ঢাকা ০৯:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহ কেসি কলেজে ছাত্রদল-শিবিরের উত্তেজনা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ, রাস্তার উপর শিবিরের নবীনবরণ ও অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি

Reporter Name
  • Update Time : ০৪:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১১ Time View
Print

রাসেল হোসেন ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও চরম উত্তেজনার জেরে ঝিনাইদহ সরকারি কেশব চন্দ্র (কেসি) কলেজে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সভা-সমাবেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বৃহস্পতিবার সকালে শ্রেণি কার্যক্রমও স্থগিত রাখা হয়।

কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরের পূর্বনির্ধারিত ‘নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ কর্মসূচি করতে না পেরে বাধ্য হয়ে কলেজের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে ট্রাকের ওপর ভ্রাম্যমাণ মঞ্চ বানিয়ে বিকল্প উপায়ে প্রতীকী নবীনবরণ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ছাত্রশিবির।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকে পারস্পরিক কমেন্টকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে কেসি কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় কলেজ কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে।

সকালে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে আগত শিক্ষার্থীরা কলেজে ঢুকতে না পেরে ফিরে যাওয়ার উপক্রম হলে শিবিরের নেতাকর্মীরা তালাবদ্ধ প্রধান ফটকের সামনেই অবস্থান নেন। পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই সড়কে একটি ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ প্রস্তুত করে সেখানেই প্রতিবাদ সমাবেশ ও নবীনবরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

উন্মুক্ত রাস্তার ওই প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আউয়াল এবং সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।

সমাবেশে সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কলেজ প্রশাসন ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে আচরণ করছে। লিখিতভাবে নবীনবরণের অনুমোদন দেওয়ার পরও অনুষ্ঠানের দিন সকালে পুরো ক্যাম্পাস বন্ধ করে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অন্যায় সিদ্ধান্ত ও ফ্যাসিবাদী আচরণের জবাব ঝিনাইদহের সাধারণ মানুষই দেবে। প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপালকে এই সিদ্ধান্ত ও বিশৃঙ্খলার দায় নিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।”

সড়কের ওপর প্রতিবাদ সমাবেশ শেষ করে পরে ঝিনাইদহ শহরের একটি স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টারে শিক্ষার্থীদের মূল অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে কেসি কলেজ শাখা ছাত্রশিবির। সেখানে নবীন শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান।

এদিকে লিখিত অনুমতি দিয়েও হঠাৎ সকালে কেসি কলেজের প্রধান ফটকে তালা ঝোলানো, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবরুদ্ধ করা এবং প্রশাসনিক এই কঠোর অবস্থানের বিষয়ে জানতে কলেজের অধ্যক্ষ (প্রিন্সিপাল) ড. মাসরুর উল আলমের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

ঝিনাইদহ কেসি কলেজে ছাত্রদল-শিবিরের উত্তেজনা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ, রাস্তার উপর শিবিরের নবীনবরণ ও অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি

Update Time : ০৪:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
Print

রাসেল হোসেন ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও চরম উত্তেজনার জেরে ঝিনাইদহ সরকারি কেশব চন্দ্র (কেসি) কলেজে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সভা-সমাবেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বৃহস্পতিবার সকালে শ্রেণি কার্যক্রমও স্থগিত রাখা হয়।

কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরের পূর্বনির্ধারিত ‘নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ কর্মসূচি করতে না পেরে বাধ্য হয়ে কলেজের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে ট্রাকের ওপর ভ্রাম্যমাণ মঞ্চ বানিয়ে বিকল্প উপায়ে প্রতীকী নবীনবরণ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ছাত্রশিবির।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকে পারস্পরিক কমেন্টকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে কেসি কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় কলেজ কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে।

সকালে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে আগত শিক্ষার্থীরা কলেজে ঢুকতে না পেরে ফিরে যাওয়ার উপক্রম হলে শিবিরের নেতাকর্মীরা তালাবদ্ধ প্রধান ফটকের সামনেই অবস্থান নেন। পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই সড়কে একটি ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ প্রস্তুত করে সেখানেই প্রতিবাদ সমাবেশ ও নবীনবরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

উন্মুক্ত রাস্তার ওই প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আউয়াল এবং সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।

সমাবেশে সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কলেজ প্রশাসন ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে আচরণ করছে। লিখিতভাবে নবীনবরণের অনুমোদন দেওয়ার পরও অনুষ্ঠানের দিন সকালে পুরো ক্যাম্পাস বন্ধ করে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অন্যায় সিদ্ধান্ত ও ফ্যাসিবাদী আচরণের জবাব ঝিনাইদহের সাধারণ মানুষই দেবে। প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপালকে এই সিদ্ধান্ত ও বিশৃঙ্খলার দায় নিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।”

সড়কের ওপর প্রতিবাদ সমাবেশ শেষ করে পরে ঝিনাইদহ শহরের একটি স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টারে শিক্ষার্থীদের মূল অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে কেসি কলেজ শাখা ছাত্রশিবির। সেখানে নবীন শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান।

এদিকে লিখিত অনুমতি দিয়েও হঠাৎ সকালে কেসি কলেজের প্রধান ফটকে তালা ঝোলানো, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবরুদ্ধ করা এবং প্রশাসনিক এই কঠোর অবস্থানের বিষয়ে জানতে কলেজের অধ্যক্ষ (প্রিন্সিপাল) ড. মাসরুর উল আলমের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।