ঝিনাইদহে জমি-জমা সংক্রান্ত বিবাদে সন্তানসম যুবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষ/ণচেষ্টার মামলা করে ফেঁসে গেলেন বাদী
- Update Time : ০৭:৪২:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৭ Time View

রাসেল হোসেন,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি; জমিজমা সংক্রান্ত শত্রুতায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে সাজানো হয়েছিল ধর্ষণচেষ্টার মিথ্যা মামলা। তবে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও পিবিআই তদন্তে শেষ রক্ষা হয়নি; উল্টো আইনের অপব্যবহার ও মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের অপরাধে বিচারকের নির্দেশে এখন কারাগারে যেতে হলো মামলার বাদী বিউটি খাতুনকে (৪৫)।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে বিউটি খাতুনকে গ্রেফতার করে। বিকেলে আদালতের সোপর্দ করা হলে ট্রাইব্যুনাল তাঁকে ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মো. বসির উদ্দীন। গ্রেফতারকৃত নারী ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বারইহুদা গ্রামের বাবর আলীর মেয়ে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ শহরের চরমুরারিদহ এলাকার একটি বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে ঝিনাইদহের ব্যবসায়ী মিরাজ জামান রাজের সঙ্গে বিউটি খাতুনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে বিউটি খাতুন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ৯(খ) ধারায় শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা ঠুকে দেন।
মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে পিবিআই-কে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারক। পিবিআইয়ের নিবিড় অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি; কেবল জমি বিরোধের জেরে সম্পূর্ণ মনগড়া ও কাল্পনিক অভিযোগ এনে ব্যবসায়ীকে হেনস্থা করা হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর ট্রাইব্যুনাল মামলাটি ভিত্তিহীন ঘোষণা করে খারিজ করে দেন।
পরবর্তীতে ব্যবসায়ী মিরাজ জামান রাজ নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ শেষে বাদী নারীর বিরুদ্ধে হেনস্থা ও মানহানির অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় পাল্টা পিটিশন মামলা (নং- ৯১/২০২৬) দায়ের করেন। ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি আমলে নিয়ে বিউটি খাতুনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
ব্যবসায়ী মিরাজ জামান রাজ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু সেটিকে কেন্দ্র করে একটা মানুষের চরিত্র হনন ও সামাজিক মর্যাদা নষ্ট করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আইনের অপব্যবহার করে আমাকে চরম ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছিল। পিবিআই-এর নিরপেক্ষ তদন্ত ও আদালতের এই রায়ে সত্যের জয় হয়েছে।”
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান জানান, বিজ্ঞ আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে আসামি বিউটি খাতুনকে গ্রেফতার করা হয় এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।



















