ঢাকা ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উথলিতে জামায়াতের নেতা বহিষ্কার সংকীর্ণতার বলি জনপ্রিয় নেতা আহাদ আলী

নিজেস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৭:৫৫:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৯ Time View
Print

উথলিতে জামায়াতের নেতা বহিষ্কার সংকীর্ণতার বলি জনপ্রিয় নেতা,যুব বিভাগ,আহাদ আলী: গণমানুষের সেবাই যাঁর একমাত্র অপরাধ! দৈনিক বাংলাদেশের চিত্র। দামুড়হুদা উপজেলা
মোঃ জসিম উদ্দিন,নিজেস্ব প্রতিনিধি:রাজনীতি কি মানুষের কল্যাণের জন্য, নাকি কেবল দলীয় স্বার্থের অন্ধ শিকল ধরে রাখার জন্য?— জীবননগর উপজেলার উথলি ইউনিয়নের রাজনীতিতে সম্প্রতি ঘটা একটি ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে এই প্রশ্নটিই নতুন করে দেখা দিয়েছে। উথলি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ আহাদ আলী (পিতা: মোঃ আব্দুর অদুদ)-কে সম্পূর্ণ অন্যায় ও অগণতান্ত্রিকভাবে দল থেকে বহিষ্কার করেছে স্থানীয় জামায়াত নেতৃত্ব। তাঁর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ—তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এলাকার জনপ্রিয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে জনমত গঠন ও প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন।
তবে দল বহিষ্কার করলেও এলাকার সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তাঁর স্থান একটুও কমেনি, বরং এই ঘটনার পর থেকে উথলিতে মোঃ আহাদ আলীর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।
এলাকার সর্বস্তরের মানুষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোঃ আহাদ আলী দীর্ঘদিন ধরে উথলি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে আত্মনিয়োগ করে আসছেন। যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখা, গরিব-দুঃখীদের পাশে দাঁড়ানো কিংবা যেকোনো বিপদে এগিয়ে আসার ক্ষেত্রে তিনি বরাবরই সামনের সারিতে ছিলেন। রাজনীতির সংকীর্ণ গণ্ডি পেরিয়ে তিনি সবসময় এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, যোগ্য ও সৎ জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের তাগিদ থেকেই তিনি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর প্রচারণায় সক্রিয় হন। একজন সচেতন নাগরিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে এলাকার সুশাসন নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। অথচ স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী তাঁর এই জনকল্যাণমুখী ও প্রগতিশীল উদ্যোগকে বরদাস্ত করতে পারেনি। দলীয় সংকীর্ণতা ও অন্ধ সিদ্ধান্ত থেকে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের নোটিশ দেওয়া হয়।
বহিষ্কারের এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই উথলি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডসহ পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “আহাদ আলী কোনো অন্যায়ের সাথে যুক্ত ছিলেন না। তিনি এলাকার স্বার্থে, জনগণের খেদমতে ভালো প্রার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। দল থেকে বাদ দিয়ে তাঁর প্রতি চরম অন্যায় করা হয়েছে, কিন্তু জনগণের মন থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া সম্ভব নয়।”
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মোঃ আহাদ আলী বলেন, “আমার প্রথম পরিচয় আমি এলাকার মানুষের সন্তান। মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং এলাকার সুশাসন নিশ্চিত করাই আমার মূল উদ্দেশ্য। পদ-পদবি বা দলীয় পরিচয় বড় কথা নয়, জনগণের ভালোবাসা নিয়ে আমি সারাজীবন সমাজসেবা করে যেতে চাই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও এলাকার সচেতন মহলের মতে, মোঃ আহাদ আলীকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী মূলত নিজেদেরই সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। অন্যদিকে, এই অন্যায়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মোঃ আহাদ আলী প্রমাণ করেছেন—তিনি ক্ষমতার রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে জনগণের প্রকৃত সেবক হতে চান। অন্যায্য এই বহিষ্কারের পর উথলির যুবসমাজ ও সাধারণ জনগণ আরও ঐক্যবদ্ধভাবে এই তরুণ সমাজসেবকের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

