সারাদেশের গ্রাম পুলিশদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক মহাসমাবেশ, বাড়ল বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা
- Update Time : ০৫:৫৪:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / ৪ Time View

দেশের তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী গ্রাম পুলিশদের মর্যাদা, বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে একাধিক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ ঢাকায় সারাদেশের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক বিশাল মহাসমাবেশে এসব ঘোষণা দেন তিনি। আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৪০ হাজারেরও বেশি গ্রাম পুলিশ সদস্য অংশগ্রহণ করেন। গ্রাম পুলিশদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে এত বড় পরিসরের আয়োজন দেশের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম পুলিশ সদস্যদের দীর্ঘদিনের পরিচয় ও পেশাগত মর্যাদার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি তাঁদের প্রচলিত ‘মহল্লাদার’ পরিচয়ের পরিবর্তে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গ্রাম পুলিশ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর কথা জানান।
ঘোষণা অনুযায়ী, যেসব গ্রাম পুলিশ সদস্য বর্তমানে ৭ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পান, তাঁদের বেতন বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা করা হবে। আর যাঁদের বর্তমান বেতন ৮ হাজার টাকা, তাঁদের বেতন নির্ধারণ করা হবে ১১ হাজার টাকা।
এ ছাড়া থানায় যাতায়াত বাবদ ভাতা দ্বিগুণ করার পাশাপাশি মোবাইল ফোন ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত খরচ প্রদানের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। গ্রাম পুলিশ সদস্যদের আনুতোষিক ভাতা বাড়িয়ে ৭০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
নারীদের কর্মসংস্থান ও অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন করে নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। নারী সদস্যদের জন্য ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
গ্রাম পুলিশ সদস্যদের চলাচল ও দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে আগামী তিন বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রত্যেককে একটি করে সাইকেল দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবারের মতো গ্রাম পুলিশ সদস্যদের জন্য ঈদ বোনাস চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় পর এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁদের বেতন-ভাতা, কর্মপরিবেশ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন।
মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি যে, দেশের প্রতিটি গ্রাম বা প্রতিটি ইউনিয়ন নিরাপদ থাকলে বাংলাদেশ নিরাপদ থাকবে। তৃণমূলের জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তি ও স্বস্তি নিশ্চিত হলেই পুরো বাংলাদেশ শান্তি ও স্বস্তিতে থাকবে।”
তার বক্তব্যে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, দেশের স্বার্থই সর্বাগ্রে। তার ভাষায়, “দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ।”
গ্রাম পুলিশ সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ, প্রশাসনকে সহযোগিতা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অথচ তাদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা দাবি ও প্রত্যাশা ছিল।
প্রধানমন্ত্রীর আজকের ঘোষণাগুলো বাস্তবায়িত হলে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের আর্থিক অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি পেশাগত মর্যাদা ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সারাদেশের হাজারো গ্রাম পুলিশ সদস্যের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মহাসমাবেশ এবং তাদের কল্যাণে ঘোষিত নতুন উদ্যোগগুলো দেশের স্থানীয় প্রশাসন ও গ্রামীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকতে পারে।


























