ঢাকা ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরে এতিম অসহায় নারীর পৈতৃক সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : ০৯:২১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৬১ Time View
Print

যশোর অফিস : যশোরে এক এতিম ও অসহায় নারীর পৈতৃক ও দাদার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের অভিযোগ উঠেছে শহিদুল ইসলাম গাজীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই নারী জীবনের নিরাপত্তাহীনতা ও ন্যায়বিচারের আশায় যশোর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ভুক্তভোগী নারীর নাম রেখা খাতুন। তিনি যশোর সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা গ্রামের মৃত রাসূল ইসলাম গাজীর মেয়ে, যিনি রবিউল ইসলাম গাজী নামেও পরিচিত। তার দাদার নাম নজরুল ইসলাম গাজী ওরফে কুরবান গাজী।

অভিযোগে জানা যায়, রেখা খাতুনের বয়স যখন মাত্র চার বছর, তখন তার বাবা মারা যান। পরবর্তীতে তার মা অন্যত্র বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস শুরু করেন। ছোটবেলা থেকেই এতিম ও অসহায় অবস্থায় বেড়ে ওঠা রেখা খাতুনকে তার চাচাতো ভাইয়েরা পৈতৃক ও দাদির বাড়ির সূত্রে প্রাপ্য অধিকার এবং জমির অংশ বুঝিয়ে দেন বলে দাবি করেন তিনি।

রেখা খাতুনের দাবি, দাদি ও পিতার সূত্রে পাওয়া ৭৮ নম্বর খোলাডাঙ্গা মৌজা খতিয়ানের জমিতে তিনি নিজের নামে নামপত্তন (মিউটেশন) করেছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ওই জমির খাজনা-ট্যাক্সও নিয়মিত পরিশোধ করে আসছেন তিনি।

তিনি জানান, ৭৮ নম্বর খোলাডাঙ্গা মৌজা, খতিয়ান নম্বর ১০১৯-এর ১২৪৯, ১২৫৩, ১২৫৪ ও ১২৫৫ নম্বর দাগ—এই চারটি দাগ মিলিয়ে তিনি মোট ১ দশমিক ৮ শতাংশ অর্থাৎ ১০৮ পয়েন্ট জমি পেয়েছেন। ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া ওই জমি নিজের নামে নামপত্তন করার পর তিনি নিয়মিত সরকারি খাজনা পরিশোধ করছেন বলেও দাবি করেন।

তবে অভিযোগ উঠেছে, শহিদুল ইসলাম গাজী (পিতা: জুল গাজী) জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে একটি ভুয়া দলিল তৈরি করে ওই সম্পত্তিতে নিজের দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। শহিদুল ইসলাম নিজেকে মৃত রসূল ইসলাম গাজীর ভাই ও সম্পত্তির অংশীদার দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন বলে অভিযোগ করেন রেখা খাতুন।

ভুক্তভোগীর দাবি, তার বাবা রসূল ইসলাম গাজী জীবিত থাকা অবস্থায় কিংবা মৃত্যুর পূর্বে ওই সম্পত্তি অন্য কারও কাছে দলিল বা হস্তান্তর করেননি। এরপরও তার পিতার নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে শহিদুল ইসলাম জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এছাড়া রেখা খাতুনের অভিযোগ, শহিদুল ইসলাম শুধু তার পৈতৃক সম্পত্তিই নয়, অন্যের জমিও ভোগদখল করে আসছেন। তার দাবি, এমন একটি জমির প্রকৃত মালিক ছিলেন মৃত রুধির কুমার বিশ্বাস ও তার স্ত্রী শেফালী বিশ্বাস। ওই জমিও শহিদুল ইসলাম ভোগদখল করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রেখা খাতুন আরও অভিযোগ করেন, শহিদুল ইসলাম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। তিনি অতীতে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন রেখা খাতুন।

ভুক্তভোগী রেখা খাতুন বলেন, তিনি একজন এতিম ও অসহায় নারী। পৈতৃক ও দাদার সূত্রে পাওয়া জমির বৈধ কাগজপত্র ও নামপত্তন থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে তাকে তার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

রেখা খাতুন জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল তৈরির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, জমির রেকর্ডপত্র ও ওয়ারিশানা যাচাই এবং তার প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যশোর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

