ঢাকা ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর-চ্যাংখালী সড়কে তীব্র যানজট, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

Reporter Name
  • Update Time : ১১:২২:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • / ৪ Time View
Print

চুয়াডাঙ্গার সীমান্তবর্তী জীবননগর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র বাসস্ট্যান্ড থেকে চ্যাংখালী সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে তীব্র যানজটের কারণে জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের দুই পাশে দোকানের মালামাল ও যানবাহন রাখার কারণে প্রতিদিনই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে সপ্তাহের রবি ও বুধবার অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক হাটের দিন পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে।

জানা গেছে, জীবননগর উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। উপজেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষও কেনাকাটা ও বিভিন্ন প্রয়োজনে জীবননগর বাজারে আসেন। ফলে প্রতিদিনই এই সড়কে যানবাহন ও মানুষের চাপ থাকে। হাটের দিন অতিরিক্ত ভিড়ে যানজট ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থায়ী হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশে সরকারি জায়গা থাকলেও বিভিন্ন দোকানদার দোকানের মালামাল বাইরে ফুটপাত ও সড়কের পাশে সাজিয়ে রাখেন। এছাড়া ক্রেতারা তাদের মোটরসাইকেল ও সাইকেল সড়কের ওপরই পার্কিং করায় যান চলাচল আরও ব্যাহত হয়। পৌর কর্তৃপক্ষ একাধিকবার নোটিশ দিলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

দোকানদাররা জানান, উচ্চ ভাড়ায় দোকান নিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে। দোকানের ভেতরে সব মালামাল রাখলে ক্রেতাদের নজরে আসে না। তাই জীবিকার তাগিদেই তারা বাধ্য হয়ে দোকানের বাইরে পণ্য প্রদর্শন করেন।

এদিকে সচেতন মহল বলছেন, জীবননগর-চ্যাংখালী সড়কের দুই পাশে জেলা পরিষদের জায়গায় গড়ে ওঠা দোকানগুলোর কারণে সড়কটি দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও সড়ক ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে।

উল্লেখ্য, জীবননগর-চ্যাংখালী সড়কের পাশেই জীবননগর উপজেলা পরিষদ, একই সড়কে জীবননগর থানা, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর অবস্থিত।

এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ সেবা নিতে আসেন।

তাই দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর-চ্যাংখালী সড়কে তীব্র যানজট, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

Update Time : ১১:২২:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
Print

চুয়াডাঙ্গার সীমান্তবর্তী জীবননগর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র বাসস্ট্যান্ড থেকে চ্যাংখালী সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে তীব্র যানজটের কারণে জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের দুই পাশে দোকানের মালামাল ও যানবাহন রাখার কারণে প্রতিদিনই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে সপ্তাহের রবি ও বুধবার অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক হাটের দিন পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে।

জানা গেছে, জীবননগর উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। উপজেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষও কেনাকাটা ও বিভিন্ন প্রয়োজনে জীবননগর বাজারে আসেন। ফলে প্রতিদিনই এই সড়কে যানবাহন ও মানুষের চাপ থাকে। হাটের দিন অতিরিক্ত ভিড়ে যানজট ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থায়ী হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশে সরকারি জায়গা থাকলেও বিভিন্ন দোকানদার দোকানের মালামাল বাইরে ফুটপাত ও সড়কের পাশে সাজিয়ে রাখেন। এছাড়া ক্রেতারা তাদের মোটরসাইকেল ও সাইকেল সড়কের ওপরই পার্কিং করায় যান চলাচল আরও ব্যাহত হয়। পৌর কর্তৃপক্ষ একাধিকবার নোটিশ দিলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

দোকানদাররা জানান, উচ্চ ভাড়ায় দোকান নিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে। দোকানের ভেতরে সব মালামাল রাখলে ক্রেতাদের নজরে আসে না। তাই জীবিকার তাগিদেই তারা বাধ্য হয়ে দোকানের বাইরে পণ্য প্রদর্শন করেন।

এদিকে সচেতন মহল বলছেন, জীবননগর-চ্যাংখালী সড়কের দুই পাশে জেলা পরিষদের জায়গায় গড়ে ওঠা দোকানগুলোর কারণে সড়কটি দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও সড়ক ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে।

উল্লেখ্য, জীবননগর-চ্যাংখালী সড়কের পাশেই জীবননগর উপজেলা পরিষদ, একই সড়কে জীবননগর থানা, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর অবস্থিত।

এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ সেবা নিতে আসেন।

তাই দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।