শ্যামনগরে প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
- Update Time : ০৭:৫০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৪ Time View

মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, উপকূলীয় প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধিতে প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান (এনবিএস) বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।সুইডেন দূতাবাস, ঢাকার অর্থায়নে সিএনআরএস-এর নেতৃত্বে আইইউসিএন, বেলা, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, সিডিও ও প্রেরণার অংশীদারত্বে বাস্তবায়নাধীন বিফরআরএল (বিফরআরএল) প্রকল্পের আওতায় আইইউসিএন বাংলাদেশ এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর শ্যামনগর উপজেলার লিডার্স এর হল রুমে ২দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণে শ্যামনগর পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা মৎস্য অফিস, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, কৃষি অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ, সাংবাদিক, সিডিও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ছিল, প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা ও ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং এনবিএস কীভাবে পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ, যোগাযোগ ও দীর্ঘমেয়াদে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায় সে বিষয়ে সক্ষমতা তৈরি করা।প্রশিক্ষণের সেশন পরিচালনা করেন, আইইউসিএন-এর পরামর্শক মো.আনিসুর রহমান, প্রোগ্রাম অফিসার মো. তারেক আজিজ, প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট ইসরাত জাহান ইমা, সিডিওর নির্বাহী পরিচালক গাজী ইমরাম, সিএনআরএস-এর সাইট অফিসার তৌহিদ হাসান এবং ডকুমেন্টেশন ও রিপোর্টিং অফিসার মেহজাবিন মৌ। প্রশিক্ষণে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কণক।
দুই দিনের প্রশিক্ষণে জলবায়ু ঝুঁকি, প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান, স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অভিযোজন, এনবিএস-এর ধরন ও প্রয়োগের মানদণ্ড, জলবায়ু বিপদাপন্নতা ও ঝুঁকি নিরূপণ, প্রশমন, সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও যোগাযোগ, জেন্ডার-অন্তর্ভুক্তিমূলক এনবিএস, মনিটরিং ও ইন্টিগ্রেশন বিষয়ে আলোচনা ও ব্যবহারিক অনুশীলন করা হয়।
প্রশিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দ্বিতীয় দিনে অংশগ্রহণকারীদের শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনীর চুনা ম্যানগ্রোভ বনায়ন এবং রমজাননগরের মানিকখালী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শনে নেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ের এ পরিদর্শনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা উপকূলীয় বাস্তবতায় প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানের প্রয়োগ এবং পানি ব্যবস্থাপনা, প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় জীবিকার পারস্পরিক সম্পর্ক সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন।চুনা ম্যানগ্রোভ বনায়ন পরিদর্শনের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ পুনঃস্থাপনের মধ্য দিয়ে প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন অংশগ্রহণকারীরা। অন্যদিকে মানিকখালী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শনের মাধ্যমে খালের পানি প্রবাহ, জলাবদ্ধতা ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও স্থানীয় জীবিকার সঙ্গে জলাভূমি ও পানি ব্যবস্থাপনার সম্পর্ক সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তারা।প্রশিক্ষণে আলোচনায় উঠে আসে, শ্যামনগরের মতো উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাস, জোয়ারের পানি, লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা মানুষের জীবন-জীবিকায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই কোনো একটি প্রকৃতি-ভিত্তিক উদ্যোগকে শুধু পরিবেশগত কার্যক্রম হিসেবে না দেখে পানি, জীববৈচিত্র্য, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও মানুষের জীবিকার পারস্পরিক সম্পর্ক বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
এ সময় আরও গুরুত্ব দেওয়া হয় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো, সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রকল্পের ফলাফল মূল্যায়নের ওপর। একই সঙ্গে নারী, পুরুষ, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভিন্ন ভিন্ন ঝুঁকি ও প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক এনবিএস- এর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও শ্রেণিকক্ষের আলোচনার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীরা এনবিএস-এর বিভিন্ন স্ট্যান্ডার্ড, অ্যাপ্লিকেশন, মনিটরিং ও ইন্টিগ্রেশন বিষয়ে দলীয় কার্যক্রম ও উপস্থাপনায় অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকায় প্রকৃতি-ভিত্তিক উদ্যোগের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের সক্ষমতা আরও বাড়বে। স্থানীয় জ্ঞান, অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের সঙ্গে ম্যানগ্রোভ পুনঃস্থাপন, খাল পুনরুদ্ধার ও জলবায়ু-স্মার্ট কৃষির মতো উদ্যোগ যুক্ত করা গেলে এসব কার্যক্রম আরও কার্যকর ও টেকসই করার সুযোগ তৈরি হবে।





















