ঢাকা ০৫:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪৯ তম বিসিএসের গেজেটে গোপালগঞ্জে প্রার্থীর ৯ জন বাদ

Reporter Name
  • Update Time : ০১:৫৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৬ Time View
Print

লুৎফর সিকদার , গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার চূড়ান্ত নিয়োগ গেজেট প্রকাশের পর গোপালগঞ্জের প্রার্থীদের ফলাফল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। পিএসসির চূড়ান্ত ফলে জেলার ১১ জন প্রার্থী সাময়িকভাবে মনোনীত হলেও বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটে তাঁদের মধ্যে ৯ জনের নাম নেই। এ নিয়ে বাদ পড়া প্রার্থীদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, গোপালগঞ্জের পরিচয় তাঁদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলেছে কি না।

বাদ পড়া ৯ প্রার্থী হলেন: মো. নূরনবী শেখ, আহম্মদ উল্লাহ, সোহাগ মন্ডল, বিপ্লব বাড়ৈ, শেখ আরাফাত কবির, বুশরা জাহান, মো. সাজ্জাদ হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও মো. রাকিবুল ইসলাম।

প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের কয়েকজন নিজ নিজ বিভাগে মেধাক্রমে এগিয়ে ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের আহম্মদ উল্লাহ মেধাক্রমে প্রথম এবং একই বিভাগের সোহাগ মন্ডল তৃতীয় হন। ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের নূরনবী শেখ ছিলেন পঞ্চম। এ ছাড়া সংস্কৃত বিভাগের বিপ্লব বাড়ৈ পঞ্চম, ইতিহাস বিভাগের শেখ আরাফাত কবির ১৫তম এবং ইংরেজি বিভাগের বুশরা জাহান ১৪তম মেধাক্রমে ছিলেন বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

বাদ পড়া প্রার্থী নূরনবী শেখ দাবি করেছেন, জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকায় নিরাপত্তা কার্যক্রমে যুক্ত থাকার পরও গোপালগঞ্জের পরিচয়ের কারণে তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন। মেধাক্রমে প্রথম আহম্মদ উল্লাহও তাঁর বাড়ি গোপালগঞ্জ হওয়াকে বাদ পড়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে বাদ পড়া প্রার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম গোপালগঞ্জের পরিচয়ের কারণে বাদ পড়ার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে মনে করেন না। তিনি বলেন, তাঁকে কী কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই বলতে পারবে।

এদিকে গোপালগঞ্জ থেকে নির্বাচিত দুই প্রার্থীর একজন তন্ময় আইসিটি ক্যাডারে মেধাক্রমে ২১তম এবং মো. অপু খান ম্যানেজমেন্ট ক্যাডারে ষষ্ঠ হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের শিক্ষাজীবনের বড় একটি অংশ গোপালগঞ্জের বাইরে কেটেছে।

সব মিলিয়ে গোপালগঞ্জের ৯ প্রার্থীর বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও শুধু জেলার পরিচয়ের কারণে তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে—এমন কোনো সরকারি নথি বা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

চূড়ান্ত গেজেটে ৬১১ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে পিএসসির চূড়ান্ত ফলে ৬৬৮ জনকে সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ ৫৭ জনের নাম চূড়ান্ত গেজেটে স্থান পায়নি। তবে তাঁদের বাদ পড়ার কারণ গেজেটে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে গোপালগঞ্জের ৯ প্রার্থীসহ বাদ পড়া অন্যদের নিয়োগ না পাওয়ার কারণও এখনো স্পষ্ট নয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

৪৯ তম বিসিএসের গেজেটে গোপালগঞ্জে প্রার্থীর ৯ জন বাদ

Update Time : ০১:৫৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
Print

লুৎফর সিকদার , গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার চূড়ান্ত নিয়োগ গেজেট প্রকাশের পর গোপালগঞ্জের প্রার্থীদের ফলাফল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। পিএসসির চূড়ান্ত ফলে জেলার ১১ জন প্রার্থী সাময়িকভাবে মনোনীত হলেও বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটে তাঁদের মধ্যে ৯ জনের নাম নেই। এ নিয়ে বাদ পড়া প্রার্থীদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, গোপালগঞ্জের পরিচয় তাঁদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলেছে কি না।

বাদ পড়া ৯ প্রার্থী হলেন: মো. নূরনবী শেখ, আহম্মদ উল্লাহ, সোহাগ মন্ডল, বিপ্লব বাড়ৈ, শেখ আরাফাত কবির, বুশরা জাহান, মো. সাজ্জাদ হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও মো. রাকিবুল ইসলাম।

প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের কয়েকজন নিজ নিজ বিভাগে মেধাক্রমে এগিয়ে ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের আহম্মদ উল্লাহ মেধাক্রমে প্রথম এবং একই বিভাগের সোহাগ মন্ডল তৃতীয় হন। ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের নূরনবী শেখ ছিলেন পঞ্চম। এ ছাড়া সংস্কৃত বিভাগের বিপ্লব বাড়ৈ পঞ্চম, ইতিহাস বিভাগের শেখ আরাফাত কবির ১৫তম এবং ইংরেজি বিভাগের বুশরা জাহান ১৪তম মেধাক্রমে ছিলেন বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

বাদ পড়া প্রার্থী নূরনবী শেখ দাবি করেছেন, জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকায় নিরাপত্তা কার্যক্রমে যুক্ত থাকার পরও গোপালগঞ্জের পরিচয়ের কারণে তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন। মেধাক্রমে প্রথম আহম্মদ উল্লাহও তাঁর বাড়ি গোপালগঞ্জ হওয়াকে বাদ পড়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে বাদ পড়া প্রার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম গোপালগঞ্জের পরিচয়ের কারণে বাদ পড়ার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে মনে করেন না। তিনি বলেন, তাঁকে কী কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই বলতে পারবে।

এদিকে গোপালগঞ্জ থেকে নির্বাচিত দুই প্রার্থীর একজন তন্ময় আইসিটি ক্যাডারে মেধাক্রমে ২১তম এবং মো. অপু খান ম্যানেজমেন্ট ক্যাডারে ষষ্ঠ হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের শিক্ষাজীবনের বড় একটি অংশ গোপালগঞ্জের বাইরে কেটেছে।

সব মিলিয়ে গোপালগঞ্জের ৯ প্রার্থীর বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও শুধু জেলার পরিচয়ের কারণে তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে—এমন কোনো সরকারি নথি বা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

চূড়ান্ত গেজেটে ৬১১ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে পিএসসির চূড়ান্ত ফলে ৬৬৮ জনকে সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ ৫৭ জনের নাম চূড়ান্ত গেজেটে স্থান পায়নি। তবে তাঁদের বাদ পড়ার কারণ গেজেটে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে গোপালগঞ্জের ৯ প্রার্থীসহ বাদ পড়া অন্যদের নিয়োগ না পাওয়ার কারণও এখনো স্পষ্ট নয়।