুল সাংস্কৃতিক উৎসব। রবিবার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে এক জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের পর্দা ওঠে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, দর্শন ও তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এই মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের উদ্যোগে এবং স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এই উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনের শুভ উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার। এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট আয়োজক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি।
​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক এবং চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফ। তিনি তাঁর সুদীর্ঘ ও সাবলীল আলোচনায় কবি নজরুল ইসলামের জীবন, তাঁর বিদ্রোহী সত্তা, অনন্য সাহিত্যকর্ম এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে এক মনোজ্ঞ ও তথ্যবহুল বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
​প্রধান আলোচক বলেন, “কাজী নজরুল ইসলাম কেবল দ্রোহ ও সংগ্রামের কবি নন, তিনি সাম্য, প্রেম, মানবতা ও ঐক্যের মূর্ত প্রতীক। বর্তমান বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে কবির দর্শন এবং তাঁর সৃষ্টির বহুমাত্রিক চর্চা সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।”
​অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গান যুগে যুগে সব নিপীড়িত মানুষের অনুপ্রেরণা জুগিয়ে আসছে। বর্তমান অস্থির ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ সময়ে যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে নজরুল সাহিত্যের পাঠ অত্যন্ত জরুরি।উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রায় সবকটি শীর্ষস্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন এই উৎসবে অত্যন্ত উৎসাহের সাথে অংশ নিচ্ছে। প্রথম দিনেই শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে পুরো চত্বরটি এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে এই উৎসব সাধারণ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সাত দিনব্যাপী এই আয়োজনে প্রতিদিনের আকর্ষণ হিসেবে থাকছে:
​আলোচনা সভা: কবির জীবন ও দর্শনকেন্দ্রিক বিশেষ সেমিনার ও আলোচনা।
​সংগীত ও আবৃত্তি: বিশিষ্ট শিল্পীদের পরিবেশনায় নজরুল সংগীত ও কবিতা আবৃত্তি।​নৃত্য ও নাটক: নজরুলের গান ও রচনার ওপর ভিত্তি করে আকর্ষণীয় নৃত্যনাট্য এবং তাঁর লেখা বিশেষ নাটক পরিবেশনা।
​বৈচিত্র্যময় পরিবেশনা: হামদ-নাত, কীর্তনসহ নজরুলের বহুমুখী প্রতিভার প্রকাশ ঘটে এমন নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
জাতীয় সংবাদমাধ্যম এবং স্থানীয় প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদ সংস্থাগুলো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কভার করেছে এবং সরাসরি সম্প্রচার করেছে। এর ফলে চুয়াডাঙ্গার এই সাংস্কৃতিক উৎসবের বার্তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে।
​আয়োজক কমিটি আশা প্রকাশ করেছে যে, এই সপ্তাহব্যাপী উৎসব চুয়াডাঙ্গার সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে নজরুলপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা আরও সুদৃঢ় করবে। উৎসবের বাকি দিনগুলোতেও সর্বস্তরের জনগণকে সপরিবারে উপস্থিত থাকার জন্য আন্তরিকভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।