👥 প্রতিনিধি তালিকা 📰 ই-পেপার
ঢাকা ১১:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরে নিজ জমির বেড়া খুলতে গিয়ে হেনস্তার শিকার ব্যবসায়ী

নিজেস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৮:১৩:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১১ Time View
Print

যশোর অফিস:যশোর শহরের পুরাতন কসবা পালবাড়ি গ্রামের ব্যবসায়ী আমির হোসেন নিজের কেনা জমির বেড়া খুলতে গিয়ে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনার পর থেকে জমিতে প্রাচীর নির্মাণের কাজ বন্ধ রয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তদন্তের দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেন ও হয়রানির অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগী। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা।

ভুক্তভোগী আমির হোসেনের অভিযোগ, স্থানীয়দের ও তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্যমতে তিনি নিজের কেনা জমির বেড়া খুলতে যান। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা তাকে জমিতে হেনস্তা করেন এবং কাজ বন্ধ করে দেন। বাধ্য হয়ে তিনি নির্মাণকাজ স্থগিত রাখেন।

আমির হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৬ নম্বর খতিয়ানের ২৯৩ নম্বর দাগে আব্দুল মফিজ বিশ্বাসের কাছ থেকে ১ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং আব্দুর রশিদের কাছ থেকে ৭ দশমিক ২০ শতাংশ জমি কেনেন তিনি। বর্তমানে অন্য শরিকদের কয়েকজন বিরোধ সৃষ্টি করলেও তা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছেন না জমি বিক্রেতারা।

আমির হোসেন জানান, ২০১০ সালে নওদাগা মৌজার পাগলাহ গ্রামে আব্দুর রশিদের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে জমিটি কেনেন তিনি। কেনার পর থেকে শান্তিপূর্ণভাবে জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে গত ২০ সেপ্টেম্বর সকালে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতা-কর্মী জোরপূর্বক জমিতে বেড়া দিয়ে গাছ কেটে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর জমির দখল ও নির্মাণকাজ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। প্রতিকার পেতে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করেও সমাধান পাননি বলে জানান এই ব্যবসায়ী।

এ ঘটনায় আমির হোসেন থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তের দায়িত্ব পান তালবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ইলিয়াস হোসেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অভিযোগের পর অভিযুক্ত পক্ষের সমর্থনে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতা-কর্মী সক্রিয় হন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত পক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

আমির হোসেনের দাবি, গত ২৮ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন নওয়াপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের এক নেতাকে সঙ্গে নিয়ে কালেক্টরেট মার্কেটের একটি দোকানে যান। সেখানে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে ওই যুবলীগ নেতা তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষকে থানায় বসিয়ে সমস্যা সমাধানের কথা বলে তদন্ত কর্মকর্তা নিজেও আরও চার হাজার টাকা নেন বলে দাবি আমির হোসেনের।
তার ভাষ্য, অর্থ লেনদেনের ওই দৃশ্য দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা রয়েছে। সব মিলিয়ে তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে তার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকার বেশি নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আমির হোসেন জানান, পরবর্তী সময়ে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে থানায় একটি বৈঠক হয়। সেখানে জমিটি তার পক্ষে রয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। বৈঠকে তদন্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন উপস্থিত থেকে বেড়া খুলে দেওয়া এবং বিরোধ সমাধানের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার।

ভুক্তভোগীর আরও দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়ি নূরপুর গ্রামে হলেও তারা পাগলাহ গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার সহযোগিতায় জমিতে বেড়া দিয়ে রেখেছেন। এসব ব্যক্তি অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন অনিয়মে মদদ দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আমির হোসেনের তোলা অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তালবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ইলিয়াস হোসেন। তিনি বলেন, থানায় বসেও সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। তবে তার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন নেই।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

যশোরে নিজ জমির বেড়া খুলতে গিয়ে হেনস্তার শিকার ব্যবসায়ী

Update Time : ০৮:১৩:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
Print

যশোর অফিস:যশোর শহরের পুরাতন কসবা পালবাড়ি গ্রামের ব্যবসায়ী আমির হোসেন নিজের কেনা জমির বেড়া খুলতে গিয়ে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনার পর থেকে জমিতে প্রাচীর নির্মাণের কাজ বন্ধ রয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তদন্তের দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেন ও হয়রানির অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগী। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা।

ভুক্তভোগী আমির হোসেনের অভিযোগ, স্থানীয়দের ও তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্যমতে তিনি নিজের কেনা জমির বেড়া খুলতে যান। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা তাকে জমিতে হেনস্তা করেন এবং কাজ বন্ধ করে দেন। বাধ্য হয়ে তিনি নির্মাণকাজ স্থগিত রাখেন।

আমির হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৬ নম্বর খতিয়ানের ২৯৩ নম্বর দাগে আব্দুল মফিজ বিশ্বাসের কাছ থেকে ১ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং আব্দুর রশিদের কাছ থেকে ৭ দশমিক ২০ শতাংশ জমি কেনেন তিনি। বর্তমানে অন্য শরিকদের কয়েকজন বিরোধ সৃষ্টি করলেও তা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছেন না জমি বিক্রেতারা।

আমির হোসেন জানান, ২০১০ সালে নওদাগা মৌজার পাগলাহ গ্রামে আব্দুর রশিদের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে জমিটি কেনেন তিনি। কেনার পর থেকে শান্তিপূর্ণভাবে জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে গত ২০ সেপ্টেম্বর সকালে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতা-কর্মী জোরপূর্বক জমিতে বেড়া দিয়ে গাছ কেটে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর জমির দখল ও নির্মাণকাজ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। প্রতিকার পেতে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করেও সমাধান পাননি বলে জানান এই ব্যবসায়ী।

এ ঘটনায় আমির হোসেন থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তের দায়িত্ব পান তালবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ইলিয়াস হোসেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অভিযোগের পর অভিযুক্ত পক্ষের সমর্থনে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতা-কর্মী সক্রিয় হন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত পক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

আমির হোসেনের দাবি, গত ২৮ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন নওয়াপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের এক নেতাকে সঙ্গে নিয়ে কালেক্টরেট মার্কেটের একটি দোকানে যান। সেখানে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে ওই যুবলীগ নেতা তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষকে থানায় বসিয়ে সমস্যা সমাধানের কথা বলে তদন্ত কর্মকর্তা নিজেও আরও চার হাজার টাকা নেন বলে দাবি আমির হোসেনের।
তার ভাষ্য, অর্থ লেনদেনের ওই দৃশ্য দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা রয়েছে। সব মিলিয়ে তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে তার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকার বেশি নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আমির হোসেন জানান, পরবর্তী সময়ে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে থানায় একটি বৈঠক হয়। সেখানে জমিটি তার পক্ষে রয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। বৈঠকে তদন্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন উপস্থিত থেকে বেড়া খুলে দেওয়া এবং বিরোধ সমাধানের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার।

ভুক্তভোগীর আরও দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়ি নূরপুর গ্রামে হলেও তারা পাগলাহ গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার সহযোগিতায় জমিতে বেড়া দিয়ে রেখেছেন। এসব ব্যক্তি অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন অনিয়মে মদদ দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আমির হোসেনের তোলা অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তালবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ইলিয়াস হোসেন। তিনি বলেন, থানায় বসেও সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। তবে তার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন নেই।