রাউজানে নোয়াপাড়া একতা সংঘের উদ্যোগে ৩৯তম বর্ষে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন
- Update Time : ১১:০৭:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
- / ৯ Time View

মিলন বৈদ্য শুভ, রাউজান (চট্টগ্রাম):চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডুল্লাপাড়া শ্রীশ্রী দুর্গা মাতৃমন্দির প্রাঙ্গণে নোয়াপাড়া একতা সংঘের উদ্যোগে ৩৯তম বর্ষে শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্ত-দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উৎসবের আয়োজনের মধ্যে ছিল দেবী দুর্গার বরণ, আমন্ত্রণ ও অধিবাস, পূজা-অর্চনা, ঢাক-ঢোলের তালে আরতি, পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন এবং অন্নপ্রসাদ বিতরণ। পূজার আনুষ্ঠানিকতা ও ভক্তিমূলক আয়োজনে মন্দির প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে।
এ বছর দেবী দুর্গার প্রতিমায় নান্দনিক কারুকার্য ও ডিজিটাল নকশার সমন্বয়ে দৃষ্টিনন্দন রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়। প্রতিমার সৌন্দর্য ও শৈল্পিক উপস্থাপনা ভক্ত-দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং তাঁদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নেয়।
উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিজয় মহাজন, সাধারণ সম্পাদক রাজু মহাজন, অর্থ সম্পাদক শিবলু সেন, ধনা মহাজন ভুলুসহ সংঘের অন্যান্য সদস্য সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও আয়োজন সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
প্রয়াত নান্টু কুমার দে নটুর স্মরণে নীরবতা পালন,
উৎসবের আয়োজনের পাশাপাশি নোয়াপাড়া একতা সংঘের সাবেক সভাপতি প্রয়াত নান্টু কুমার দে নটুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। তাঁর অকালপ্রয়াণে সংগঠনের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা কখনো পূরণ হওয়ার নয় বলে আয়োজকরা উল্লেখ করেন।
সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, উন্নয়নমূলক অবদান ও সাংগঠনিক ভূমিকার মধ্য দিয়ে তিনি সদস্যদের হৃদয়ে আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন বলে জানান তাঁরা। তাঁর আত্মার শান্তি ও মঙ্গল কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাসে দেবী দুর্গা শক্তি, সাহস, ন্যায় ও কল্যাণের প্রতীক। পুরাণে বর্ণিত আছে, অসুরশক্তির বিনাশ এবং দেবতা ও মানবজাতিকে রক্ষার জন্য দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। মহিষাসুরের বিরুদ্ধে তাঁর বিজয় অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির চিরন্তন বিজয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় উপাসনার উৎসব নয়; এটি সম্প্রীতি, মানবিকতা, ঐক্য ও আনন্দেরও বার্তা বহন করে। দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে ভক্তরা অশুভ, অন্যায় ও অন্ধকার দূর করে সত্য, ন্যায় ও কল্যাণের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা লাভ করেন।
নোয়াপাড়া একতা সংঘের ৩৯ বছরের এই ধারাবাহিক আয়োজন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক চর্চা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।



