উথলিতে জামায়াতের নেতা বহিষ্কার সংকীর্ণতার বলি জনপ্রিয় নেতা আহাদ আলী

Update Time : ০৭:৫৫:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
Print

উথলিতে জামায়াতের নেতা বহিষ্কার সংকীর্ণতার বলি জনপ্রিয় নেতা,যুব বিভাগ,আহাদ আলী: গণমানুষের সেবাই যাঁর একমাত্র অপরাধ! দৈনিক বাংলাদেশের চিত্র। দামুড়হুদা উপজেলা
মোঃ জসিম উদ্দিন,নিজেস্ব প্রতিনিধি:রাজনীতি কি মানুষের কল্যাণের জন্য, নাকি কেবল দলীয় স্বার্থের অন্ধ শিকল ধরে রাখার জন্য?— জীবননগর উপজেলার উথলি ইউনিয়নের রাজনীতিতে সম্প্রতি ঘটা একটি ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে এই প্রশ্নটিই নতুন করে দেখা দিয়েছে। উথলি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ আহাদ আলী (পিতা: মোঃ আব্দুর অদুদ)-কে সম্পূর্ণ অন্যায় ও অগণতান্ত্রিকভাবে দল থেকে বহিষ্কার করেছে স্থানীয় জামায়াত নেতৃত্ব। তাঁর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ—তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এলাকার জনপ্রিয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে জনমত গঠন ও প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন।
তবে দল বহিষ্কার করলেও এলাকার সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তাঁর স্থান একটুও কমেনি, বরং এই ঘটনার পর থেকে উথলিতে মোঃ আহাদ আলীর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।
এলাকার সর্বস্তরের মানুষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোঃ আহাদ আলী দীর্ঘদিন ধরে উথলি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে আত্মনিয়োগ করে আসছেন। যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখা, গরিব-দুঃখীদের পাশে দাঁড়ানো কিংবা যেকোনো বিপদে এগিয়ে আসার ক্ষেত্রে তিনি বরাবরই সামনের সারিতে ছিলেন। রাজনীতির সংকীর্ণ গণ্ডি পেরিয়ে তিনি সবসময় এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, যোগ্য ও সৎ জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের তাগিদ থেকেই তিনি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর প্রচারণায় সক্রিয় হন। একজন সচেতন নাগরিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে এলাকার সুশাসন নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। অথচ স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী তাঁর এই জনকল্যাণমুখী ও প্রগতিশীল উদ্যোগকে বরদাস্ত করতে পারেনি। দলীয় সংকীর্ণতা ও অন্ধ সিদ্ধান্ত থেকে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের নোটিশ দেওয়া হয়।
বহিষ্কারের এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই উথলি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডসহ পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “আহাদ আলী কোনো অন্যায়ের সাথে যুক্ত ছিলেন না। তিনি এলাকার স্বার্থে, জনগণের খেদমতে ভালো প্রার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। দল থেকে বাদ দিয়ে তাঁর প্রতি চরম অন্যায় করা হয়েছে, কিন্তু জনগণের মন থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া সম্ভব নয়।”
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মোঃ আহাদ আলী বলেন, “আমার প্রথম পরিচয় আমি এলাকার মানুষের সন্তান। মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং এলাকার সুশাসন নিশ্চিত করাই আমার মূল উদ্দেশ্য। পদ-পদবি বা দলীয় পরিচয় বড় কথা নয়, জনগণের ভালোবাসা নিয়ে আমি সারাজীবন সমাজসেবা করে যেতে চাই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও এলাকার সচেতন মহলের মতে, মোঃ আহাদ আলীকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী মূলত নিজেদেরই সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। অন্যদিকে, এই অন্যায়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মোঃ আহাদ আলী প্রমাণ করেছেন—তিনি ক্ষমতার রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে জনগণের প্রকৃত সেবক হতে চান। অন্যায্য এই বহিষ্কারের পর উথলির যুবসমাজ ও সাধারণ জনগণ আরও ঐক্যবদ্ধভাবে এই তরুণ সমাজসেবকের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।