ঢাকা ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাণীশংকৈলে পদে থাকা চেয়ারম্যানের প্রভাব খাটিয়ে স্কুলে অনুপস্থিত থেকেও শিক্ষকের বেতন উত্তোলন

Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৭:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • / ১০ Time View
Print

একে আজাদ,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বাংলাগড় হাইস্কুলে সহকারী শিক্ষক শরৎচন্দ্র রায়ের গত তিন মাস ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) মাধ্যমে বেতন-ভাতা তুলেছেন। তিনি একই সঙ্গে উপজেলার রাতোর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। এ প্রভাব খাটিয়ে তিনি স্কুলে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন তুলছেন শিক্ষক

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তিনি চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে টানা তিন মাস ৫ দিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় তার কোনো স্বাক্ষর নেই। স্কুলের হাজিরা খাতায় দেখা যায়, ৩ মাস ৫ দিন ধরে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেনি ওই শিক্ষক। এবং কোনো রকম ছুটি ছাড়াই তিনি মাসের পর মাস স্কুলে অনুপস্থিত থাকছেন। এনিয়ে স্থানীয়দের জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অপরদিকে, বাংলাগড় হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা বলেন, আমদের শরৎচন্দ্র স্যার অনেকদিন ধরে স্কুলে আসেন না।

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক শরৎচন্দ্র রায় মুঠোফোনে বলেন, বেতন উত্তোলন করতে পারবো তবে নিয়মানুযায়ী হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর থাকা উচিত। এ বিষয়ে বাংলাগড় উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত কুমার রায় বলেন, সহকারী শিক্ষক শরৎচন্দ্র রায় একই সাথে আবার বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে আসছেন না তো, এটা নিয়ে আমি অসহায় হয়ে পড়েছি। তবে, তিনি এ সময়ে বেতন তুলতে পারেন না।

রাণীশংকৈল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) বেলাল উদ্দিন জানান, স্কুল না করে ওই সহকারী শিক্ষক বেতন নিতে পারেন না। বিষয়টি আপনি জানতেন কিনা প্রশ্ন করা হলে শিক্ষা অফিসার বলেন, আমি আগে জানতে পারিনি, সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রথম জানলাম। তিনি আরও বলেন, স্কুল কতৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

রাণীশংকৈলে পদে থাকা চেয়ারম্যানের প্রভাব খাটিয়ে স্কুলে অনুপস্থিত থেকেও শিক্ষকের বেতন উত্তোলন

Update Time : ১১:১৭:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
Print

একে আজাদ,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বাংলাগড় হাইস্কুলে সহকারী শিক্ষক শরৎচন্দ্র রায়ের গত তিন মাস ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) মাধ্যমে বেতন-ভাতা তুলেছেন। তিনি একই সঙ্গে উপজেলার রাতোর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। এ প্রভাব খাটিয়ে তিনি স্কুলে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন তুলছেন শিক্ষক

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তিনি চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে টানা তিন মাস ৫ দিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় তার কোনো স্বাক্ষর নেই। স্কুলের হাজিরা খাতায় দেখা যায়, ৩ মাস ৫ দিন ধরে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেনি ওই শিক্ষক। এবং কোনো রকম ছুটি ছাড়াই তিনি মাসের পর মাস স্কুলে অনুপস্থিত থাকছেন। এনিয়ে স্থানীয়দের জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অপরদিকে, বাংলাগড় হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা বলেন, আমদের শরৎচন্দ্র স্যার অনেকদিন ধরে স্কুলে আসেন না।

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক শরৎচন্দ্র রায় মুঠোফোনে বলেন, বেতন উত্তোলন করতে পারবো তবে নিয়মানুযায়ী হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর থাকা উচিত। এ বিষয়ে বাংলাগড় উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত কুমার রায় বলেন, সহকারী শিক্ষক শরৎচন্দ্র রায় একই সাথে আবার বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে আসছেন না তো, এটা নিয়ে আমি অসহায় হয়ে পড়েছি। তবে, তিনি এ সময়ে বেতন তুলতে পারেন না।

রাণীশংকৈল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) বেলাল উদ্দিন জানান, স্কুল না করে ওই সহকারী শিক্ষক বেতন নিতে পারেন না। বিষয়টি আপনি জানতেন কিনা প্রশ্ন করা হলে শিক্ষা অফিসার বলেন, আমি আগে জানতে পারিনি, সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রথম জানলাম। তিনি আরও বলেন, স্কুল কতৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।