যশোরে এতিম অসহায় নারীর পৈতৃক সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের অভিযোগ

Update Time : ০৯:২১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
Print

যশোর অফিস : যশোরে এক এতিম ও অসহায় নারীর পৈতৃক ও দাদার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের অভিযোগ উঠেছে শহিদুল ইসলাম গাজীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই নারী জীবনের নিরাপত্তাহীনতা ও ন্যায়বিচারের আশায় যশোর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ভুক্তভোগী নারীর নাম রেখা খাতুন। তিনি যশোর সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা গ্রামের মৃত রাসূল ইসলাম গাজীর মেয়ে, যিনি রবিউল ইসলাম গাজী নামেও পরিচিত। তার দাদার নাম নজরুল ইসলাম গাজী ওরফে কুরবান গাজী।

অভিযোগে জানা যায়, রেখা খাতুনের বয়স যখন মাত্র চার বছর, তখন তার বাবা মারা যান। পরবর্তীতে তার মা অন্যত্র বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস শুরু করেন। ছোটবেলা থেকেই এতিম ও অসহায় অবস্থায় বেড়ে ওঠা রেখা খাতুনকে তার চাচাতো ভাইয়েরা পৈতৃক ও দাদির বাড়ির সূত্রে প্রাপ্য অধিকার এবং জমির অংশ বুঝিয়ে দেন বলে দাবি করেন তিনি।

রেখা খাতুনের দাবি, দাদি ও পিতার সূত্রে পাওয়া ৭৮ নম্বর খোলাডাঙ্গা মৌজা খতিয়ানের জমিতে তিনি নিজের নামে নামপত্তন (মিউটেশন) করেছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ওই জমির খাজনা-ট্যাক্সও নিয়মিত পরিশোধ করে আসছেন তিনি।

তিনি জানান, ৭৮ নম্বর খোলাডাঙ্গা মৌজা, খতিয়ান নম্বর ১০১৯-এর ১২৪৯, ১২৫৩, ১২৫৪ ও ১২৫৫ নম্বর দাগ—এই চারটি দাগ মিলিয়ে তিনি মোট ১ দশমিক ৮ শতাংশ অর্থাৎ ১০৮ পয়েন্ট জমি পেয়েছেন। ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া ওই জমি নিজের নামে নামপত্তন করার পর তিনি নিয়মিত সরকারি খাজনা পরিশোধ করছেন বলেও দাবি করেন।

তবে অভিযোগ উঠেছে, শহিদুল ইসলাম গাজী (পিতা: জুল গাজী) জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে একটি ভুয়া দলিল তৈরি করে ওই সম্পত্তিতে নিজের দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। শহিদুল ইসলাম নিজেকে মৃত রসূল ইসলাম গাজীর ভাই ও সম্পত্তির অংশীদার দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন বলে অভিযোগ করেন রেখা খাতুন।

ভুক্তভোগীর দাবি, তার বাবা রসূল ইসলাম গাজী জীবিত থাকা অবস্থায় কিংবা মৃত্যুর পূর্বে ওই সম্পত্তি অন্য কারও কাছে দলিল বা হস্তান্তর করেননি। এরপরও তার পিতার নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে শহিদুল ইসলাম জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এছাড়া রেখা খাতুনের অভিযোগ, শহিদুল ইসলাম শুধু তার পৈতৃক সম্পত্তিই নয়, অন্যের জমিও ভোগদখল করে আসছেন। তার দাবি, এমন একটি জমির প্রকৃত মালিক ছিলেন মৃত রুধির কুমার বিশ্বাস ও তার স্ত্রী শেফালী বিশ্বাস। ওই জমিও শহিদুল ইসলাম ভোগদখল করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রেখা খাতুন আরও অভিযোগ করেন, শহিদুল ইসলাম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। তিনি অতীতে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন রেখা খাতুন।

ভুক্তভোগী রেখা খাতুন বলেন, তিনি একজন এতিম ও অসহায় নারী। পৈতৃক ও দাদার সূত্রে পাওয়া জমির বৈধ কাগজপত্র ও নামপত্তন থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে তাকে তার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

রেখা খাতুন জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল তৈরির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, জমির রেকর্ডপত্র ও ওয়ারিশানা যাচাই এবং তার প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যশোর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।