পবিপ্রবিতে ফেসবুক পোস্ট থেকে বিরোধ,সিনিয়র-জুনিয়রদের মুখোমুখি সংঘর্ষ ও ভাঙচুর
- Update Time : ০১:৪৫:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৮ Time View

মোঃ সজিব সরদার স্টাফ রিপোর্টারঃ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীদের বিরোধের জেরে একটি কক্ষে ভাঙচুর ও পরবর্তীতে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৩-৪ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে এ বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। পরে বিষয়টি গড়ায় হলের একটি কক্ষে ভাঙচুর এবং দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায়।
জানা যায়, পবিপ্রবির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শিব্বির আহমেদ ফেসবুকে ‘সিনিয়র না হলে মারতাম’—এমন একটি পোস্ট দেন। পোস্টটি তাঁর সিনিয়র ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম আহমেদের নজরে এলে তিনি এটিকে ব্যক্তিগত হুমকি হিসেবে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে শিব্বিরকে ডেকে নিয়ে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরে বুধবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে সিয়াম আহমেদ শিব্বিরের কক্ষের দিকে গিয়ে দরজা ও জানালার কাচ ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে জানালার কাচ ছিটকে এক শিক্ষার্থী আহত হন এবং কক্ষে থাকা একটি ল্যাপটপ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে দাবি করেছেন শিব্বির।
এ বিষয়ে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শিব্বির আহমেদ বলেন, ‘রাতে হলের একটি কক্ষে একজন সিনিয়র শিক্ষার্থী হামলা চালিয়ে দরজা ও জানালা ভাঙচুর করেন।
জানালার কাচ ছিটকে আমাদের এক ব্যাচমেটের মাথায় আঘাত লাগে। টেবিলের ওপর থাকা একটি ল্যাপটপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের জানমালের নিরাপত্তা কোথায়। ওই শিক্ষার্থী এর আগেও র্যাগিংয়ের ঘটনায় বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। আবারও কি সেই পুরোনো বিরোধের জের ধরে এ হামলা করা হয়েছে।
ভোরের ঘটনার পর বুধবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড এলাকায় ফের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সিয়ামের বন্ধু ইফতিকে আটকে রেখে সিয়াম আহমেদ ও পলক আহমেদকে সেখানে আসতে বাধ্য করা হয়। পরে সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
তবে সিয়াম আহমেদের দাবি, তাঁর বন্ধু ইফতিকে আটকে রেখে তাঁকে ও পলক আহমেদকে প্যারিস রোডে যেতে বাধ্য করা হয়। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
ঘটনার পর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভবিষ্যতে বিষয়টি আরও বড় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কাও করছেন অনেকে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি অবগত আছি। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্পাসে এ ধরনের ঘটনা কখনোই কাম্য নয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

























