রংপুরে গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ভিসা জালিয়াতি ও প্রতারণা চক্রের ৩ সদস্য আটক।
- Update Time : ০৯:৫১:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
- / ৪১ Time View

নিজেস্ব প্রতিবেদন:
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় এবং মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ভিসা জালিয়াতি ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের ৩ সদস্যকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর আনুমানিক ২:৩০ ঘটিকায় নগরীর তাজহাট থানাধীন কলেজপাড়া এলাকার সিডিটি হাউজিং সোসাইটির একটি ভাড়া বাসায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ জাল ভিসা সংবলিত পাসপোর্ট, ভুয়া ডকুমেন্ট এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।
আটককৃতরা হলো:
১. রুহানুর রহমান (২৩), পিতা- আবুল কাশেম, সাং- উত্তম, হাজিরহাট, রংপুর মহানগর।
২. শফিক ইসলাম (৩১), পিতা- মৃত আব্দুল গফুর, সাং- খাতা মধুপুর, হাজারিহাট, সৈয়দপুর, নীলফামারী।
৩. হিমেল ইসলাম (২২), পিতা- বাদল মিয়া, সাং- ঘোনপাড়া (বেলতলী বাজার), কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী।
অভিযানে উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে:
• অস্ট্রেলিয়ার জাল ভিসা সংযুক্ত ১০টি বাংলাদেশি অরিজিনাল পাসপোর্ট।
• ২টি ভুয়া অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্ট।
• ১টি এসএস মেটাল টেবিল নেমপ্লেট।
• নেমপ্লেটে ব্যবহারের জন্য ৪টি নেম ট্যাগ।
• Costa Group, Australia-এর Director Admin পরিচয় সম্বলিত ১টি ভুয়া আইডি কার্ড।
• Costa Group, Australia-এর নাম ও লোগো সংবলিত ২টি প্যানাফ্লেক্স ব্যানার।
• ১টি ল্যাপটপ।
• ৪টি মোবাইল ফোন।
• ভুয়া অফার লেটার, জাল ভিসা ডকুমেন্ট, অর্থ আদায়ের রশিদ, ভুয়া বিমান টিকিটসহ ৩০ সেট কাগজপত্র, যা VFS-এর খামে সংরক্ষিত ছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানায়, তারা সংঘবদ্ধভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে Costa Group Australia-এর নামে ভুয়া পেজ খুলে বিদেশে চাকরি ও অস্ট্রেলিয়ান ভিসা প্রদানের প্রলোভন দেখিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করত। অসচেতন ব্যক্তি ও বিদেশগামীদের লক্ষ্য করে তারা প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করত।
বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির উদ্দেশ্যে তারা নিজেদের অফিসে Costa Group-এর নাম ব্যবহার করে ব্যানার, নেমপ্লেট ও পরিচয়পত্র প্রদর্শন করত। আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে তাতে জাল ভিসা সংযুক্ত করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত।
উদ্ধারকৃত পাসপোর্টগুলোর মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, তারা অস্ট্রেলিয়ার ভিসা প্রাপ্তির আশায় বিভিন্ন দালাল ও এজেন্টের মাধ্যমে পাসপোর্টগুলো জমা দিয়েছিলেন।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
জনগণকে বিদেশে গমন, চাকরি বা ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতারক চক্রের প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হয়ে যথাযথ সরকারি ও অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো যাচ্ছে ।

























